+1 vote
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
আসসালামু আলাইকুম,
শায়েখ আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা দরকার। আমি আলহামদুলিল্লাহ পর্দা করি। অতিরিক্ত প্রয়োজন ছাড়া শপিং এ  না যেতে চেষ্টা করি।
বাসায় কিনে দিতে বললে বাবা,ভাই পারবেনা, বুঝবেনা অত্যাদি বলেন। তাই আম্মুই সব কিনে। উনি পর্দা করেন না।
ফেরিওয়ালারা আসলে তাদের সামনে বেপর্দা হিশেবেই যান ও কাপড়,হাড়িপাতিল,মাছ ইত্যাদি কিনেন। আমি বিষয়টা সমর্থন করিনা। কিন্তু উনি পর্দা করতে নারাজ।
তাই আমি উনাকেই সব বলি কিনে দিতে যা যা লাগে। উনি বেপর্দা ভাবেই ফেরিওয়ালা থেকে কিনে দেন।
১/ আমার জিনিসগুলো কিনার জন্য যে বেপর্দাভাবে মার্কেটে,বাজারে,ফেরিওয়ালার সামনে যান এতে আমি গুনাহগার হবো কি? কারণ আমিই পাঠাচ্ছি। জানি বেপর্দা ভাবেই যাবেন। কিন্তু অনেক বুঝিয়েও লাভ হয়নি।
বাসায় আমার বাবাও বেপর্দা অবস্থা ওনার বাজারে যাওয়া সমর্থন করেন৷ তাই বাবাকে বলেও লাভ নেই।
আমি অনেক কিছুই অনলাইন থেকে নিয়ে নি। কিছু জিনিস মাত্রাতিরিক্ত দাম যা কেনা সাধ্যের বাইরে অনলাইনে। তাই তা ফেরিওয়ালা বা লোকাল দোকান থেকেই কিনতে হয়।
আমি পর্দা করে বাবার সাথে গিয়ে কিনবো একে তো উনারা বিরক্ত হোন,দিতীয়ত আমার গুনাহ হয়।
২/ বাসে চড়তে চাইনা অনেক বুঝানোর পরও টেম্পু ছেড়ে বাসে চড়তে হয়। এতে পুরুষদের সাথে সংঘর্ষ হয়া থেকে বাচা যায়না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। ঊঠেই মহিলা সিটে বসার। কিন্তু অন্যদের কি বুঝাবো আমার মাহরামরাই আমার অতি সাবধানতায় আমার উপর বিরক্ত। আমার আপসেট লাগে। কিছু করার নেই। বলে দিয়েছে সিএঞ্জিতে নিজের খরচে চলতে।
এতে আমি গুনাহগার হবো কি?
৩/ একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমি বের হইনা। যেটা আমি ছাড়া হবেই না তাতে যাই। আমার পুরো পরিবার,আত্মীয়, সবাই সেকুলার,মডারেট নয়তো নন প্র‍্যাক্টিসিং।
মাহরামদের সাথে সফরে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আজ বছর খানেকের বেশি লড়াই করেছি। উনারা বিরক্ত প্রচন্ড। আমাকে বোঝা মনে করে।
ইমোশনাল, লজিক্যাল সবভাবেই বুঝিয়েছি৷ বাসায় ২ জন মাহরাম আমার। বাবা ও ভাই।
একা যেতে বলে। উনাদের সময় হবেনা, হলেও পারবেনা, সময় নষ্ট, ভেজাল মনে করে।

আমি বাইরে নিরাপদ অনুভূত করিনা। তাই মাহরাম সহই যাই।
এখন একান্ত বাধ্য হয়ে একা যাওয়া আসা করলে আমি গুনাহগার হবো কি? আমি চাইনা শায়েখ, আমি অনেক লড়াই করেছি। এখন ক্লান্ত লাগছে। প্রত্যেকবার তর্ক, অপমান আর নিতে পারছিনা।
(দীনি বোনের বাসায় যাই নেক সহবত পেতে। আড্ডা দিতে না। হালাল বিনোদন, কাউন্সেলিং পেতে,তালিম।
উনারা নিয়ে যেতে ও আনতে পারবেন না। আমিতো রোবট না। হারাম সব বিনোদন ছেড়ে দিয়ে এখন হালাল বিনোদন প্রয়োজন হয়। নয়ত গুনাহে আসক্তি আসে।আস্তাগফিরুল্লাহ।
এ ছাড়া আর কোনো বিনোদন নেই আপাতত।)

1 Answer

0 votes
by (410,400 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ 
তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। (সূরা হাজ্ব-৭৮)এক্ষেত্রে তেলাওয়াত কারীই গোনাহগার হবেন।(আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-৪/৮৬)

আল্লাহ তা'আলা সামর্থ্যর অধিক দায়িত্ব কাউকে দেননা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।(সূরা বাকারা-১৮৬)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন
(১)
যেহেতু আপনি আপনার সামর্থ্যানুযায়ী চেষ্টা প্রচেষ্টা করেছেন, তাই আপনার দায়িত্ব শেষ।আপনার মা বেপর্দা চলাফেরা করলে আপনার কোনো গোনাহ হবে না।
আপনার প্রয়োজনিয় জিনিষ ক্রয় ব্যতিতও যেহেতু তিনি বেপর্দা চলাফেরা করেন, তাই আপনার প্রয়োজনিয় জিনিষপত্র ক্রয়ের জন্য উনি বাইরে গেলে এজন্য আপনার কোনো গোনাহ হবে না।


(২)
আপনার কোনো গোনাহ হবে না।

(৩)
যথাসম্ভব যেহেতু আপনি চেষ্টা প্রচেষ্টা করেছেন, তাই আপনার কোনো গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (410,400 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...