আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
4,535 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তায।

এক দ্বীনি বোনের প্রশ্নঃ
আমি বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে বিভিন্ন যায়গায় চাকরী সুত্রে বাসা ভাড়া করে থাকি। আমাদের একটি সন্তান আছে,বিয়ের ৫ বছর পার হয়েছে।
গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে(আমার হাজব্যান্ড এর মালিকানা) শ্বশুর শাশুড়ি থাকেন,এক ননদ থাকেন তার বাচ্চা নিয়ে।আমরা ছুটিতে গ্রামে যাই।তখন এমন অবস্থা হয় যে আমি আল্লাহর স্মরণ থেকে অনেক গাফেল হয়ে যাই,খুব বেশি ইবাদাত করতে পারিনা,কোন রকম নামায আদায় করেই সাংসারিক ব্যস্ততা বা বাচ্চা বাহিরে ছোটাছুটি করে,তাকে দেখাশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।এছাড়া ছুটির সময় দেবর, ভাসুররাও বেড়াতে আসে,আর আমার তখন পর্দা করে চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হয়। সবমিলিয়ে বাড়িতে থাকলে মনে হয় আমার দ্বীন,দুনিয়া বিপর্যস্ত হয়ে যায়। ওই পরিবারের সবাই প্রায় দ্বীন থেকে দূরে,যদিও নামাযটা পড়ে ঠিকমতো।এছাড়া হারাম মিউজিক,বেপর্দা চলাফেরা,হাসাহাসি,আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে থাকে।খুব ছটফট লাগে এখান থেকে বের হতে!!
এখন এমন এক অবস্থায় আছি যে,আমার হাজব্যান্ড এর জব নেই।বেকার অবস্থা।তবে চাইলে ছোটখাটো একটা জব এর ব্যবস্থা আল্লাহ করে দিলে শহরে থাকা যায় বাসা ভাড়া করে।আবার চাইলে গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে বাসার মালপত্র নিয়ে চলে যাওয়া যায়।এখন আমি আসলে বুঝতেছিনা আমার কি করা উচিত?গ্রামে বাস করা উচিত(পরিবেশ টা উল্লেখ করেছি) নাকি ঢাকা শহরের মধ্যে একটা জব খুঁযে সেখানেই বাসা ভাড়া করে থাকা উচিত?

১)সাময়িক সমাধান না,সন্তানের পড়াশুনা,নিজের পড়াশোনা(IOM),ঈমান-আমলের সুরক্ষা,ভবিষ্যতের ভালোর জন্য কোথায় থাকা উত্তম হবে?
আবার,আমি শ্বশুরবাড়িতে থাকিনা বলে তারা টিটকারি করে এই বলে, কুরআন হাদিস পড়েও আমি শ্বশুরশাশুড়ির খেদমত করিনা,তাদের সাথে থাকিনা।((এছাড়া,তাদের সাথে আমি দুরুত্ব বজায় রেখে চলি যেহেতু তাদের চলাফেরা,চিন্তাভাবনা আমার ভালো লাগেনা,দুনিয়ামুখী,ভোগ বিলাসী চিন্তা।))আমি যে কিভাবে তাদের সমালোচনা থেকে নিজেকে বাঁচাবো বুঝতেছিনা!মাঝেমধ্যে মন চায় বাড়িতে থেকে তাদের মন জোগাই আবার মনে হয়,দুনিয়াতে কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারবোনা,বরং শুধু আল্লাহকেই সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি।তখন মনে হয়,উনাদের সাথে না থাকলে, উনাদের খেদমত না করে কি আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবো কিনা!!

২)উস্তায,,আমাকে কিছু পরামর্শ দিন।একজন নেককার বান্দা হতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে কি করবো আমি?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-
تجب السكني لها عليه في بيت خال
মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)
قَوْلُهُ خَالٍ عَنْ أَهْلِهِ إلَخْ) ؛ لِأَنَّهَا تَتَضَرَّرُ بِمُشَارَكَةِ غَيْرِهَا فِيهِ؛؛ لِأَنَّهَا لَا تَأْمَنُ عَلَى مَتَاعِهَا وَيَمْنَعُهَاذَلِكَ مِنْ الْمُعَاشَرَةِ مَعَ زَوْجِهَا وَمِنْ الِاسْتِمْتَاعِ إلَّا أَنْ تَخْتَارَ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا رَضِيَتْ بِانْتِقَاصِ حَقِّهَا هِدَايَةٌ )
স্ত্রীকে এমন একটি বাসস্থান দান করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব,যা স্বামীর পরিবার থেকে খালি থাকবে,কেননা সে অন্যর উপস্থিতির ধরুণ কষ্ট উপভোগ করবে,এবং তার মাল সামানা পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকবে না।তৃতীয় কারো উপস্থিতি স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক জীবন ও একান্ত সময় অতিবাহিত করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এ জন্য একটি পৃথক বাসস্থান স্ত্রীর মৌলিক অধিকার।তবে যদি সে তার নিজ অধিকার বিসর্জন দিতে রাজি হয় যায় তাহলে তার জন্য অনুমিত রয়েছে (যদি এক্ষেত্রে গোনাহের কোনো সম্ভাবনা না থাকে)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
বউমার উচিৎ সুযোগের সৎ ব্যবহার না করে বরং শশুড় শাশুড়ীকে সাথে নিয়ে শশুড় শাশুড়ী ও স্বামীর পরিবারের লোকজনকে আপন মনে করে তাদের সাথে একত্রে বসবাস করা। যদি পর্দা পুশিদার সমস্যা হয়, তাহলে পৃথক বাসায় থাকতে পারবে। এক্ষেত্রে সম্পর্ক ছিহ্ন হলে এর গোনাহ স্বামীর বা বউমার হবে না। পৃথক বাসায় থাকলেও শশুড় শাশুড়ীর জন্য সর্বদা অন্তরে দরদ রাখতে হবে। এবং মনে রাখতে হবে, আপনার স্বামীর জান্নাত তার মায়ের পায়ের নীচে। এ হিসেবে আপনি স্বামীর হয়ে শশুড় শাশুড়ির খেদমত করার নিয়ত অন্তরে রাখবেন। তাদেরকে ঢাকার বাসায় নিয়ে এসে তাদের খেদমত করবেন। এবং স্বামীকে তার মাতাপিতার সাথে উত্তম ব্যবহারের পরামর্শ দিবেন। তাদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া প্রেরণ করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 352 views
...