আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
44 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তায,

পরিবারে আসলে স্বামীর কর্তৃত্ব বলতে ইসলামি শরিয়তে কী বুঝায় উস্তাদ?  বিশেষ করে স্ত্রীর ওপর।

আমি আমার স্বামীর অধীনে আছি বলে কী সে কর্তৃত্বের উসিলা দিয়ে যখন যা ইচ্ছা করতে...বলতে.. আঘাত করতে করার মতো কাজ করতে পারবে উস্তাদ?
আর স্ত্রীর কী অধিকার নেই স্বামীর ওপর রাগ দেখানোর?
সে জোরে কথা বলা পছন্দ করে না আর আমি রাগী পুরুষ মানুষ পছন্দ করিনা কারণ আমি ছোটবেলায় কম বয়সে বাবা হারিয়েছি আর বাবা হারানোর পর নানী -দাদাী বাড়ির লোক আমাদের কে ত্যাগ করে রেখেছিল। আমার বাবা কোনোদিন চোখ গরম করে আমার সাথে কথা বলিনি.. আমার ভাইও না।

লাস্ট কয়েকদিন আমার অপছন্দের কাজ একটানা করেছিলো বলে একটা দিন আমি এটেনশন পাওয়ার জন্য একটু জোরে বলে ফেলেছিলাম " আপনাকে এসে দাঁড়াতে বলেছি না আমার সামনে? " যেটা ইন্টেনশনালি ছিলো না।
এতে সে দুইদিন ভুল বুঝে আমাকে ইগনোর করেছে।

সে দেশের বাইরে থাকে.. আমি এতো তাকে বলি যে একটু আমার দিকে তাকিয়ে দুই মিনিট কথা বলেন...ফোন কম ইউজ করেন..আমল করেন বেশি বেশি সে একদমই আমার কথা শুনেনা।
একাধারে আমার অপছন্দের কাজ যে করছে এটা কী শরিয়ত নির্দেষ দেয়?

ইভেন সে পরিবারের কোনো উদ্যােগে বা টাকা পয়সার ব্যাপারে আমার সাথে কোনো ডিসকাশন করতে চাইনা যেখানে সে নিজেও এখনো সেরকম ম্যাচিউরড না।
আমি এতে নারাজ হলে উল্টো বলে  সংসারে পুরুষ মানুষের সিদ্ধান্তই সব...মেয়ে মানুষকে সংসারের বিষয়ে শরিয়ত নাকি  অধিকার দেয়নি ডিসিশন দেওয়ার।

এদিকে আমি তার মনের মতো হওয়ার জন্য লড়াই করতেছি রীতিমত।
সে নিজে যা পছন্দ করে সেইম সে কাজ গুলো আমার সাথে করে। সে এমনিতে অনেক ভালো মানুষ উস্তাদ...বাট আমার দ্বারা একটু ফল্ট হলে বিগড়ে যায় কিন্তু তার ভুল হলে আমি কিছু বলতে বা রাগ দেখাতে পারিনা।

আমাদের ছোট ছোট ব্যাপারে এমন বাজে পরিস্থিতি আসে.. আমার স্বামীকে আমি এতো বুঝায় যে ধরে রাখবেন না এসব ব্যাপার...যত দ্রুত সম্ভব সলভ করে ফেলতে কিন্তু সে সবসময় এমন আচরণ করে যেনো তাকে আমি অনেক বড় আঘাত দিয়ে ফেলেছি এমনকি যদি সে নিজেও তাতে দোষী হয়।

এই ব্যাপারে যদি একটু আমাদের জন্য যথাযথ মাসায়েল দিতেন উস্তাদ খুব ভালো হতো...
ছোট ব্যাপার নিয়ে অশান্তি আর আমাদের দূরত্বের কারণে সম্পর্ক বিষাদ হয়ে যাচ্ছে...

1 Answer

0 votes
by (769,830 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ   

اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰہُ بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّ بِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلۡغَیۡبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰہُ ؕ وَ الّٰتِیۡ تَخَافُوۡنَ نُشُوۡزَہُنَّ فَعِظُوۡہُنَّ وَ اہۡجُرُوۡہُنَّ فِی الۡمَضَاجِعِ وَ اضۡرِبُوۡہُنَّ ۚ فَاِنۡ اَطَعۡنَکُمۡ فَلَا تَبۡغُوۡا عَلَیۡہِنَّ سَبِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیًّا کَبِیۡرًا ﴿۳۴﴾

পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক, ঐ (বিশেষত্বের) কারণে, যার দ্বারা আল্লাহ তাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং ঐ সম্পদের কারণে, যা তারা ব্যয় করেছে। সুতরাং সৎ নারীরা হল অনুগত, (স্বামীর) অবর্তমানে (নিজের সতিত্ব ও স্বামীর সম্পদ) রক্ষাকারী, আল্লাহ রক্ষা করার কারণে ... -সূরা নিসা : ৩৪

এই আয়াতে ‘পুরুষের ব্যয়কৃত সম্পদ’ মানে স্ত্রীর মোহরানা, খোরপোষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ, কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী যা বহন করা অবশ্যকর্তব্য। এ আয়াত প্রমাণ করে, স্ত্রীর নাফাকা ও খোরপোষ স্বামীর উপর ফরয। -তাফসীর ইবনে কাছীর ১/৪৯২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

স্বামীর ওপর স্ত্রীর হকসমূহ

১. স্ত্রীর সাথে সর্বদা ভালো আচরণ করা।

২. স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্য্য ধারণ করা।

৩. উচ্ছৃঙ্খল, বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো।

৪. সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা। কথায় কথায় ধমক না দেওয়া। রাগ না করা।

৫. স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এমন বিষয়ে সংযত থাকা। শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা না করা। স্ত্রীর সম্পর্কে উদাসীন না থাকা।

৬. সামর্থ্যানুযায়ী স্ত্রীর খোরপোষ দেওয়া। অপচয় না করা।

৭. নামায পড়া এবং দ্বীনের আহকাম মেনে চলার জন্য উৎসাহ দিতে থাকা। হায়েয-নেফাসের মাসআলাগুলো ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়া। শরীয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

৮. একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা।

৯. চাহিদানুযায়ী তাদের সাথে মেলামেশা করা।

১০. অনুমতি ব্যতীত আযল অর্থাৎ মেলামেশার সময় শেষ মুহূর্তে স্বাভাবিক স্থান ত্যাগ না করা।

১১. একান্ত নিরুপায় না হলে তালাক না দেওয়া এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শরীয়ত-গৃহীত পন্থায় তালাক দেওয়া।

১২. প্রয়োজন মাফিক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

১৩. মাঝে মাঝে স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেওয়া।

https://www.ifatwa.info/93970/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে,
স্বামীর উপর ওয়াজিব যে,সে তার স্ত্রীর ভরণপোষণ করবে।
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।(সূরা নিসা-৩৪)

لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا
বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিযিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে।(সূরা তালাক-৭)

হাকীম ইবনু মু‘আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত।
وعَنْ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : " قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ ؟ قَالَ : ( أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ ، وَلَا تَضْرِبْ الْوَجْهَ ، وَلَا تُقَبِّحْ ، وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ) 
 তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে।(আবু দাউদ-২১৪২,ইবনে মা'জা-১৮৫০)

★স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ আদায় না করলে এবং স্ত্রীকে সঙ্গ না দিলে,স্ত্রী যদি কাযী সাহেবের নিকট বিচার দায়ের করে,তাহলে কাযী সাহেব উক্ত বিবাহকে ভঙ্গ করে দেয়ার অধিকার রাখেন।(জাদীদ ফেকহী মাসাঈল-৩/১০০)বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/5139

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি আপনার স্বামীর অধীনে আছেন বলে সে কর্তৃত্বের উসিলা দিয়ে যখন যা ইচ্ছা করতে...বলতে.. আঘাত করতে করার মতো কাজ করতে পারবেনা।

এটি অন্যায়।

প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার স্বামী আপনার উপর অনেকটা জুলুম করছে,আপনার হক সে আদায় করছেনা।

তার জন্য উচিত দেশে এসে জীবিকা নির্বাহের  কোনো উপায় অবলম্বন করা,সর্বদা আপনার হক আদায় করা।

আপনার স্বামী যেহেতু আপনার হক আদায় করছেনা,তাই তার জন্য বিদেশে থাকার বৈধতা শরীয়তে নেই।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 

দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য যে সমস্ত জিনিষের প্রয়োজন, সেগুলো স্ত্রীকে প্রদান করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। 

আপনি স্বামীকে ভালবাসুন। তার সমস্ত চাওয়া পাওয়াকে আন্তরিকতার সাথে পূরণ করুন। তাকে নরম ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে দু'আ করুন। আল্লাহ আপনার স্বামীকে হেদায়ত দান করুক।

এতেও কাজ না হলে সেক্ষেত্রে উভয় পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে স্বামীকে বুঝাতে পারেন।

এতেও কাজ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আরো জানুনঃ- 

★স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ আদায় না করলে,স্ত্রীর শারীরিক হক আদায় না করলে এবং স্ত্রীকে সঙ্গ না দিলে,স্ত্রী যদি কাযী সাহেবের নিকট বিচার দায়ের করে,তাহলে কাযী সাহেব উক্ত বিবাহকে ভঙ্গ করে দেয়ার অধিকার রাখেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...