আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
22 views
ago in পবিত্রতা (Purity) by (3 points)
edited ago by
হুজুর দয়া করে উত্তর গুলো দেন প্লিজ।আমি মাত্র ৮ম শ্রেণিতে পড়ি, কেওকে লজ্জায় বলতেও পারি না।বললে আমার যে অনেক উপকার হতো।আমি একজন ছেলে।আমি হানাফী মাযহাব অনুসরণ করি। লজ্জাতে কাওকে বলতে পারি না এইসব।তাই দয়া করে উত্তর দিলে উপকার হতো-

১.ফরয গোসলের সুন্নাত নিয়ম টা কি?ধাপে ধাপে বললে বেশি ভালো হত।
২.ছেলেদের মাথার চুলের গোড়ায় পানি পৌছানো কি ফরয? আর এর নিয়মটাও বলবেন যে কিভাবে ছেলেদের মাথার চুলের গোড়াতে পানি দিবো,আমি তো আসলে বেশি জানি না?এই চুলের গোড়াতে পানি দেওয়া তো কষ্টকর। সুন্নাত নিয়ম টা বলিয়েন।কিভাবে
৩.কান,নাভি,চোখের ভ্রুতে কিভাবে পানি পৌছাবো?আলাদা করে বলিয়েন যেমন -কান-..........

চোখের ভ্রু-................
৪.দাড়ি বড় হলেও কি পানি গোড়াতে দেওয়া লাগবে?আর ছোট হলেও কি গোড়াতে দেওয়া লাগবে?আলাদা করে বলিয়েন।
৫.শরীরের লোম বড় হলে কিভাবে পানি দেব?
৬.নাকের নরম অংশ কোনটা জানি না তো?বলবেন
৭.ডানে ৩ বার বামে ৩৷ বার পানি কিভাবে দিবো দেহে।বালতি থেকে মগে করে কিভাবে দিবো?পুরো নিয়ম টা বলবেন।বাম হাতে করে মগে পানি নিয়ে পরে ডানে দিবো নাকি কি করবো?মানে ডানে বামে কিভবে সুন্নাহ মোতাবেক পানি দিবো ফরয গোসলে?এইটা একটু ব্যাখ্যা করে বলিয়েন যে বালতি থেকে কিভাবে এই টা করবো সুন্নাহ মোতাবেক, নিয়ম সহ
৮.অন্ডকোষ এ একটু পানি লাগ্লেই কেমন ছোট হয়ে বেশি ভাজ পরে যায়।তো কিভাবে পানি চামড়া র গোড়া তে দিবো? নিয়ম

৯.হাত পা এর নখের ভিতরে পানি দেওয়ার নিয়ম কি?

১০.হুজুর ফরয গোসলে  কুলি করবো কি  এক হাতে পানি নিয়ে নাকি পুরো দুই হাতে পানি নিয়ে, সুন্নাত নিয়ম কোনটা?কারণ এক হাতে নিলে কম পানি হয় আর মুখ এর ভিতরেও মনে হয় পুরো ভিজে না, আবার দুই হাতে নিলে বেশি হয় মনে হয় অপচয় হবে??ফতোয়া টা কি হবে শুধু ফরজ গোসলে?আপনার কোনটা করেন?

১১.নিয়ত কি মুখে বলা লাগবে নাকি মনে মনে ভাবলেই হবে।যে

'আমি পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্য গোসল করার নিয়ত করলাম'৷ এটা হবে নাকি ফরয উল্লেখ করতে হবে" যে আমি পবিত্রতা অর্জন করার উদ্দেশ্যে ফরজ গোসল করার নিয়ত করলাম" -''মানে মোট কথা নিয়ত কি করবো?আর মুখে বলা লাগবে নাকি মনে মনে, ছওয়াব বেশি কোন্টাতে

১২.হুজুর আমি নিয়ম মোতাবেক প্রত্যেক   শুক্রবার দিন ফরয গোসলের মতো  করে গোসল করি তো এখানে কিভাবে নিয়ত হবে?১০ নং প্রশ্নের ১ম নিয়ত করবো নাকি ফরয গোসল  উল্লেখ করা লাগবে?

১৩.নাকের সব  লোমে কিভাবে  পানি পৌছাবো?

মাফ করবেন।আসলে সব সঠিক  না জানার কারণে জিজ্ঞেস করলাম কিছু মনে করিয়েন না শায়েখ।যদি ব্যাখ্যা করে সব বলতেন এই প্রশ্নের উত্তরগুলো  তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।
জাযাকাল্লাহ

1 Answer

0 votes
ago by (765,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এর গোসলের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।     

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِيَدِهِ، ثُمَّ دَلَكَ بِهَا الْحَائِطَ ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৬০২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮)
,
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৫৭,২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
ফরজ গোসলে কুলি, নাকে পানি দেওয়া,আর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দেয়া এই ৩ টি ফরজ।

★ফরজ গোসলের সুন্নাহ সম্মত নিয়ম:
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। ৭
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।
৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে ফেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।
৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

আরো জানুনঃ

(০২)
ছেলে মেয়ে সকলের জন্যই ফরজ গোসলে মাথার চুলের গোড়ায় পানি পৌছানো আবশ্যক। 

মাথায় একাধিকবার ভালোভাবে পানি ঢেলে হাতের আঙ্গুল দিয়ে খিলাল করলেও চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যাবে।

৩.
আঙ্গুল ভিজিয়ে কানের মধ্যে ডলবেন। নাভির ভিতরে পানি দিয়ে হাত দ্বারা ভেতরে ডলবেন।

চোখের ভ্রুতে মাথায় পানি ঢাললে এমনিতেই চোখের ভ্রুতে পানি পৌঁছে যাবে।

৪.
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ

উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি খিলাল করতেন। -সহীহ। (তিরমিজি ৩১.ইবনু মাজাহ– (৪৩০)।

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ أَوْ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ أَتُخَلِّلُ لِحْيَتَكَ قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ .

আবদুল করীম ইবনু আবুল মুখারিক আবু উমাইয়া হতে হাসসান ইবনু বিলালের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-কে ওযু করার সময় দাড়ি খিলাল করতে দেখলাম। তাকে বলা হল, অথবা তিনি (হাসসান) বলেছেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি দাঁড়ি খিলাল করছেন? তিনি (আম্মার) বললেনঃ (এ কাজে) কে আমাকে বাধা দিবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাঁড়ি খিলাল করতে দেখেছি।

(সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৪২৯) তিরমিজি ২৯)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
ওযুতে দাড়ি ধৌত করা লাগবে। দাড়ি বেশ ঘন হলে দাড়ির নিচে পানি পৌছানো জরুরী নয়। আর পাতলা দাড়ি হলে দাড়ির নিচে পানি পৌছাতে হবে।


৫.এক্ষেত্রে অবাঞ্চিত লোম কেটে নিবেন।
শরীরে পানি ঢেলে ভালোভাবে কচলিয়ে ধৌত করলে লোমগুলো তো এমনিতেই পানি পৌঁছে  যাবে।

৬.নাকের নরম অংশ বলতে নাকের ভিতর আঙ্গুল প্রবেশ করালে যেই হাড্ডি পাওয়া যাওয়া,এটার পরেই  নাকের নরম অংশ। 


(০৭)
এক নং জবাব দ্রষ্টব্য। 

(০৮)
ভালোভাবে পানি ঢেলে ডলেমলে ধোয়া হলেই 

(০৯)
রাসুলের সুন্নাত মোতাবেক নখ কাটা হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে প্রশ্নে উল্লেখিত পানি এমনিতেই পৌঁছে যাবে।

১০.
হাতে পানি নিবেন।
তবে পানি যেনো অপচয় না হয়।

মনে মনে ভাবলেই হবে।

(১১)
প্রশ্নে উল্লেখিত যেকোনো একটি নিয়ত করলেই হবে।

(১২)
আমি পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করছি।

শুধু গোসল করছি,মনের মধ্যে এ সংকল্প থাকলেই হবে।

১৩.
আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি দিলে পানি পৌঁছে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 113 views
0 votes
1 answer 309 views
...