আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাই।
প্রৎমত,কিছু বিষয় জানাতে চাই,আমি ডিভোর্সী।২০২৩ সালের ৮ মার্চ আমার বিয়ে হয়েছিলো।উনারা মিথ্যা বলে অনেক প্রতাড়ণা করে বিয়ে করায়,এবং পরে আমার ওপর মানসিক অত্যাচার করার কারণে আমার পরিবার থেকে ২০২৩ এর ২৬ জুন খোলা তালাকের মাধ্যমে আমাকে ছাড়ায়ে নেয়।মুলত এর পর থেকেই ক্রমাণত আমার দ্বিন ও দুনিয়াবি অবস্থার অবনতি হতে থাকে।আমি বিয়ের আগে থেকেই খুব গুরুত্বসহকারে পাঁচ ওয়াক্ত আদায়,ও পর্দা করতাম।কিন্তু,আমার প্রায়ই সালাত ছুটে যায়।অলসতাবসত বা কখনো দুর্বলতা বশত।মাঝেমাঝে পর্দাও ছুটে যায় কিনৃতু এখন আমি কেমন উদাসীন হয়ে গিয়েছি যে,আমার ভেতর অনুতাপবোধ কাজ করে না।আমি আগে খুব সহজেই ছোট ছোট বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারতাম আল্লাহর তৌফিকে।তবে এখন কেন যেন পারিনা।অনেক চেষ্টা করেও তিন বছরে নিজেকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারছি না।আমার সারারাত ঘুম হয় না।উদ্বিগ্নতা কাজ করে।নিজেকে যতক্ষণ পারি ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি,কিন্তু অবসর নিলেই আমি গভীর চিন্তায় হারিয়ে যায়।খুব কষ্ট পায়,নিজেকে বারবার বুঝায়েও অতীতের মানুষদের মন থেকে ক্ষমা করে দিতে পারি না।বারবার মনে হয়।
যাহোক,আমি কিছুদিন যাবৎ স্বপ্নে সাপ এবং হনুমান দেখছি।উল্লেখ্য,এই দুইটা প্রাণীকেই আমি খুব ভয় পাই।
প্রথমদিন,দেখি আমি কোথাও যাচ্ছি তিনটা হনুমান আমার পিছু নিচ্ছে এর মধে্য দুইটা আমাকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে,আর একটা ঐ দুইটাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।তারমধ্যে একটা হনুমান আমাকে হাতে আচড় দিশে রক্ত বের করে দিচ্ছিল স্বপ্নে দেখি।কিন্তু,ঘুম থেকে উঠে আমার হাতে কোনো দাগ পাইনি।
এর কিছুদিন পরে একদিন স্বপ্নে দেখি আমাদের বাড়ির উঠানে এককোণে তিনটা সাদা সাপ মরা অবস্থায় পলিথিণে মুড়ানো।

তারপর অনেকদিন পর, আবার কিছুদিন আগে স্বপ্নে আরও একটা সাদা সাপ দেখি আমাদের বাড়ির বাহিরে রাস্তার পাশে।
আমি খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ অবস্থায় আছি আমি আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাই।আমার প্রায়ই বাম হাতের বাহু থেকে কব্জি পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রণা করে।তবে অলিভ অয়েল তেল পড়ায়ে মালিশ করতাম তখন কমে যেত।তেল ফুরিয়ে যাওয়ার পর অলসতা বশত আর করা হয়নি।
আমার কোন বাজে বন্ধু বান্ধব নাই,ছেলেদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলিনা,কোনো ফাহেশা জিনিসও দেখিনা।এরপরও মাথার মধ্যে প্রায়ই ফাহেশা চিন্তা ঘুরাঘুরি করে। খারাপ চাহিদা বৃদ্ধি পায়।আমি নিয়মিত দরুদ ইস্তিগফার পরার চেষ্টা করে যাচ্ছি।তবুও,স্থায়ীভাবে নিজের মধ্যে প্রশান্তি আনতে পারছি না।আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানানোর পাশাপাশি, নিজের অবস্থার উন্নতি করার জন্য কিছু উপদেশ, পরামর্শ নসিহত করুন।

1 Answer

0 votes
by (765,510 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।

তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
 ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 
,

হাদীস শরীফে এসেছে  

خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ الرُّؤْيَا مِنْ اللهِ وَالْحُلْمُ مِنْ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأٰى أَحَدُكُمْ شَيْئًا يَكْرَهُه“فَلْيَنْفِثْ حِينَ يَسْتَيْقِظُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيَتَعَوَّذْ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّه“وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَإِنْ كُنْتُ لأَرَى الرُّؤْيَا أَثْقَلَ عَلَيَّ مِنَ الْجَبَلِ فَمَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ هٰذَا الْحَدِيثَ فَمَا أُبَالِيهَا.

আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। 

আবূ সালামাহ বলেনঃ আমি যখন এমন স্বপ্ন দেখি যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়ে ভারি মনে হয়, তখন এ হাদীস শোনার ফলে আমি তার কোন পরোয়াই করি না। [বুখারী ৫৭৪৭ মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬১, আহমাদ ২২৭০৭] 

https://ifatwa.info/30990/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ  

ইবনে সিরিন রহঃ বলেন,

فإن رأى حية تمشي خلفه فإنّ عدوه يريد أن يمكر به فإن مشت بين يديه أو دارت حوله فإنّهم أعداء يخالطونه

যদি কেউ স্বপ্নে সাপ দেখে যে,তার পিছু পিছু ছুটছে,তাহলে এর অর্থ হল,ঐ ব্যক্তির শত্রুরা তার সাথে শত্রুতা করা জন্য চেষ্টা করতেছে।আর যদি কেউ দেখে যে তার হাতের সামনে বা তার আশপাশে সাপ ঘুর ঘুর করতেছে,তাহলে এর অর্থ হলো,ঐ ব্যক্তির শুত্রুরা তার পাশেই রয়েছে ঘনিষ্টজনদের মধ্যে। (তাফসিরুল আহলাম-ইবনে সিরান-২/৪)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন،
আপনি স্বপ্নে সাপ ও হনুমান দেখেছেন,এর অর্থ হলো,আপনার ঘনিষ্টজনদের মধ্য থেকে কেউ আপনার সাথে শত্রুতার চেষ্টা করতেছে।যেহেতু সাপ আপনাকে কামড় দিয়ে দিতে পারেনি, তাই শত্রুরা আপনার ক্ষতি করতে পারবেনা,ইনশাআল্লাহ। 

তবে আপনার প্রতি নসিহা হল,আপনি ফরয ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বসহকারে পালন করবেন।সামর্থ্যানুযায়ী গরীব-মিসকিনকে কিছু দান করবেন।

আর নিম্নোক্ত দুআ পড়বেন।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম,ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরুরিহিম।

★নিজের মধ্যে প্রশান্তি আনার জন্য নিম্নোক্ত আমল গুলি করার পরামর্শ থাকবেঃ-

ইহ-পরকালীন সকল বিষয়ে ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার হুকুম প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اسْتَعِينُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ، 
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৩)। 

অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ)-কে আদেশ করেন, ‘জেনে রেখো অবশ্যই সাহায্য ধৈর্যের সাথে রয়েছে’।

ইসতিক্বামাত তথা দ্বীনের উপর অটল থাকার ব্যাপারে ধৈর্য বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ছাহাবায়ে কেরাম যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে দ্বীনের উপর অটল থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন, তার বড় কারণ ছিল ধৈর্য।

মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ، 

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর। পরস্পরে দৃঢ় থাক এবং সদা প্রস্ত্তত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/২০০)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি ধৈর্যধারণ করবেন,যাহা চাওয়ার তাহা নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে চাইবেন,ভালো ফলাফলের চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করবেন,নিয়মিত নামাজ শরীয়তের বিধান মেনে চলবেন, 
হতাশ হবেননা।
ধৈর্যধারণ করবেন,ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনার পদচুম্বন করবে।

মাহরাম কোনো পুরুষের সাথে মাঝে মাঝে মাস্তুরাত জামাতে যেতে পারেন।

নিম্নোক্ত দোয়া করতে পারেনঃ-
ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, হাসান বাছরী (রহঃ) দো‘আ করতেন,
 اللهم أنت ربنا، فارزقنا الاستقامة
 ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রব। তুমি আমাদেরকে তোমার অটল থাকার তাওফীক দাও’।
(ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা হা-মীম সাজদা ৩০ আয়াত।)
,
★আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে বলেন, তুমি বল,
اللَّهُمَّ اهْدِنِىْ وَسَدِّدْنِىْ  

‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুপথ প্রদর্শন কর এবং আমাকে সরল পথে পরিচালিত কর। আর তুমি সুপথের সংকল্প কর এবং সঠিক পথে স্থির থাক, যেভাবে তীর তার লক্ষ্যে স্থির থাকে।
(মুসলিম হা/২৭২৫; মিশকাত হা/২৪৮৫।)

আপনার মন অশান্তিতে আছে।এ জন্য আপনি নিয়মিত ধারাবাহিক আল্লাহর যিকির করতে থাকুন-দেখবেন মন শান্ত হবে।
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।(সূরা রা'দ-২৮)

★মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তির জন্য দ্বীনদার কোনো পাত্রের সাথে বিবাহের পরামর্শ থাকবে।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...