আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
2,900 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (4 points)
closed by

আসসালামু আলাইকুম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহু


ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো ডিজিটাল ভার্চুয়াল মুদ্রা । যা একে ধরা বা ছোয়া যায় না । সম্পূর্ণ ডিজিটাল অনলাইনের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে।

কোনো ব্যক্তি যখন আরেকজনের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি তে টাকা প্রদান করে থাকে তখন এই ট্রাঞ্জেকশনটি ভেরিফাই করে ব্লক এর মধ্যে যুক্ত করতে হয় ( টলি খাতায় হিসাব নিকাশ লিখে রাখার মতো ) । ভেরিফাই হলে এই কাজটিকে বলা হয় "Proof-of-work""Proof-of-work" টি সম্পূর্ণ হলে সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যক্তির কাছে টাকা চলে যাবে। ভেরিফাই করে আবার ব্লকে যুক্ত করার কাজগুলো করে থাকে মাইনাররা।

মাইনার :

যারা মাইনিং করে তাদেরকে মাইনার বলা হয় । এরা কম্পিউটার কতগুলো হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে ট্রানজেকশন গুলো ভেরিফাই করে ব্লকে যুক্ত করার কাজগুলো করে থাকে । আসলে কম্পিউটার থেকে একধরণের স্পিড শেয়ার করে থাকে এই ট্রানজেকশনগুলো ভেরিফাই করার জন্য। আর যারা ভেরিফিকেশন করতে সক্ষম হবে এই কাজের বিনিময়ে ছোটো এমাউন্টের একটা ইনকাম করে থাকে । এভাবে দিনে অনেকগুলো ট্রাঞ্জেকশন ভেরিফাই করে মাইনাররা ইনকাম করে থাকে ।

এই ধরণের ট্রানজেকশন ভেরিফাই করে আবার ব্লকে যুক্ত করার কাজগুলো মানুষের দ্বারা কষ্টসাধ্য এবং অনেক সময়সাপেক্ষের ব্যাপার ( এককথায় অসম্ভব )। এগুলো ভেরিফাই করে আবার ব্লকে যুক্ত করার কাজগুলো শক্তিশালী কম্পিউটার প্রয়োজন পরে। যা দ্রুতগতিতে এই কাজগুলো সমাধান করতে পারে।

অনেকে এটাকে লটারী এর মতো মনে করে। তবে এটি বাস্তবিক থেকে অনেকটা আলাদা। লটারী করতে গেলে সেখানে আগে টাকা দিযে টিকেট নিতে হয়। কিন্তু ক্রিপ্টো মাইনিং এইগুলো থেকে অনেক দূরে।

 

আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত -

  • ইসলামে সুদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দেওয়া হয়েছে : ক্রিপ্টো মাইনিং এইগুলো থেকে অনেক দূরে।
  • পরস্পর সম্মতিক্রমে লেনদেন কে বৈধ করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন : ক্রিপ্টো মাইনিং এর বেলায় পরস্পরের সম্মতিক্রমে লেনদেন হয়ে থাকে। এখানে কারো কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয় না বরং কাজের বিনিময়ে এই টাকা উপার্জন করা হয়ে থাকে। 
  • এখানে প্রতিদিন কম্পিউটার দেখাশুনার কাজ করতে হয় এককথায় নিজের পরিশ্রম লাগাতে হয়। 
  • ক্রিপ্টো মাইনিং কোনো ফ্রি টাকা প্রদান করে না এটি শুধুমাত্র কাজের বিনিময়ে টাকা প্রদান করে থাকে। 

আমি শুধু একে উপার্জন হিসেবে নিতে চাচ্ছি। আল্লাহ রাস্তায় ব্যায়ও করবো। এই টাকা দিয়ে কোনো সুদ, মদ , জুয়া , লটারী ইত্যাদি থেকে শত হাত দূরে থাকবো । পাশাপাশি ব্যবসাও করবো ।

আমি যতটুকু জানি সেইটুকু জানালাম। উত্তরদাতার কাছে অনুরোধ রইলো অনলাইন থেকে এর সম্পর্কে জানলে আরো ভালো হবে। আপনার উত্তরের জন্য এবং সময় দিয়ে প্ররিশ্রম দেবার জন্য আল্লাহ আপনার উত্তম প্রতিদান করুক।

আপনার কাছ থেকে মতামত চাচ্ছি

closed

1 Answer

+1 vote
by (766,140 points)
selected by
 
Best answer
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 



ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছিঃ
এটি  হল এক রকমের ডিজিটাল কারেন্সি। এই কারেন্সি কোন সরকার বা রাষ্ট্র উৎপাদন বা জোগান দেয় না। এসব বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের এর মাধ্যমে ইন্টারনেট এ যুক্ত থেকে মাইনিং করতে হয়। আর এই মাইনিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিল সব এলগোরিদম, ব্লক এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি সম্পন্ন করেই একেকটি কয়েন বানাতে হয়। ক্রিপ্টো মুদ্রা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সংকেত রীতি বিদ্যা বা ক্রিপ্টোগ্রাফি থেকে যে এমন একটি মুদ্রা আবিষ্কার করা সম্ভব, সেটা গবেষকেরা জেনেছেন আশির দশকে। কিন্তু কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। ২০০৮ সালে অজানা এক গবেষক সুচারুভাবে সেসব সমস্যার সমাধান দিয়ে একটি গবেষণাপত্র ইন্টারনেট ফোরামে পাঠান। বিস্ময়করভাবে তাঁর সমাধান কাজে লাগে। তাঁর সমাধানের নাম ব্লক চেইন। ব্লকচেইন এলগোরিদম এর বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় একটি কয়েন জেনারেট হতে প্রথম দিকে টাইম খুব কম ( মনে করুন ৫ মিনিট) লাগলেও সময়ের সাথে সাথে এর ডিফিকাল্টি বাড়তে থাকে। এতে করে এক সময় দেখা যায় একটি কয়েন জেনারেট হতে টাইম নেয় ১৫ দিনের বা ৩০ দিনেরও বেশি সময়। আর এই ডিফিকাল্টি এর সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ে কয়েন রেট। উদাহরনঃ Bitcoin, OneCoin, Litecoin, Ripple, Dogecoin ইত্যাদি।


সাধারন কারেন্সির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এই যেমন টাকা, রুপি, ইউরো, ডলার, পাউন্ড ইত্যাদি। এই সব মুদ্রা দেশ ভেদে একেক রকম হয়। এদের উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রন ও সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক করে থাকে। এই মুদ্রার সরবরাহ ইচ্ছেমত বাড়াতে কমাতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি নির্দিস্ট পরিমান কয়েন এর বেশি জেনারেট করতে পারবে না। উদাহরন স্বরূপ Onecoin সর্বোচ্চ ২.১ বিলিয়ন কয়েন জেনারেট করতে পারবে। আমাদের সাধারন মুদ্রা টাকা, ডলার এর মান যেমন এক নয় এবং মান স্থির থাকে না তেমনি সব ক্রিপ্টোকারেন্সি এর মান এক নয় এবং মান স্থির থাকে না। যতটুকু জানা যায় Bitcoin যখন মার্কেটে আসল তখন তার প্রারম্ভিক দর ছিল .১০$ এর মত।

সম্প্রতি বিটকয়েনের অবিশ্বাস্য মূল্য বিস্ফোরণে সবার টনক নড়েছে। কেউ আর একে হেলাফেলা করতে পারছেন না। শিকাগো এক্সচেঞ্জে বিটকয়েনের ফিউচার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ম্যারিল লিঞ্চ, ব্যাংক অব আমেরিকাসহ অনেক নামি প্রতিষ্ঠান বলছে, এটা বুদ্বুদ নয়। এই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অবশ্যই কারণ রয়েছে। কারণ অনেক গভীরও বটে। যতটা না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক। ইতিমধ্যেই ব্লক চেইন নতুন সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

বিটকয়েন বা ক্রিপ্টো মুদ্রার প্রয়োজন কী?
সমাজ ও জীবন যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তেমনি অর্থনৈতিক ইনস্ট্রুমেন্টেরও অগ্রগতি হচ্ছে। মুদ্রা নামের জিনিসটার অনেক বিবর্তন ঘটেছে। স্বর্ণ, রৌপ্য বা ধাতব মুদ্রা থেকে সেটা কাগুজে মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। এর নকল ঠেকাতে উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারপর এল ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড। তা দিয়ে অর্থনৈতিক বিনিময় আরও সহজ হয়ে গেল। এগুলোকে ‘ডিজিটাল কারেন্সি’ বলা যেতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে অভাবনীয় অগ্রগতি এনেছে ক্রিপ্টো মুদ্রা। এর কয়েকটি চরিত্র তুলে ধরা যাক।

১. এর কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠান নেই। পৃথিবীজুড়ে বিপুল জনগোষ্ঠী একধরনের নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই মুদ্রার প্রচলন করছে। কেউ নীতিনির্ধারক নয়, সবাই সমান, নেটওয়ার্কের একটি নোড মাত্র। ক্রেতা থেকে বিক্রেতার কাছে সরাসরি, কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই, নিরাপদ ও নিশ্চিতভাবে এই মুদ্রা চলে যাবে। এই মুদ্রাব্যবস্থার কোনো কেন্দ্রীয় রূপ নেই, এখানে সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। এটাকে সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতার (পিয়ার-টু-পিয়ার) নেটওয়ার্ক বলে।

২. বিটকয়েনের ফলে এক মুহূর্তে যে কেউ ঘানা থেকে চীনে মুদ্রা পাঠিয়ে কোনো কিছু কিনতে পারবে। কোনো ব্যাংকের ব্যাপার নেই, কোনো মুদ্রা বিনিময় হারের ব্যাপার নেই। মধ্যবর্তী কোনো সংস্থা নেই, সেটাই এই মুদ্রার ডিজাইন।

৩. এই মুদ্রা ত্বরিত এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে যেতে পারে। বিটকয়েনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগছে। কিন্তু অন্য কিছু ক্রিপ্টো মুদ্রা আরও কম সময়ে হাত বদল হতে পারে। অথচ বর্তমান মুদ্রা স্থানান্তর ব্যবস্থায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে কয়েক দিন লেগে যায়।

৪. এই মুদ্রা একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে পাঠাতে নামমাত্র ফি লাগে। এটি আবার পাঠানো অর্থের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি বিটকয়েন আর এক লাখ বিটকয়েন পাঠাতে একই ফি। বর্তমান মানি ট্রান্সফারে বেশ অর্থ ব্যয় হয়।

৫. ক্রিপ্টো মুদ্রার লেনদেন জাল করা যায় না। একবার ট্রান্সফার হয়ে গেলে ওটাকে কোনোভাবে ফিরিয়ে নিতে বা পরিবর্তন করা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, হাজার হাজার মেশিনে এটা লিপিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই লেনদেন অপরিবর্তনীয়।

৬. ক্রিপ্টো মুদ্রার কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই। এই মুদ্রার সংখ্যা পূর্বনির্ধারিত, তাই টাকার মতো তা আরও ছাপানো যায় না। বিভিন্ন দেশ প্রকাশ্যে বা গোপনে তাদের মুদ্রা বেশি ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ফলে মুদ্রা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছে। ক্রিপ্টো মুদ্রায় এটি একেবারেই অসম্ভব। বিটকয়েনের সর্বোচ্চ সংখ্যায় ২ দশমিক ১ কোটিতে নির্ধারিত করা আছে।
বিটকয়েনের এত মূল্য কেন?

বিটকয়েনের মূল্য বাড়ার বেশ কিছু কারণ আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

১. মনে করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীজুড়ে সবাই ক্রিপ্টো মুদ্রা ব্যবহার করবে। এটিকে এভাবে বোঝানো যায়, কেউ যদি ২০ বছর আগে বলত, পৃথিবীজুড়ে সবাই মুঠোফোন ব্যবহার করবে, সেটা হয়তো তখন খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো না। এখানেও ঠিক তেমনটি ঘটছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

২. বিটকয়েনের সংখ্যা সীমিত। তাই একটি বিটকয়েনের দাম অনেক বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, পৃথিবীর সব সম্পদ ওই সীমিত বিটকয়েন দিয়ে কিনতে হবে, তাই একেকটির দাম হবে গগনচুম্বী।

বিটকয়েন দিয়ে কি কিছু কেনা যায়?
বিটকয়েন দিয়ে বর্তমানে অনেক কিছুই কেনা যায়। যেমন ওভারস্টক ডট কম থেকে যেকোনো পণ্য বিটকয়েনের মাধ্যমে কেনা যাবে। এমন আরও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে বিটকয়েনকে মুদ্রা হিসেবে নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখন যেমন অর্থের বদলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হচ্ছে, ভবিষ্যতে তেমনি টাকা ও ক্রেডিট কার্ডের বদলে বিটকয়েন বা অন্য কোনো সাংকেতিক মুদ্রা ব্যবহৃত হবে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রা। যার কোন বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত্ত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি মার্কেটি পরিণত হয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের পিয়ার টু পিয়ার ব্যবস্থা। এতে তৃতীয় পক্ষের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই কে কার কাছে এই ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় করছে তা অন্য কেউ জানতে পারে না। আবার পরিচয় গোপন রেখেও এটা দিয়ে লেনদেন করা যায়। তবে এর এনক্রিপটেড লেজার সব লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রিপ্টোকারেন্সির ভ্যালুর উপর কোন দেশের সরকারেই হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই। তাই পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ডিজিটাল মুদ্রার উপর সে দেশের সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সাধারণভাবে আমরা যখন কারো কাছে টাকা পাঠাই, তখন ব্যাংক এর সাহায্য নিই। আবার যদি ব্যাংক খোলা না থাকে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ) বা অনেক ক্ষেত্রে কুরিয়ার ও পোষ্ট অফিসের মধ্যদিয়েও পাঠাই। এ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সার্ভিজ চার্জ আদায় করে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সিতে যেহেতু তৃতীয় পক্ষের কোন প্রয়োজন হয় না। তাই এর কোন বাড়তি চার্জও নেই। তবে সর্বনিম্ন চার্জ রয়েছে। আরো সহজে বোঝাতে চাইলে বলা যায় এ্যাপ ভিত্তিক কিছু সার্ভিসের কথা। অনেক সময় মোবাইলে মাই জিপি, মাই রবি বা ডিংটন, ক্যাম স্ক্যান ব্যাবহার করা হয়। এগুলোর মাধ্যমে রিচার্জ করলে পয়েন্ট আসে পরে সেগুলো দিয়ে ডাটা কেনা যায়। আর বিজ্ঞাপন দেখেও পয়েন্ট পাওয়া যায়। পরে সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে কথা বলা ও ক্লাউড স্পেস পাওয়া যায়।
সংগৃহিত।
,

হাদীস শরীফে এসেছে   

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلاَلِ هِيَ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِبْرَاءً لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ فَقَدْ سَلِمَ وَمَنْ وَاقَعَ شَيْئًا مِنْهَا يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْحَرَامَ كَمَا أَنَّهُ مَنْ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ " . حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ .

নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ হালালও সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দুটির মাঝে অনেক সন্দেহজনক বিষয় আছে। তা হালাল হবে না হারাম হবে সেটা অনেকেই জানে না। যে লোক এই সন্দেহজনক বিষয়গুলো নিজের দ্বীন এবং মান-ইজ্জাতের হিফাযাতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেবে সে নিরাপদ হল। যে লোক এর কিছুতে লিপ্ত হল তার হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ারও সংশয় থেকে গেল। (উদাহরণস্বরূপ) নিষিদ্ধ এলাকার আশেপাশে যে লোক পশু চড়ায়, তার এতে প্রবেশের ভয় আছে। জেনে রাখ! প্রতিটি সরকারেরই কিছু সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহ্ তা'আলার সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারাম করা বিষয়গুলো'।


- সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৪),বুখারী, মুসলিম


হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদা হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি নুমান ইবনু বাশীর হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী নুমান (রাঃ)-এর সূত্রে একই বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(তিরমিজি ১২০৫) 


★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই বোন,   
সরকারীভাবে এর লেনদেন আমাদের দেশে নিষিদ্ধ। শরীয়তের মাসয়ালা হল, বৈধ বিষয়ে রাষ্ট্রের আনুগত্য করা ওয়াজিব। এর জন্য রাষ্ট্র ইসলামী হওয়া জরুরী নয়।  এছাড়া দেশের প্রতিটি নাগরিকই বক্তব্য বা কর্মে একথার স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, সে বৈধ বিষয়ে সরকারের আইন  মানবে।
.
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে উপার্জন করা জায়েজ নেই।  

বিস্তারিত  জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (4 points)
reshown by
+1
২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে মানি লন্ডারিং আইনে ক্রিপ্টো কারেন্সী নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। যদি এটি দেশে বৈধ করে দেওয়া হয় তাহলে মাইনিং ইনকাম কি জায়েজ আছে ?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...