আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
117 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (61 points)
reshown by
১।আমাদের বিয়ের  ৫ বছরের উপরে  আমার বউ তার বিয়ের আগের প্রেমিকের সঙ্গে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করে আমার কাছে দুইতিন বার ধরা খাইসে।তাকে আমার সাথে জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিছে।  বিয়ের পরে একবার দেখা করছে বলছে সে শুধু বুকে হাত দিছে শারীরিক সম্পর্ক করেনি ।  তার মোবাইল ফোন হ্যাক করে রাখছি। তাকে হুমকি ধামকি দেই। আমি দেশে আছি তারপরও সে পরকিয়া করে। তাকে আমি সবসময় পাহারা দিয়ে রাখতে পারবো না। সে যেহেতু আমি দেশে থাকতেও পরকিয়া  করে। বিদেশে গেলে আমার গোনাহ হবে কি বা আমি দাইয়ূস হবো কিনা?

২।আমি যদি দেশে থাকি সহরে চাকরি করতে হবে কারন ব্যবসায় লস খাইছি এখন আর টাকা দিবেনা বিদেশ না গেলে ভিন্ন করে দিতে পারে জিনিস পত্রের যে দাম দেশে চাকরি করে সংসার চালানো অনেক কষ্টকর আমি ইন্টার পর্যন্ত পরালেখা করছি । আর যদি চাকরি করি তাহলে বাহিরে থাকতে হবে সে সময় সে তার আগের প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলতে পারে।এখন আমি বিদেশে যেতে পারবো কিনা গেলে গুনাহ হবে কি না আমি দাইয়ূস হবো কিনা?

৩।আর যদি বাড়ির আসে পাশে থাকি তাহলেও সারাদিন বাহিরে কাজ করতে হবে সে সময় সে করতে পারে তাকে সবসময়  পাহারা  দেওয়া আমার সম্ভব না।এখন আমি বিদেশে যেতে পারবো কিনা গোনাহ হবে কিনা দাইয়ূস হবো কিনা?

৪।পরকিয়া কারী স্ত্রী নিয়ে সংসার করলে কি গোনাহ হবে?
৫।দেশে থাকলে আমারও যিনায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি  কারন আমাদের বাড়িতে বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অনেক বিদেশির বউ আছে তাদের সাথে পরকিয়া করতে মন চায়  ?

★স্ত্রী অনুমতি দিছে বিদেশ যেতে গেলে তো আর গোনাহ হচ্ছে না । বিয়ের আগেই যেহেতু সম্পর্ক ছিলো তাকে জোর করে বিয়ে দিছে  আমি দেশে থাকলেও কি বিদেশে গেলে কি সুযোগ পেলেই কথা বলবে। আমার মনে হয় বিদেশে গেলে ইনকাম করতে সুবিধা হবে।  মোবাইল ফোন হ্যাক করে রাখছি সে জানে হ্যাক করার কথা। তাকে হুমকি দামকি দেওয়া হইছে তার পরিবারকে জানাইছি তারপরও সে কথা বলছে।যেহেতু হ্যাক করা আছে আগেও রাগারাগি করছি আমারও দেশে থাকলে গোনাহে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী   বিদেশে গেলে সে  গোনাহে জড়িয়ে গেলে আমার গোনাহ হবে কি?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
জুমহুর উলামায়ে কেরাম বলেন,প্রতি চার মাসে একবার স্বামীর উপর স্ত্রীকে সহবাস করা ওয়াজিব।(যখন স্ত্রী তা চাইবে)
সে সম্পর্কে ইবনে আবেদীন শামী রাহ, লিখেন..
স্বামী-স্ত্রীর হক সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সহবাস, সুতরাং স্ত্রীর সাথে স্বামী কতদিন পর্যন্ত সহবাস না করে থাকতে পারবে সে বিষয়ে আলোকপাত করে বলেনঃ
وَيَجِبُ أَنْ لَا يَبْلُغَ بِهِ مُدَّةَ الْإِيلَاءِ إلَّا بِرِضَاهَا وَطِيبِ نَفْسِهَا بِهِ. اهـ
স্ত্রীর সন্তুষ্টি ব্যতীত স্বামী মুদ্দতে ই'লা তথা চার মাস এর বেশী সময় সহবাস ব্যতীত থাকতে পারবে না।অন্যকথায় চার মাসের ভিতরে স্ত্রীর সাথে একবার সহবাস করা স্বামীর উপর ওয়াজিব।তবে স্ত্রী সহবাস ব্যতীত সন্তুষ্ট থাকলে ভিন্ন কথা অর্থাৎ যতদিন ইচ্ছা সহবাস ব্যতীত স্বামী থাকতে পারবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/990


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
 স্ত্রী গোনাহে লিপ্ত হতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে ৪ মাসের অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকা কখনো জায়েয হবে না। হ্যা, স্ত্রী অভয় দিলে, বা স্ত্রীর অনুমতি থাকলে ৪ মাস বা এর অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকা যাবে। স্বামী বিদেশে থাকুক বা দেশে স্ত্রী পরক্রিয়াতে লিপ্ত হলে গোনাহ শুধুমাত্র স্ত্রীরই হবে।

বিঃদ্রঃ
যেই স্ত্রী সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা আপনার জন্য কষ্টকর, সেই স্ত্রীর পাশাপাশি কাছাকাছি অবস্থান করাই আপনার উচিত এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। 

মোটকথা, 
স্ত্রী যে কোনো অবস্থায় ই পরক্রিয়া করুক, এর গোনাহ একমাত্র স্ত্রীরই হবে। স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত বা অসন্তুষ্টিতে স্বামী বিদেশে পাড়ি জমালে এর গোনাহ স্বামীর হবে। 

আপনার উল্লেখিত সবগুলো শাখাযুক্ত প্রশ্ন উপরে বর্ণিত মূলনীতিতেই গাথা রয়েছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...