আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
477 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
reshown by
শরইয়াহর দৃষ্টিতে মোচ রাখার ক্ষেত্রে ঠোটের উপর পুরো অংশটুকু ঠিকভাবে ছেটে দুপাশে বড় করে বাকিয়ে রাখার বিধান কি?

বিস্তারিত জানতে আগ্রহী


মোচ রাখার ক্ষেত্রে ঠোটের উপর পুরো অংশটুকু ঠিকভাবে ছেটে দুপাশে বড় করে বাকিয়ে রাখার বিধান কি?

1 Answer

0 votes
by (91,470 points)
edited by

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

গোঁফ কাটার পদ্ধতি নিয়ে হানাফি ফুকাহায়ে  কেরামদের কিতাবে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য অনুধাবন করা যাচ্ছে । মৌলিকভাবে বিষয়টা বুঝতে হলে আমাদেরকে তা জানতে হবে, যেজন্য তা নিম্নে উল্লেখ করা হল।

আল্লামা আলাউদ্দীন হাসক্বফী রাহ বলেনঃ-

حَلْقُ الشَّارِبِ بِدْعَةٌ وَقِيلَ سُنَّةٌ وَلَا بَأْسَ بِنَتْفِ الشَّيْبِ،

ভাবার্থঃ- গোঁফ মুন্ডানো বেদ'আত। তবে কেউ কেউ সুন্নাত ও বলে থাকেন। সাদা গোঁফ উফড়ানোতে কোনো সমস্যা নেই। -আদ্দুরুল মুখতার-৬/৪০৭; (দারুল ফিকর বাইরুত, মাকতাবা থেকে ৬ খন্ডে প্রকাশিত, ১৪১২হিঃ-১৯৯২ইং।)

মুহাম্মদ আমীন ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ আবেদীন(ইবনে আবেদীন) শামী রাহ লিখেনঃ

وَاخْتُلِفَ فِي الْمَسْنُونِ فِي الشَّارِبِ هَلْ هُوَ الْقَصُّ أَوْ الْحَلْقُ؟ وَالْمَذْهَبُ عِنْدَ بَعْضِ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ مَشَايِخِنَا أَنَّهُ الْقَصُّ. قَالَ فِي الْبَدَائِعِ: وَهُوَ الصَّحِيحُ. وَقَالَ الطَّحَاوِيُّ: الْقَصُّ حَسَنٌ وَالْحَلْقُ أَحْسَنُ، وَهُوَ قَوْلُ عُلَمَائِنَا الثَّلَاثَةِ نَهْرٌ

ভাবার্থঃ- গোঁফ কাটার মাসনুন পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।কেচি দিয়ে কাটা মাসনুন? নাকি মুন্ডিয়ে ফেলা মাসনুন?এ সম্পর্কে  মুতা'আখ্খীরিন(পরবর্তী) উলামায়ে কেরামদের সিদ্ধান্ত হল, কেচি দিয়ে কাটা মাসনুন। বাদায়ে সানায়ে নামক কিতাবে এঅভিমতকেই বিশুদ্ধ বলা হয়েছে।

ইমাম ত্বাহাবী রাহ, বলেনঃ

কেছি দিয়ে কাটা উত্তম। এবং মুন্ডিয়ে ফেলা অতি উত্তম। তিনি বলেনঃ এটাই আমাদের সম্মানিত ইমামগণের মত। (নাহরুল ফায়েক)

অতঃপর ইবনে আবেদীন শামী রাহ,আরোও লিখেনঃ

قَالَ فِي الْفَتْحِ: وَتَفْسِيرُ الْقَصِّ أَنْ يَنْقُصَ حَتَّى يَنْتَقِصَ عَنْ الْإِطَارِ، وَهُوَ بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ: مُلْتَقَى الْجِلْدَةِ وَاللَّحْمِ مِنْ الشَّفَةِ، وَكَلَامُ صَاحِبِ الْهِدَايَةِ عَلَى أَنْ يُحَاذِيَهُ. اهـ. وَأَمَّا طَرَفَا الشَّارِبِ وَهُمَا السِّبَالَانِ، فَقِيلَ هُمَا مِنْهُ، وَقِيلَ مِنْ اللِّحْيَةِ، وَعَلَيْهِ فَقِيلَ لَا بَأْسَ بِتَرْكِهِمَا، وَقِيلَ يُكْرَهُ لِمَا فِيهِ مِنْ التَّشَبُّهِ بِالْأَعَاجِمِ وَأَهْلِ الْكِتَابِ، وَهَذَا أَوْلَى بِالصَّوَابِ، وَتَمَامُهُ فِي حَاشِيَةِ نُوحٍ. وَرَجَّحَ فِي الْبَحْرِ مَا قَالَهُ الطَّحَاوِيُّ،(ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ - ﻛِﺘَﺎﺏُ ﺍﻟْﺤَﺞِّ ﺑَﺎﺏُ ﺍﻟْﺠِﻨَﺎﻳَﺎﺕِ ﺍﻟْﺠِﻨَﺎﻳَﺔُ)

ভাবার্থঃ- কেচি দিয়ে কাটার পদ্ধতি হচ্ছে, গোফকে ছেঁচে ছোট করা হবে,যতক্ষণ না ইত্বার পরিমাণ হবে।

ইত্বার পরিমাণ হওয়া মানে ঠোটের গোস্ত ও তার উপরিভাগের চামড়ার সমপরিমাণ হওয়া। হেদায়া গ্রন্থকারের বক্তব্যর সারমর্মই হচ্ছে তা যা উপরোল্লিখিত অর্থাৎ ঠোটের উপরিভাগের চামড়া সমান সমান হওয়া। আর গোফের উভয় সাইট,যাকে পরিভাষায় সিবালান বলা হয়,কেউ কেউ বলেন তা গোফের অন্তর্ভুক্ত আর কেউ বলেনঃ তা দাড়ির অন্তর্ভুক্ত। দাড়ির অন্তর্ভুক্ত হলে তা রেখে দিতে কোনো কোনো সমস্যা নেই। তবে কেউ বলেনঃ তা রাখা দেওয়া মাকরুহ। কেননা তাতে অনারবী ও আহলে কিতাবদের অনুসরণ হবে। আর এটাই বিশুদ্ধ কথা। এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ আলোচনা হাশিয়ায়ে নুহে বর্ণিত রয়েছে। রাহরুর রায়েক কিতাবে ইমাম ত্বাহাবীর উপরোক্ত বক্তব্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার-২/৫৫০;-দারুল ফিকর বাইরুত, মাকতাবা থেকে ৬ খন্ডে প্রকাশিত,১৪১২হিঃ-১৯৯২ইং)

"গোঁফ মুন্ডানো জায়েয আছে,তবে কেচি দিয়ে কাটা উত্তম" (কিফায়াতুল মুফতী-৯/১৭৮-দারুল এশায়াত উর্দু বাজার করাচি,থেকে ২০০১ ইং তে ৮খন্ডে প্রকাশিত) 

আরো বিস্তারিত জানুনhttps://ifatwa.info/1857/?show=1857#q1857

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!


গোফের উভয় সাইট,যাকে পরিভাষায় সিবালান বলা হয়,কেউ কেউ বলেন তা গোফের অন্তর্ভুক্ত আর কেউ বলেনঃ তা দাড়ির অন্তর্ভুক্ত। দাড়ির অন্তর্ভুক্ত হলে তা রেখে দিতে কোনো কোনো সমস্যা নেই। তবে কেউ বলেনঃ তা রেখে দেওয়া মাকরুহ। কেননা তাতে অনারবী ও আহলে কিতাবদের অনুসরণ হবে। আর এটাই বিশুদ্ধ কথা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...