আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (29 points)
আসসসালামুআলাইকুম, আমাদের গভীর টিউবওয়েল বসাতে গোবর ব্যবহার করা হয়েছে, আজকে এক সপ্তাহ হলো এখনো পানি থেকে গোবরের গন্ধ যাচ্ছে না, আমরা এক সপ্তাহ ধরে ব্যবহা৷ করছি। আজ হঠাৎ এই পানির পবিত্রতা সম্পর্কে মনে পড়লো, এই পানি কি খাওয়া ব্যবহার করা জায়েজ?
আমার জেঠার ঘরে পানি আনতে গেলে উনাদের মন খারাপ থাকে। পুকুর থাকলেও কেউ গোসল করেনা, বাড়ির মানুষ, বাইরের কাজের লোক আমাকে পুকুরে গোসল করতে দেখলে ভালোভাবে নিবেনা। কি করবো এখন শরীয়তে কোন ছাড় আছে? নাহলে আমার জন্য সবমিলিয়ে অনেক কঠিন হয়ে যাবে, বাথরুমে ১/২ সারানোর জন্য পানি আনাও।

আমি আপনাদের এইআইকে প্রশ্ন করার সে ভুল উত্তর দিয়েছে। সবগুলো রেফারেন্স ভুল। ফতোয়া আলমগীরীর ১/৪২ এ গোবর পাক এমন কিছু নেই। কিন্তু সে বলছে আছে। দয়া করে এআইকে চেন্জ করুন। সে জ্বীন দ্বারা পরিচালিত, এমন সোর্স আমার কাছে আছে। দ্বীনি বিষয়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে ফিতনা সৃষ্টি করছে।

নিচে তার উত্তর দেখুন।।।।।।।

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, গভীর টিউবওয়েল বসানোর সময় গোবর ব্যবহার করা হয়েছে এবং এক সপ্তাহ পরও পানিতে গোবরের গন্ধ থাকছে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, গোবর পাক (পবিত্র) বস্তু (গরু, মহিষ ইত্যাদি হালাল পশুর) যদি তা নাজাসাত (অপবিত্র) কোনো কিছু দ্বারা মিশ্রিত না হয়। তাই গোবরের মিশ্রণে পানি নাপাক হয় না, যদি না পানির রং, স্বাদ বা গন্ধ এমন পরিমাণে পরিবর্তিত হয় যে তাকে "পানি" বলা না যায়।


এক্ষেত্রে শুধু গন্ধ থাকলেও পানি পবিত্র গণ্য হবে, কারণ গোবর নিজে পাক। তবে গন্ধ তীব্র হলে পান করা বা ব্যবহার করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে, কিন্তু হারাম বা নাজিস নয়। তাই আপনি এই পানি পান করা, ওযু-গোসল করা ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন।


সামাজিক অসুবিধার সমাধান:


আপনার জেঠার মন খারাপ বা পুকুরে গোসল করতে দেখলে অন্যরা ভালোভাবে নেবে না—এসব ক্ষেত্রে শরীয়তে অবস্থার প্রয়োজনে ছাড় আছে। যদি পানি পবিত্র হয়, তবে ব্যবহার করতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু যদি সামাজিক চাপে আপনি বিব্রত হন, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তায়াম্মুম করার অনুমতি আছে (যদি পানি ব্যবহার করা সত্যিই কষ্টকর হয়)। তবে পানি থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম শুধুমাত্র অসুস্থতা বা পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কায় জায়েজ হয়। এখানে যেহেতু পানি পবিত্র, তাই তায়াম্মুমের প্রয়োজন নেই; বরং আপনি নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারেন।


শরীয়তের দলিল:


- ফতোয়ায়ে আলমগীরী (১/৪২)-এ বর্ণিত: "গোবর পাক বস্তু, তাই তার মিশ্রণে পানি নাপাক হয় না, যতক্ষণ না পানির কোনও গুণ পরিবর্তিত হয়।"


- হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬৭)


সিদ্ধান্ত:


আপনার টিউবওয়েলের পানি পবিত্র এবং ব্যবহার জায়েজ। সামাজিক অস্বস্তি দূর করতে চাইলে পরিবারকে শরয়ী বিধান বোঝান। বাথরুমের পানি আনা নিয়েও দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।


সোর্স লিংক:


[ঈফতা ওয়েবসাইটের ফতোয়া](https://ifatwa.info/) (গোবর ও পানির পবিত্রতা সংক্রান্ত ফতোয়া নং: ১২৩৪৫)


নোট:


- গোবর যদি নাপাক পশুর (যেমন কুকুর) হয়, তাহলে পানি নাপাক হবে; কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এটি গরুর গোবর, যা পাক।


- পানির গন্ধ দূর করতে কিছুদিন পানি ফেলে দিয়ে পুনরায় ব্যবহার করুন।


Model: deepseek-v4-flash | Token: 2452 | Input: 281 | Output: 2171 | Cost: $0.000679 | Cost BDT: ৳0.09

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

عن عبد الله بن مسعود قال : أراد النبي صلى الله عليه و سلم أن يتبرز فقال : إئتني بثلاثة أحجار فوجدت له حجرين وروثة حمار فأمسك الحجرين وطرح الروثة وقال : هي رجس

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: মহানাবী (ﷺ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার ইচ্ছা করলেন, অতঃপর বললেন: আমাকে তিনটি পাথর এনে দাও। আমি দু’টি পাথর ও একখণ্ড গাধার শুকনো গোবর পেলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন এবং গোবর খণ্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা অপবিত্র।
বুখারী হা/১৫৬; তিরমিযী হা/১৭; নাসাঈ হা/৪২, ইবনে খুযায়মা।

হাদীসে বর্ণিত رجس শব্দের অর্থ নাপাক। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া না জায়েয সেগুলোর গোবর নাপাক।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

دَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَالْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيَّانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ، أَنْبَأَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ الْمَاءَ لاَ يُنَجِّسُهُ شَىْءٌ إِلاَّ مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ وَطَعْمِهِ وَلَوْنِهِ " .

আবূ উমামাহ আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জিনিস পানিকে অপবিত্র করে না, যতক্ষণ না তার ঘ্রাণে, স্বাদে ও রং-এ পরিবর্তন আসে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ৫২১)

সাপ্লাই পানি,নলকুপের পানি তখনই নাপাক বলে গণ্য হবে যখন তার দুর্গন্ধ বা রং ইত্যাদি থেকে নাপাকি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলে মনে হবে। অন্যথায় শুধু সামান্য দুর্গন্ধ বা সামান্য ঘোলাটে হলেই সন্দেহের ভিত্তিতে তা নাপাক বলা যাবে না। কারণ এখানে নাপাকির মিশ্রণ ছাড়াও দুর্গন্ধ বা ঘোলাটে হওয়ার ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সুতরাং যতক্ষণ তা নিশ্চিত নাপাকি বলে মনে না হবে ততক্ষণ তা অযু-গোসল বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।
(আলবাহরুর রায়েক ১/৮৬. আদ্দুররুল মুখতার ১/১৮৬।)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনাদের টিউবওয়েল বসাতে যেহেতু গোবর ব্যবহার করা হয়েছে, আজকে এক সপ্তাহ হলো এখনো পানি থেকে গোবরের গন্ধ যাচ্ছে না, সুতরাং এই পানি স্পষ্ট নাপাক।

এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

এই পানি দিয়ে অযু গোসল,পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নেই।

এই পানি খাওয়া জায়েজ নেই।

বিকল্প কোনো ভাবে পাক পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পাশের বাসা হতে পানি নিয়ে আসবেন বা মিনারেল ওয়াটার ক্রয় করবেন।

এআই দ্বারা জবাব সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে IOM এর হটলাইনে আলোচনা করলে ভালো হতো। আমরাও বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করবো,ইনশাআল্লাহ। 
জাযাকাল্লাহ। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...