আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
298 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (56 points)
edited by
১.কোনো এক হিন্দু মহিলা নামে মাত্র এক মুসলিম কে বিবাহ করো বিবাহের সময় সে মুসলিম হয়েছিলো কিনা সেটা জানা নেই।এখন কেউ যদি মন্তব্য করে বলে ওদে সন্তার বৈধ কিনা সন্দেহ আছে।ওদের মধ্যে কে মুসলিম কে কি।ঐ মহিলা যে হিন্দু এ নিয়ে উক্ত ব্যক্তির মনে কোনো সন্দেহ নেই।তবুও বিবরন মতে উক্ত ব্যক্তি ওদের মধ্যে কে মুসলিম কে কি(কি বলছে নাকি হিন্দু বলচে সন্দেহ) বলার কারণে কি তার ইমান চলে যাবে??এ কথা বলাতে কি ঐ হিন্দু মহিলাকে মুসলিম বলা হয়ে যাবে বা তার হিন্দুত্ব নিয়ে সন্দেহ করা হবে?

২.ঐ অভিনেতা কি মুসলিম বলে গন্য হবে?? সে সিনেমাতে হিন্দু  মানুষের রোলও করেছে আবার ঐ ধর্মের নামে কসমও খেয়েছে।একটু বুঝিয়ে বলবেন।

৩.কেউ ইসলামি একটা বিষয় আলোচনা করার সময় যদি দলিল দিতে গিয়ে কুরআনের কোনো একটা আয়াতের অর্থ (আল্লাহ তায়ালা বলেছেন এটা বলার পর) ভুলে যায়  মানুষ কি ভাববে না বলতে পারলে এটা ভেবে নিজের মতো করে উল্টাপাল্টা বানায় বলে (এটা বলার পরপরই আবার সবটা মনে করতে পারছে না কি কি বলছে তখন)যেখানে অন্য আরেকটা আায়াতের অর্থের কিছু অংশ ঢুকিয়ে দেয় এভাবে উল্টো পাল্টা বলার কারণে কি তার ইমান চলে যাবেড?? এতে কি আল্লাহর কালামকে বিকৃত করা হবে

( উল্লেখ্য এখানে সে ঐ আয়াতের আরবি বলেনি বা আয়াত নম্বর ও উল্লেখ করেনি মনে মনে ভেবেছিলো নির্দিষ্ট একটা আয়াতের অর্থের কথা কিন্তু সে বলতে গিয়ে ভুলে যায় এবং এই অন্যায় কাজটা করে ফেলে কিন্তু এটা করার পর খুব খারাপ লাগে তার নিজের ভুল বুঝতে পারে।)

৪.হিন্দুদের একটা গোষ্ঠী আছে যাদের মহিলারা অনেকে মাথায় দিয়ে কাপড় দিয়ে থাকে।এখন কেউ যদি ঐ মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলে ওরাতো মুসলমানদের মতো মাথায় কাপড় দেয় একতা বলাতে কি ইমান চলে যাবে??

সবটা ভালোভাবে পড়ে নিবেন আর একটু বুঝিয়ে বলবেন

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-


(০১)
এক্ষেত্রে তার ঈমান চলে যাবেনা। 

এ কথা বলাতে ঐ হিন্দু মহিলাকে মুসলিম বলা হয়ে যাবেনা।

তার হিন্দুত্ব নিয়ে সন্দেহ করা হবে।

(০২)
শরীয়তের বিধান হলো ইচ্ছাপূর্বক ভাবে নিজেকে নিজে কাফের বলে পরিচয় দেওয়া কুফরী। 

সূরা নাহলের ১০৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (106)

“কেউ বিশ্বাস স্থাপনের পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং প্রত্যাখ্যানের জন্য হৃদয় মুক্ত রাখলে তার উপর আল্লাহ ক্রোধ পতিত হবে এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে (সত্য প্রত্যাখ্যানে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার অন্তর বিশ্বাসে অটল।” (১৬:১০৬)
,

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী তে আছে
"وَمَنْ يَرْضَى بِكُفْرِ نَفْسِهِ فَقَدْ كَفَرَ."
(كتاب السير، الْبَابُ التَّاسِعُ فِي أَحْكَامِ الْمُرْتَدِّين ، مطلب فِي مُوجِبَاتُ الْكُفْرِ أَنْوَاعٌ مِنْهَا مَا يَتَعَلَّقُ بِالْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ، ٢ / ٢٥٧، ط: دار الفكر)
"এবং যে কুফরীতে সন্তুষ্ট থাকে, সে কাফের হয়ে গেছে।

বিস্তারিত জানুনঃ   

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
হিন্দু চরিত্রে অভিনয় করে হিন্দুদের মত পূজা করা, হিন্দুদের বিশ্বাসের কথা বলা, তাদের মত  চালচলন প্রদর্শন, তাদের পূজা অর্চনাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখানো এ সব কিছুই কুফরী।

যদি হিন্দু চরিত্রে অভিনয় করা প্রশ্নে উল্লেখিত অভিনেতা উপরোক্ত সকল কাজ বা আংশিক কাজ করে থাকে। তাহলে তার ঈমান চলে যাবে, তার জন্য তওবা করতঃ নতুন করে ঈমান আনতে হবে। বিবাহিত হলে তার বিবাহ দোহরাতে হবে।
,
(০৩)
এতে আল্লাহর কালামকে বিকৃত করা হবে।
তবে প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে উক্ত ব্যাক্তির ঈমান চলে যাবেনা।
তবে তাকে তওবা করতে হবে।
ভবিষ্যতে যেনো আর এহেন কাজ না হয়,সেই ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে ওয়াদা বদ্ধ হতে হবে।

(০৪)
এ কথা বলাতে কাহারো ঈমান চলে যাবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...