আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
36 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (26 points)
আসসালামু আলাইকুম,

প্রশ্নটি বড় হওয়ার কারণে দুঃখিত, আল্লাহ আপনাদেরকে এর জন্য উত্তম বদলা দিক, দয়া করে প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইল।


১/ আমি ছোট থাকতে গোছল কি কি কারণে ফরজ হয় জানতাম না এবং শয়তানের ধোঁকায় পড়ে হস্তমৈথূন করতাম। এজন্য আমার অনেক নামাজ কাযা। এখন যদি আমি কাযা নামাজ তুলি দেখা যায় এক মাসে আবার আমার মাসিকও থাকে যখনের নামাজ মাফ। তো আমি এক মাসে ২৫ দিন ধরেছি যার দরুন এক বছরে ১৫০০ ওয়াক্ত নামাজ হয়। এখন প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে হতে পারে আমার মাসিক কখনও ৭ বা ১০ দিনও থেকেছে সে হিসাবে নামাজ ১৫০০ থেকে কম হতেও পারে কিন্তু আমি যেহেতু শিউর না তাই মাসিকের মিনিমাম একটা সময় ৫ দিন ধরেছি। এক্ষেত্রে যদি আমি ১৫০০ ওয়াক্ত পড়ি তাহলে তো গুনাহ হবে না তাইনা?
২/ আমি যখন ছোট ছিলাম এবং হস্তমৈথূন করতাম তখন আমার সহবাস সম্বন্ধে কোন ধারণাও ছিলো না বরং শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আমি এমন করতাম অস্থায়ী শান্তির জন্য। এতটুকু বুঝতাম যে গুনাহ হচ্ছে তো পাশাপাশি আমি অনেক আমলও করতাম, ইশরাক, তাহাজ্জুদ পড়া, মাগরিবের পর আমলের সূরাগুলো পড়া ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে গোছল ফরজ হওয়া সত্বেও তো ইলম না থাকার কারণে জানতাম না, তো এ অবস্থায় আমার এক্সট্রা আমলগুলোর সওয়াব কি আমার আমলনামায় থাকবে নাকি না?


৩/ বুঝ হওয়ার পর আমি অসংখ্য বার তওবা করেছি এবং এখন এই হিসাব করে নামাজগুলো তোলার নিয়ত করেছি এবং চেষ্টা করবো, এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি যে এই আমলগুলো না তুলা পর্যন্ত যেনো আল্লাহ আমার মৃত্যু না দেন। কিন্তু তাও অলমোস্ট প্রতিদিন অনেক হতাশায় থাকি আগের কথা ভেবে, ভাবি আমার ছোট ভাইবোন গুলো কতো ভালো আমার মতো গুনাহ তাদের নাই, আব্বু আম্মু কতো দীনদার এবং আমার স্বামী কতো দীনদার। আর নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনেহয়। মনেহয় সবাই জান্নাতে যেতে পারলেও আমার উপর আল্লাহ নারাজ আমার কোন গ্যারান্টি নাই। আল্লাহ না করুক আমার এই কাযা নামাজ রোজা তুলার আগেই যদি আমি মারা যাই তাহলে কি আল্লাহ আমার উপর নারাজ থাকবেন? আমি যথাযথ চেষ্টা তো করতেছি, এ হিসাবে মাফ পাওয়ার কোন চান্স থাকবে কি?


৪/ এখন আমি আল্লাহর রহমতে গর্ভবতী, এ অবস্থায় সবাই হাসিখুশি থাকার কথা বলে, মানসিক চিন্তায় থাকলে আল্লাহ না করুক বাচ্চার উপর প্রভাব পড়তে পারে। অথচ আমি অলমোস্ট প্রতিদিনই হতাশায় পরে কান্নাকাটি করি, আমি কি প্রতিদিন ইস্তেগফার পড়ে, নামাজ গুলি তোলার যথাযথ চেষ্টা করার পর হাসিখুশি বা রিল্যাক্সড থাকতে পারবো?


৫/ গর্ভকালীন অবস্থায় আমি কবিরা গুনাহ করেছি এটাই শেষবার এবং তওবা করে ফেলবো এই হিসাবে। এখন কি আমার তওবা কবুল হবে যেহেতু আমি জেনেবুঝে গুনাহ করেছি এবং পরে তওবার নিয়ত করে গুনাহ করেছি? যদিও ওটাই শেষ ছিলো।


৬/ অনেক অনুশোচনায় থেকে তওবা করেছি এবং প্রায় প্রতিদিনই এটা দোয়া করি যে আমার বাচ্চার উপরে যেনো আমার কবিরা গুনাহের কোন প্রভাব না পড়ে তাও কি আল্লাহ না করুক প্রভাব পড়বে? এরজন্য আমি যে আমল করা প্রয়োজন করবো তাও যেনো বাচ্চার উপর প্রভাব না পড়ে। খালেস অন্তরে তওবাও করতেছি তাও যেহেতু জেনেবুঝে গুনাহ করেছি এবং পরে তওবার নিয়ত করে গুনাহ করেছি, তওবা কি কবুল হবে?


আমার এতবড় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম বদলা দিক, আমার জন্য দোয়ার দরখাস্ত আল্লাহ যেনো আমাকে মাফ করে দেন আর আমার আমল কবুল করেন।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
উমুরী কা’যার নামায সম্পর্কে  বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/968

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
ليس للقضاء وقت معين بل جميع أوقات العمر وقت له
কা'যা নামায পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওয়াক্ত নেই।বরং জীবনের সকল মূহুর্তই কা'যা নামাযের ওয়াক্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১২১)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি গভীরভাবে চিন্তা গবেষণা করে দেখবেন যে, বালেগা হওয়ার পর থেকে আপনার সর্বমোট কতগুলো  নামায কাযা হয়েছে? অনুমানের উপর ভিত্তি করে সবগুলো নামাযের কাযা করে নিবেন।

(২) বীর্য বের হলে গোসল ফরয হয়। যদি হস্তমৈথুনের কারণে বীর্য বের হয়, তাহলে তো গোসল ফরয। ফরয গোসল না করে যদি ঐ সমস্ত ইবাদত করা হয়ে থাকে,যার জন্য পবিত্রতা শর্ত। তাহলে এমন ইবাদতের সওয়াব হবে না।

(৩) কাযা নামায রোযা সমাপ্ত করার আগে মারা গেলে আল্লাহ মাফ করবেন কি না? তা আল্লাহই ভালো জানেন। এমনকি কাযা আদায় করার পরও মাফ পাওয়া নিশ্চিত নয়।

(৪) হ্যা, আপনি প্রতিদিন ইস্তেগফার পড়ে, নামাজগুলো তোলার যথাযথ চেষ্টা করবেন। এবং হাসিখুশি বা রিল্যাক্সড থাকবেন।

(৫) তাওবাহ করলে আল্লাহ সকল প্রকার গেনাহকেই ক্ষমা করে দেন।

(৬) বান্দার কাজই হচ্ছে তাওবাহ করা। কবুল হবে কি না? সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...