0 votes
36 views
in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (5 points)
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর, কোরআন ও হাদিস অনুসারে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই ।

প্রশ্ন:
১)মৃত ব্যক্তির জন্য লাখো কালেমা খতম , ৭০ হাজার কালেমা পাঠ  এ বিষয়গুলো কোরআন ও হাদিস অনুসারে কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

২) মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন পাঠ করা, মুমুর্ষ অবস্থায় তার কাছে কোরআন পাঠ করা যেন আযাব লাঘব হয় , এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? সঠিক পদ্ধতি কি?

৩) আমার মৃত আত্নীয়স্বজনদের জন্য আমি কি দোয়া ছাড়াও তাদের জন্য  সূরা ,কালেমা  , আয়াতুল কুরসি,দরূদ শরীফ পড়ে সওয়াব মৃত আত্নীয়স্বজনদের জন্যে বখশিয়ে দেবার আল্লাহ এর কাছে মিনতি করতে পারবো??

৪) অনেক সময় আমি আমার ভাই , আমার  পোষা কবুতর এর গায়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে ফুঁ দেই ,যেন তারা নিরাপদ এ থাকে , কোন মানুষ ও প্রানীর গায়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ ও অন্য দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?

৫) অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্তরে অনেক সময়ই খারাপ চিন্তা,ভাবনা, আসে, এটা প্রকৃত ঈমানের অভাব এর নিদর্শন??

1 Answer

0 votes
by (327,880 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-


(০১)
https://ifatwa.info/8390/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ 
মৃত ব্যাক্তির জন্য কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করে ঈসালে ছওয়াব করা জায়েজ আছে। 
এতে কোনো সমস্যা নেই।   
,
ঈসাল মানে হল, পৌঁছানো। আর সওয়াব মানেতো সওয়াব, পূণ্য।

তাহলে ঈসালে সওয়াব মানে হল, সওয়াব পৌঁছানো।প্রচলিতভাবে “ঈসালে সওয়াব” বলা হয়, মৃত ব্যক্তির জন্য দুনিয়ায় কোন আমল করে সওয়াব পৌঁছানোকে বলা হয়।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ، وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ، وَلْيُقْرَأْ عِنْدَ رَأْسِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَعِنْدَ رِجْلَيْهِ بِخَاتِمَةِ الْبَقَرَةِ فِي قَبْرِهِ

হযরত ইবনে উমর রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায়, তখন তাকে আটকে রেখো না, বরং দ্রুত তাকে কবরস্ত কর। আর তার কবরের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা এবং পায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার শেষ অংশ তিলাওয়াত কর। [আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-১৩৬১৩, শুয়াবুল ঈমান লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৮৮৫৪] 

والمعتمد فى المذاهب الاربعة ان ثواب القراءة يصل الى الاموات، لانه هبة ودعاء بالقرآن الذى تتنزل الرحمات عند تلاوته، وقد ثبت فى السنة النبوية وصول الدعاء والصدقة للميت، وذلك مجمع عليه

চার ইমামগণের নিকট যে কথাটি গ্রহণযোগ্য, তা হল, কুরআনে কারীমের  তিলাওয়াতের সওয়াবও মৃতের কাছে পৌঁছে। কেননা, এটি কুরআনে কারীমের হাদিয়া এবং দুআ।যা তিলাওয়াতকালে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়। যেহেতু মাইয়্যেতের জন্য সদকা এবং তার জন্য দুআ করলে তা মৃতের কাছে পৌঁছার বিষয়টি হাদীসে নববী দ্বারা প্রমাণিত। এর উপরই উম্মতের ইজমা। [তাফসীরে মুনীর-১৪/১৪০, ডঃ ওহাবাতুজ জুহাইলী] 
,
ঈসালে ছওয়াব সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ 

★সুতরাং কালেমা পড়ে খতমে তাহলীল করে ঈসালে ছওয়াব করা জায়েজ আছে।     

তবে সেগুলো কে বিশেষ কোনো সংখ্যা দ্বারা আখ্যায়িত করা,বা উক্ত সংখ্যার সাথে জরুরী মনে করা ঠিক হবে না।এমনকি বাড়াবাড়ি করলে বিদ'আত পর্যন্ত হুকুম আসবে।

রাসুল সাঃ বলেন-

وَإِيّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنّ كُلّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ.

আর সকল নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কারণ, সকল নব উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত। আর সকল বিদআত গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা।’ (দ্র. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৭১৪২, ১৭১৪৫)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ
‘(দ্বীনের নামে) নবউদ্ভাবিত সকল বিষয় থেকে দূরে থাক।’

আরেক হাদীসে আছে-
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدّ .

‘যে আমাদের এই বিষয়ে (অর্থাৎ দ্বীন ও শরীয়তে) এমন কিছু উদ্ভাবন করবে, যা তার অংশ নয়, তা প্রত্যাখাত।’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭১৮; সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৯৭
,
হ্যা পূর্ববর্তী কিছু নেককার বান্দাগণ(সালাফে সালেহীন) তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু সংখ্যার পরামর্শ দেন বা পদ্ধতির পরামর্শ দেন,সেগুলোকে জরুরী বা সুন্নত মনে না করে আ'মলে নেয়া যেতে পারে।তবে এক্ষেত্রে এমন মনোভাব রাখতে হবে যে,উক্ত সংখ্যা বা পদ্ধতি আমাদের উদ্দেশ্য নয় বরং আমাদের উদ্দেশ্য হল, বেশী বেশী করে পড়া।

বিস্তারিত জানুনঃ 
,

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে  ""৭০ হাজার বার বা ১ লক্ষবার কালিমা খতম""
এটা যদি জরুরী মনে না করে,সুন্নাত মনে না করে কেহ করে,তাহলে তাহা বিদআত হবেনা।
অন্যথায় বিদআত হবে।

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
عن معقل بن يسار، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: اقرءوا يس على موتاكم.

মাকিল ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সূরা ইয়াসীন পাঠ কর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১২১, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০০২; মুসতাদরাকে হাকিম ১/৫৬৫)

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে হাদীসে সুরা ইয়াসিম পাঠের কথা এসেছে।
তবে এতে আযাব/কষ্ট লাঘব হয়,এই মর্মে কোনো হাদীস খুজে পাইনি।

(০৩)
হ্যাঁ পারবেন।

আরো জানুনঃ 

(০৪)
এটি জায়েজ আছে।

তবে কিছু স্কলারগন এগুলোর অনুমতি দেননা,সুতরাং তাদের মতানুসারীগন সেই মত অনুযায়ী আমল করতে পারবেন।         

(০৫)
এটি পূর্ণ ঈমান থেকে কমতির নিদর্শন। 
এগুলো মনে আসতেই দেয়া যাবেনা।
আসলে সাথে সাথেই এহেন চিন্তা দূর করতে হবে।
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...