আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (72 points)
১.মসজিদের ইমাম যিনি তাবিজ দেন। মাদ্রাসা থেকে পড়া। শারীরিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা হওয়া সত্ত্বেও সুস্থ না হবার কারণে উনাকে বাসায় আনা হয়। বড় মেয়ে বালেগা হবার কারণে তার সামনে যায়নি;তবে ছোট মেয়ে বালেগা না হওয়াতে সে গেছিল। হুজুর তার হাত দেখেছিল,তার মায়ের নাম এবং তার নাম জিজ্ঞেস করেছিল। পরে বলেছিল তাদের বাসার উপর দিয়ে জিনের চলাচল আছে। যেকারণে পরিধান করার জন্য তাবিজ দিয়েছিল এবং বাসার চার কোণে চার টা তাবিজ টাইপ কিছু ঝুলানোর জন্য দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বড় মেয়ে তাবিজ নষ্টের জন্য সেগুলো খুলেছিল।তখন সে লাল কলম দিয়ে দাগানো হিজিবিজি টাইপ কিছু পায়। কুরআনের কোনো আয়াত ছিল না সেখানে। পরবর্তীতে ফিরাউন আরবিতে লেখা বুঝতে পারে।

১.১। এমন ব্যক্তি যদি বিয়ে পড়ায়,তাহলে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

১.২। বিয়ের খুতবা ছেলে নিজে পড়েছে,হুজুর শুধুমাত্র অমুকের মেয়ে অমুকের ছেলে উল্লেখ করে বিয়ে পড়ায়, ইজাব এর কথাগুলো হুজুর পড়ে এবং মেয়ের মামা সেটা পুনরায় বলে। এবং কবুল এর কথাগুলো হুজুর পড়ে এবং ছেলে সেটা রিপিট করে।মাহরাম হিসেবে মেয়ের মামা ছিল। মসজিদে বিয়ে হয়েছিল। সাক্ষী হিসেবে মুসল্লিরা ছিল।নামাজের পর বিবাহ সম্পন্ন হয়।এই বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে?
কাগজে কলমে বিয়ে হয়েছে, মানে ছেলে মেয়ে স্বাক্ষর করে সরকারি নিয়মে বিয়ে হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন বলে সম্ভবত। এখন এই বিয়ে কি হয়েছে? না হলে কি নতুন করে বিবাহ করতে হবে?

২.সহবাসের পর মেয়ের লজ্জাস্থান থেকে সাদা তরল বাইরে নির্গত না হয়ে লজ্জাস্থানের মধ্যেই যদি থাকে,তবে ফরজ গোসল কি সম্পন্ন হবে?

২.১। লজ্জাস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে দানাদার সাদাস্রাব পায়,তবে সেটা বাইরে বের হয় না।ভিতরেই থাকে,পরিষ্কার করতে গেলে হাতে লাগে।এজন্য তখন গোসল না করে অপেক্ষা করে। পরবর্তীতে আবার পায়,তবে বাইরে বের হয়ে আসে না। এমতাবস্থায় ফরজ গোসল করলে কি গোসল সম্পন্ন হবে?

২.২। ফরজ গোসল করার পর যদি দেখা যায় লজ্জাস্থানের মধ্যে সাদা তরল আছে কিন্তু বাইরে আসে না,সেক্ষেত্রে কি পুনরায় গোসল করতে হবে?

৩. স্ত্রী যদি স্বামীকে কসম করে কিছু বলে, পরবর্তীতে স্ত্রী সে কসম রক্ষা করতে না পারলে, কাফফারা কি দিবে?

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://ifatwa.info/11771 নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-
বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَ اسۡتَشۡہِدُوۡا شَہِیۡدَیۡنِ مِنۡ رِّجَالِکُمۡ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُوۡنَا رَجُلَیۡنِ فَرَجُلٌ وَّ امۡرَاَتٰنِ مِمَّنۡ تَرۡضَوۡنَ مِنَ الشُّہَدَآءِ اَنۡ تَضِلَّ اِحۡدٰىہُمَا فَتُذَکِّرَ اِحۡدٰىہُمَا الۡاُخۡرٰی

আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ, অতঃপর যদি দু’জন পুরুষ না হয় তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর, যাতে স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুলে গেলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
(সুরা বাকারা ২৮২)

হাদিস শরিফে এসেছে, 

لَا يَجُوزُ نِكَاحٌ، وَلَا طَلَاقٌ، وَلَا ارْتِجَاعٌ إِلَّا بِشَاهِدَيْنِ

‘রাসূল (সা.) বলেছেন, দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, তালাক ও ফিরিয়ে আনা বৈধ হবে না।’ [মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস: ১০২৫৪]

قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557) 

রাসুলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)]
۔
ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত  পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা।
,

বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে পাওয়া গেলেই বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,    
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যাক্তি যদি উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে মেনে বিবাহ পড়ায়,সেক্ষেত্রে সেই বিবাহ শুদ্ধ হবে।

(০২)
এমতাবস্থায় ফরজ গোসল সম্পন্ন হবে।
তবে পরবর্তীতে সেই তরল বের হওয়ার পর উক্ত স্থান ধুয়ে অযু করে নিতে হবে।

২.১
এমতাবস্থায় ফরজ গোসল করলে গোসল সম্পন্ন হবে।

২.২
সেক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করতে হবেনা।
তবে পরবর্তীতে সেই তরল বের হলে উক্ত স্থান ধুয়ে অযু করে নিতে হবে।

(০৩)
আল্লাহর নামে ভবিষ্যতে কোন কাজ করা বা না করা বা ভবিষ্যতে কোনো কথা বলা বা না বলার কসম করে থাকলে,এমতাবস্থায় যদি সেই কসম যদি ভঙ্গ করা হয়, তাহলে কাফফারা আবশ্যক হবে।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...