আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
36 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (2 points)
কোন ব্যাক্তির একজন কর্মচারী আছে যাকে তিনি মাসিক ভিত্তিতে বেতন দিয়ে থাকেন। একদিন তিনি তাকে আগামী কয়েকমাসের জন্য তার পূর্বনির্ধারিত কাজের তুলনায় বেশি কাজ করতে বললেন।এবং তাকে এও বললেন যে প্রয়োজনে তিনি বেতন কিছু বাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেননি যে বাড়াবেন। অর্থাৎ সম্ভাবনা অর্থে যে বাড়াতে পারেন।
পরের মাসে বেতন দেওয়ার সময় তিনি বেতন বাড়ালেন ঠিকই কিন্তু বাড়তি টাকাটা তিনি যাকাতের নিয়তে দিলেন এবং কর্মচারীকেও বলে দিলেন যে আমি যাকাতের টাকা থেকে বাড়তি টাকা দিয়েছি।

এর দ্বারা ওনার উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণত বেতন বাড়ানোর পর কাজ কমানো হলেও অনেকে কম টাকা নিতে রাজি হন না। এজন্য উনি বাড়তি টাকা যাকাতের নিয়তে দিলেন যেন পরবর্তীতে কাজ কমে গেলে ওই টাকাটা এই বলে কম করা যায় যে এখন আর যাকাত দিচ্ছি না।।

এরকম করা কি শরীয়তসম্মত হবে??

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ- 
بسم الله الرحمن الرحيم 
 
https://ifatwa.info/3492/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যাকাত আদায়ের খাত সর্বমোট ৮ টি।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ [٩:٦٠]

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। {সূরা তাওবা-৬০}

মোট ৮ ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত ও ফিতরা দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত। যথা-

১- গরীব। যার সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়।

২- মিসকিন। যার একদমই কোন সম্পদ নেই।

৩- ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী আমেল। এটা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা নিযুক্ত হতে হবে। নিজে নিজে মনে করে নিলে হবে না। {জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-৬/৬৯}

৪- নব মুসলিমদের ইসলামের প্রতি মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য উৎসাহমূলক যাকাত প্রদান।

এ বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে কোন ধনী নওমুসলিমকে যাকাত প্রদান জায়েজ নয়। {হিদায়া-১/১৮৪, মাআরিফুল কুরআন-৪/১৭১, তাফসীরে মাযহারী-৪/২৩৫}

৫- দাসমুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাসপ্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই।

৬- ঋণগ্রস্তের জন্য।

৭- ফী সাবিলিল্লাহ। তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এখন প্রশ্ন হল আল্লাহর রাস্তায় কারা আছে? ফুক্বাহায়ে কেরাম বলেন এতে রয়েছেন-

জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহণ করবে। হজ্বের সফরে থাকা দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জনকারী দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। {আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫, রূহুল মাআনী-৬/৩১৩}

৮- সফর রত ব্যক্তিকে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে। কোন সফর অবস্থায় অসহায়। তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ।
,
★★শরীয়তের বিধান হলো ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন হিসেবে যাকাতের টাকা দেওয়া জায়েয নেই।
হ্যাঁ যদি কোনো ইমাম বা মুয়াজ্জিন গরিব হয়,যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত হয়,তাহলে আর্থিক সহযোগিতা স্বরুপ তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৭/১১৬)

★হ্যাঁ যদি ইমামের বেতন আলাদা ফান্ড থেকে প্রয়োজন মোতাবেক দেওয়া হয়,এবং ইমাম যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়,তাহলে কখনো কখনো যাকাতের টাকা দিয়ে ইমাম কে সহযোগিতা করা যাবে।
তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে যাকাতের টাকা যেনো কোনোভাবেই বেতনের অংশ হিসেবে না দেওয়া হয়।
(ফাতাওয়ায়ে  উসমানী ২/১৮৩)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে কাজ বাড়িয়ে দিয়ে যাকাতের টাকা থেকে বাড়তি টাকা দেয়া যাকাত হতে বেতন দেয়ার নামান্তর।

বিধায় তাহা জায়েজ নেই,এতে উক্ত ব্যাক্তির যাকাত আদায় হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...