0 votes
144 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (22 points)
edited by
হজুর,আমাকে আমার পরিচিত একজন বলল,ফেইসবুকে লিখা কপি করে নিজের প্রোফাইলে পোস্ট করা নাকি কবিরা গোনাহ।কিন্তু আমি অনেক ইসলামি সাইটে দেখেছি তারাও লিখাকে কপি করেন।কুরআন হাদীসের রেফারেন্স সহ জানতে চাই

1 Answer

0 votes
by (215,640 points)
edited by
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم 

কপি অর্থ নকল বা প্রতিলিপি বা অনুলিপি বা অনুকৃতি বা অনুকরণ বা অনুসৃতি ইত্যাদি।

কোনও অনুমতি ছাড়াই একজন লেখকের লেখা হুবহু আরেকজনের প্রবন্ধে বা নিবন্ধে ফেসবুকে পোস্ট  করার বিষয়টি আজকাল প্রায়ই নজরে আসছে। 

কোনও কোনও ক্ষেত্রে মূল লেখক বা তার পক্ষে অন্য কেউ বিষয়টি জেনে অভিযোগ তুলেও  প্রায় ক্ষেত্রেই বিষয়টি অগোচরেই থেকে যায়। তবে ইসলাম ও আইন অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড রীতিমত গুরুতর অপরাধ। 
যদি মূল লেখকের পক্ষ থেকে কপি করার অনুমতি থাকে,তাহলে সুত্র দেওয়া ছাড়াই কপি পোস্ট করা যাবে।
অনেক সময় ফেসবুকে উলামায়ে কেরামগন এবং দ্বীনদার লেখক গন ইসলাম ও দেশের স্বার্থে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে থাকেন,যেখানে তাদের উদ্দেশ্য এটা হয় যে এটি বেশি প্রচার হোক,তাই তারা বলেই দেন যে কপি বা শেয়ার করে লেখাটি ছড়িয়ে দিন,তাহলে এমন লেখা কপি করে পোস্ট করা জায়েজ আছে। 
তবে সেখানে মূল লেখায় কোনো কমবেশি করা যাবেনা।
এমন লেখা পোস্ট করলে এক্ষেত্রে ছওয়াবও হবে।

  আল্লাহ তায়ালা বলেন 
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}
,
তবে যদি মূল লেখকের পক্ষ থেকে কপি করার অনুমতি না থাকে,তাহলে তার লেখা কপি করা জায়েজ নেই। 
হ্যাঁ যদি কপি করতেই হয়,তাহলে লেখকের নাম সহ যুক্ত করে দিতে হবে।
এবং সেখানে মূল লেখায় কোনো কমবেশি করা যাবেনা।   
,
অনেক সময় কিছু লেখক পোস্টে বলেই দেন যে এই লেখা কপি বা শেয়ার করা৷ যাবেনা,তাহলে সেটা কপি করা নাজায়েজ। 
,
কাহারো লেখা বিনা অনুমতিতে কপি করার পর লেখাটিতে তার নাম যুক্ত না করে দিলে,এটা নাজায়েজ হবে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৩১৪৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৫৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২২২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৯০৫}

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...