আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
663 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসাামুআলাইকুম,
আমার বিয়ে হয়েছে দের বছর যাবৎ,, এই বিয়ের দের বছর এ কারণ এ অকারণে বহু বার আমার আর আমার শাশুরির ঝগড়া হয়েছে। প্রতি মাসে একবার দুবার এমন হয় ই। প্রথম দিকে আমার ও দোষ ছিল,, কারণ আমি এগুলো সহজে মানতে পারতাম না। কিন্তু ইদানিং আমি আমার শাশুরির মন যুগিয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু তার ছেলেদের সাথে ওনার কিছু হলে। আমি কিছু না করা সত্বেও সে আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে। আমার নাম এ মানুষের কাছে খারাপ বদনাম করে।  তাদের সামর্থ থাকা সত্বেও বিয়ের পর বুয়া বাদ দেয়। আমি এতে কিছুই মনে করিনি। আমি বুয়ার কাজ সব করি,,4/5 টা রুম ঝাড়ু দেওয়া মোছা থালাবাসন ধোয়া, ঘর গোছানো, আমার এবং আমার স্বামীর জামা কাপড় ধোয়া,সব আমিই করি। আমার কাপড় ধোয়া পরিষ্কার হয় না কারণ আমার বাবার বাড়ি এগুলো আমি কখনো করিনাই। তাই উনার এর আমার দেবর এর গুলো উনি ধোয়। আমি তরকারি কুটে মুছে ধুয়ে দিই উনি রান্না করে,, রাতের রান্না আমিই করি। এরপর ও উনি সবার কাছে বলে আমি কাজ করিনা। অন্য বাড়ির বউ দের উদাহরণ দেই। তারা ভালো আমি খারাপ। আমি আজ পর্যন্ত আমার স্বামীর দেওয়া একটা জামা বা একটা নরমাল কানের দুল ও পরিনাই। কারণ আমাদের বিয়ের পর আমার স্বামীর বিজনেস রানিং করেছে। কিন্তু উনি বলে আমি আমার স্বামীর সব টাকা আত্মসাৎ করি। অথচ আমার স্বামী তার আয়ের মোটামুটি সব ভাগই আমার শাশুরি কে দেয়। আমাকে উনি এক নাগারে 4/5 ঘণ্টা বকা দিতে থাকে। আমি সারাদিন বাসায় একা থাকি এইসব কারণে আমি মেন্টালি সিক হয়ে যাচ্ছি। উনার পরিবারের কেউ বেড়াতে আসলে আমাকে মোটা কালো।বাপের বাড়ি থিকা কি আনছি এইসব বলে কিন্তু উনি কোনো প্রতিবাদই করেনা। উল্টো ওইসব মানুষের সামনে বলে আমাদের আলাদা করে দিবে। বের করে দিবে।আমি পুরো পাগল পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমার শুধু মুক্ত হতে মন চায়। হে আমার স্বামী আমার সাপোর্ট এ থাকে। কিন্তু কয়দিন পর যেইসেই আবার ঝগড়া। আমি তাই আলাদা সংসার চাচ্ছি। আমার স্বামীর বা আমার কি এতে কোনো গুনাহ হবে?
বিশ্বাস করুন আমি না পারতে এই সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি। আমার স্বামী তার বাবা মা ভাই দের সাথে যোগাযোগ রাখুক আমার সমস্যা নাই। টাকা পয়সা জা লাগে দেক। কিন্তু আমি নিজের একটি শান্তির নীড় চাই। সেটা আমার স্বামীকেই বা কিভাবে বলব বুঝছিনা। ওনার মায়ের সংসার এ মনেই হয় আমি বাইরের কেউ এইটা আমার না। পরের সংসার এ পড়ে আছি। টা আমার স্বামীকে কিভাবে বুঝাব?

1 Answer

0 votes
by (92,400 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/26113/?show=26113#q26113 নং ফাতাওয়াতে আমরা বলেছি যে,

স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর উপর সর্বাবস্থায় ফরয, স্ত্রীর নিজের সম্পদ থাকুক বা না থাকুক।

■ আল্লাহ তাআলা বলেন-

 

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ

 

পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক, ঐ (বিশেষত্বের) কারণে, যার দ্বারা আল্লাহ তাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং ঐ সম্পদের কারণে, যা তারা ব্যয় করেছে। সুতরাং সৎ নারীরা হল অনুগত, (স্বামীর) অবর্তমানে (নিজের সতিত্ব ও স্বামীর সম্পদ) রক্ষাকারী, আল্লাহ রক্ষা করার কারণে ... -সূরা নিসা : ৩৪

 

এখানে  قَوَّامُونَ  -এর তরজমা করা হয়েছে ‘অভিভাবক’। মুফাসসিরীনের ব্যাখ্যামতে তা হচ্ছে,

 

শাসন ও ব্যবস্থায়ন এবং রক্ষা ও নিরাপত্তাবিধানের মাধ্যমে নারীর দেখভাল করা এবং আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তার অবস্থার সংশোধন করা, যেমন শাসকগণ প্রজাসাধারণের দেখভাল করে। তো পুরুষ হচ্ছে নারীর প্রধান ও উপরস্থ;নারীর শাসক ও সংশোধক, যদি সে বেঁকে যায়।-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮; আহকামুল কুরআন ইবনুল আরাবী ২/৪১৬; তাফসীরে কাশশাফ ১/৫০৫; তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৪৯১

 

এই আয়াতে স্ত্রীর উপর স্বামীর অভিভাবকত্বের দুটো কারণ বলা হয়েছে : প্রথমত দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য ও বিচার-বিচক্ষণতার মতো গুণাবলি, দ্বিতীয়ত মোহরানা ও ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয়বহন।

 

এই আয়াতে ‘পুরুষের ব্যয়কৃত সম্পদ’ মানে স্ত্রীর মোহরানা, খোরপোষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ, কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী যা বহন করা অবশ্যকর্তব্য। এ আয়াত প্রমাণ করে, স্ত্রীর নাফাকা ও খোরপোষ স্বামীর উপর ফরয। -তাফসীর ইবনে কাছীর ১/৪৯২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮

 

■ হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

 

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

 

■ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-

تجب السكني لها عليه في بيت خال

মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)

 আরো জানুন- https://ifatwa.info/10894/

 

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

 

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্বামীর সামর্থ্য থাকলে আপনার জন্য আলাদা বাসস্থান ব্যবস্থা করা আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক। তাই আপনি ও আপনার স্বামী আলাদা বাসস্থানে থাকাতে আপনাদের কোনো গোনাহ হবে না। তবে তবুও তাদের সাথে একটু যোগাযোগ ও ভালো ব্যবহার করবেন।  তাদের একটু খোজ খবর নিবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...