আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
1,074 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
সুদ খাওয়া  আপন মায়ের সাথে যিনা করার চেয়েও বড় পাপ।কিন্তু আজকের সমাজে সুদ খায় না এমন  লোক পাওয়া কঠিন কারন ব্যাংক লেনদেন  ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি এর সাথে মানুষ প্রায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কিত্তু এটা নিয়ে সমাজ খুব একটা  ধিক্কার দেয়না।কিন্তু মায়ের সাথে যিনা করার কথা কেউ ভাবতেই পারেনা,করাতো দুরে থাকুক ভাবলেই তাকে প্রচন্ড তিরস্কার শুরু করে।অথচ এটা সুদ খাওয়ার চেয়ে ছোট পাপ।কেন এমন আমরা? বড় পাপটাকে জায়েজ করে নিয়েছি আর অপেক্ষাকৃত ছোটটা কে মানতে বেশী ঘৃণা কেন?

   মনে করেন একটা ছেলে তার পিতার মৃত্যুর পর ভয়ের কারনে মায়ের সাথে ঘুমায়,  একদিন রাতে সে ঘুম ভেঙ্গে দেখে তার মায়ের স্তন সে ধরে আছে আর ঘুমের কারনে তার মায়ের কাপড় উঠে গেছে তার যৌনাঙ্গ দেখা যাচ্ছে,ছেলেটা উত্তেজিত হল।তার মাও ঘুমের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে তাদের মধ্যে সহবাস হয়ে গেল। এতে কতটুকু পাপ হবে? পরে যদি ইচ্ছাকৃত আবার হয় তাহলে কি হবে?

আসলে উনি মা পাশাপাশি একজন নারী।

  এই ঘটনা কেউ জানলে তাদের দুজনের উপর  কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে,যাহারা এই কিয়ামত ঘটাবেন উনি হয়তো একজন সুদ খোর ও ঘুষখোর অথবা ইয়াতিমের হক নষ্ট করেছে উনিতো আরো বড় পাপী এটার কি ব্যাখ্যা? আমি হিসাব মিলাতে পারিনা।

    আবার একটি ছেলে একদিন রাতে মায়ের ঘরে পানি খাওয়ার জন্য তার রুমে ঢুকে তার উলংগ শরীর (স্তন ও যৌনাঙ্গ) চোখে পড়ে এবং অল্প বয়স হওয়ায় সাথে সাথে উত্তেজনা শুরু হয় আর বীর্যপাত হয়ে যায়, এটা কতটুকু পাপ হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-


আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
الرِّبَا سَبْعُونَ حُوبًا أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ 
الرَّجُلُ أُمَّهُ

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুদ (পাপের দিক থেকে) ৭০ প্রকার। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট (পাপের) সুদ হল মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা! (অর্থাৎ সুদ খাওয়ার গোনাহ মায়ের সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে ৭০ গুণ বেশী।)

(ইবনে মাজাহ ২২৭৪ , হাকেম ২/৩৭, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৫৫২০-৫৫২২, ইবনে আবী শাইবাহ ২২০০৫, সহীহ তারগীব ১৮৫৮)

অপর হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবন হানযালা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
دِرْهَمٌ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً

জেনে-শুনে এক দিরহাম পরিমাণ সুদ খাওয়া আল্লাহর নিকট ৩৬ জন নারীর সাথে ব্যভিচারের চাইতে অধিক গুনাহের কাজ। (মুসনাদে আহমাদ ২১৪৫০)


★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এখানে উভয়টিই কবিরা গুনাহ।
সুদের গুনাহ যেনার চেয়ে মারাত্মক  বলতে এখানে যেনার থেকে বেশি গুনাহ উদ্দেশ্য নয়।
বরং এখানে উদ্দেশ্য  হলোঃ

মানুষ যেমন যেনাকে অনেক মারাত্মক গুনাহ বলে মনে করে,সুদকেও যেনো মানুষ মারাত্মক গুনাহ বলে মনে করে ছেড়ে দেয়,এই জন্যই সাদৃশ্যতা দেয়া হয়েছে।
এটি কোনো ভাবেই নয় যে যেনা থেকেও সুদ বড় গুনাহ,বা যেনার গুনাহ সুদ থেকে কম।
এগুলো উদ্দেশ্য নয়।
,
এখানে মানুষকে সূদের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত উভয় যেনার ছুরতই অবশ্যই অনেক মারাত্মক গুনাহ।
এর জন্য দেশে ইসলামী শরীয়ত কায়েম থাকলে মায়ের মৃত্যুদন্ড হতো।
ছেলে বিবাহিত হলে তারও মৃত্যুদন্ড হতো।

এখন উভয়কেই খালেস দিলে তওবা করে এহেন নিকৃষ্টতম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রয়োজনে আলাদা বাসায় থাকতে হবে।
দুরে গিয়ে থাকতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (5 points)
reshown by
আমার প্রশ্ন সুদকে মানুষ একেবারে যায়েজ হিসাবে নিয়ে নিয়েছে।লোন,ডিপিএস,সঞ্চয়পত্র, ফিক্স ডিপোজিট এগুল তো সুদ।কিন্তু এগুল নিয়ে কেউ কোন কোন কথা বলেনা।আরো মানুষ গর্ভ করে বলে আমার এগুল আছে।কিন্তু যিনার কথা শুনলে ছি ছি করতে করতে অস্থির  হয়।অথচ সুদই যিনার চেয়ে বড় পাপ।
by (0 points)
............................

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...