আসসালামু আলাইকুম উস্তায।
এক দ্বীনি বোনের প্রশ্নঃ
আমি বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে বিভিন্ন যায়গায় চাকরী সুত্রে বাসা ভাড়া করে থাকি। আমাদের একটি সন্তান আছে,বিয়ের ৫ বছর পার হয়েছে।
গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে(আমার হাজব্যান্ড এর মালিকানা) শ্বশুর শাশুড়ি থাকেন,এক ননদ থাকেন তার বাচ্চা নিয়ে।আমরা ছুটিতে গ্রামে যাই।তখন এমন অবস্থা হয় যে আমি আল্লাহর স্মরণ থেকে অনেক গাফেল হয়ে যাই,খুব বেশি ইবাদাত করতে পারিনা,কোন রকম নামায আদায় করেই সাংসারিক ব্যস্ততা বা বাচ্চা বাহিরে ছোটাছুটি করে,তাকে দেখাশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।এছাড়া ছুটির সময় দেবর, ভাসুররাও বেড়াতে আসে,আর আমার তখন পর্দা করে চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হয়। সবমিলিয়ে বাড়িতে থাকলে মনে হয় আমার দ্বীন,দুনিয়া বিপর্যস্ত হয়ে যায়। ওই পরিবারের সবাই প্রায় দ্বীন থেকে দূরে,যদিও নামাযটা পড়ে ঠিকমতো।এছাড়া হারাম মিউজিক,বেপর্দা চলাফেরা,হাসাহাসি,আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে থাকে।খুব ছটফট লাগে এখান থেকে বের হতে!!
এখন এমন এক অবস্থায় আছি যে,আমার হাজব্যান্ড এর জব নেই।বেকার অবস্থা।তবে চাইলে ছোটখাটো একটা জব এর ব্যবস্থা আল্লাহ করে দিলে শহরে থাকা যায় বাসা ভাড়া করে।আবার চাইলে গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে বাসার মালপত্র নিয়ে চলে যাওয়া যায়।এখন আমি আসলে বুঝতেছিনা আমার কি করা উচিত?গ্রামে বাস করা উচিত(পরিবেশ টা উল্লেখ করেছি) নাকি ঢাকা শহরের মধ্যে একটা জব খুঁযে সেখানেই বাসা ভাড়া করে থাকা উচিত?
১)সাময়িক সমাধান না,সন্তানের পড়াশুনা,নিজের পড়াশোনা(IOM),ঈমান-আমলের সুরক্ষা,ভবিষ্যতের ভালোর জন্য কোথায় থাকা উত্তম হবে?
আবার,আমি শ্বশুরবাড়িতে থাকিনা বলে তারা টিটকারি করে এই বলে, কুরআন হাদিস পড়েও আমি শ্বশুরশাশুড়ির খেদমত করিনা,তাদের সাথে থাকিনা।((এছাড়া,তাদের সাথে আমি দুরুত্ব বজায় রেখে চলি যেহেতু তাদের চলাফেরা,চিন্তাভাবনা আমার ভালো লাগেনা,দুনিয়ামুখী,ভোগ বিলাসী চিন্তা।))আমি যে কিভাবে তাদের সমালোচনা থেকে নিজেকে বাঁচাবো বুঝতেছিনা!মাঝেমধ্যে মন চায় বাড়িতে থেকে তাদের মন জোগাই আবার মনে হয়,দুনিয়াতে কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারবোনা,বরং শুধু আল্লাহকেই সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি।তখন মনে হয়,উনাদের সাথে না থাকলে, উনাদের খেদমত না করে কি আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবো কিনা!!
২)উস্তায,,আমাকে কিছু পরামর্শ দিন।একজন নেককার বান্দা হতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে কি করবো আমি?