0 votes
525 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আস সালামু আলাইকুম
একজন সিগারেট খায়,আবার গাজাও খায়।সে কি নামাজে ইমামতি করতে পারবে?

1 Answer

0 votes
by (226,160 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

যদি সিখারেট বিড়ি খাওয়ার দ্বারা ইমামের মুখে এমন দুর্গন্ধ না হয়,যাতে মুক্তাদিদের ঘৃণা হয়,তাহলে এমন ব্যাক্তির ইমামতি জায়েজ আছে।
,
 এক হাদিসে নবীজী ﷺ বলেছেন,
مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ
যে ব্যক্তি পেঁয়াজ, রসুন এবং পেঁয়াজের মতো গন্ধ হয় এমন কোনো সবজী খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের ধারে কাছেও না আসে, কেননা; মানুষ যে খারাপ গন্ধ দ্বারা কষ্ট পায়, ফিরিস্তারাও তদ্রূপ কষ্ট পায়। (সহীহ মুসলিম ১/৩৯৫)

আর বলা বাহুল্য যে, সিগারেটের দুর্গন্ধ কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুনের চেয়েও অধিক দুর্গন্ধ। 

قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم: من أکل من ھذہ الشجرة فلا یقربن مسجدنا، وفی روایة فإن الملائکة تتأذی مما یتأذی منہ الإنس (مسلم شریف: ج۱ ص۲۰۹) 
রাসুল সাঃ বলেছেন যে যারা এসব জিনিস খায়,তারা যেনো মসজিদের নিকটবর্তী না হয়,অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে যে ফেরেশতারা এতে কষ্ট পায়। 
,  
والظاھر أن العلة النفرة ولذا قید الأبرص بالشیوع لیکون ظاھراً (شامي: ج۲ ص۳۰۲، ط زکریا دیوبند) 
যার সারমর্ম হলো মুক্তাদিদের মাঝে ঘৃনা তৈরী হওয়াই ইল্লত।  

أی کبصل ونحوہ ممالہ رائحة کریھة للحدیث الصحیح في النھی عن قربان آکل الثوم والبصل قال الإمام العیني في شرحہ علی صحیح البخاري: قلت علة النھي أذی الملائکة وأذی المسلمین ولا یختص بمسجدہ علیہ السلاة والسلام بل الکل سواء لروایة مساجدنا بالجمع (شامی: ج۲ ص۴۳۵، ط زکریا دیوبند)
যার সারমর্ম হলো পিয়াজ,রসুন এবং  এই জাতীয় দুর্গন্ধ যুক্ত বস্তু হওয়া,,,,,, 

সিগারেট খেলে নামায হবে না–এই মর্মে কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির ফতওয়া নেই। তবে বিড়ি-সিগারেট দুর্গন্ধ এবং ক্ষতিকর হবার কারণে মাকরুহ। (ফাতাওয়ায়ে উসমানী-৩/৮৮-৮৯)


আর গাঁজা যেহেতু দেহের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে এবং এটি একটি মারাত্মক নেশার বস্তু তাই এটা অবশ্যই হারাম।
গাজা খাওয়া হারাম,হারাম খোর ফাসেক,ফাসেকের পিছনে নামাজ পড়া তাহরিমি।

ویکرہ امامۃ عبد واعرابی و فاسق) ای من الفسق وھوالخروج عن الاستقامۃ ولعل المراد بہ من یرتکب الکبائر کشارب الخمر والزانی واکل الرباء ونحوذالک (ردالمحتار باب الامامۃ ۱/۱۴)
ফাসেকের ইমামতি মাকরুহ। 

 واما الفاسق فقد عللوا کراھۃ تقدیمہ بانہ لایھتم لا مردینہ وبان فی تقدیمہ للامامۃ تعظیمہ وقد وجب علیھم اھانتہ شرعاً۔ (ایضاً ۱/۴۱۴)

 تجوز امامۃ الاعرابی والا عمی والعبد وولد الزنا والفاسق کذا فی الخلاصۃ الا انھا تکرہ ھ\x0640 کذا فی المتون۔ (ہندیۃ ۱/۸۵ الفصل الثالث فی بیان من یصلح اما ما لغیرہ)

 ولو صلی خلف مبتدع اوفاسق فھو محرز ثواب الجماعۃ لکن لاینال مثل ماینال خلف تقی کذا فی الخلاصۃ۔ (عالمگیریہ ۱/۸۴)

 وفی النھر عن المحیط صلی خلف فاسق او مبتدع نال فضل الجماعۃ وفی الرد: قولہ نال فضل الجماعۃ الخ ان الصلوٰۃ خلفھما اولی من الافراد۔ (ردالمختار باب الامامہ ۱/۴۱۴)

 واذا صلی الرجل خلف فاسق اومبتدع یکون محرزا ثواب الجماعۃ لما روینا من الحدیث لکن لاینال ثواب من یصلی خلف عالم تقی۔ (قاضیخان ۱/۹۲)"

সবগুলোর সারমর্ম হলো ফাসেকের পিছনে যদিও নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে,তবে তাদের পিছনে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি। 
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত গাজাখোর ইমামের পিছনে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি।             


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (25 points)
মারকাযুদ্দাওয়াহর ফতোয়া- আল কাউসার এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যা

১৫৯৫. বর্তমান বিশ্বে বিড়িসিগারেটের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী? দ্বিতীয়ত বিড়ি-সিগারেট খাওয়া ও বিক্রির ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী?

উত্তর
বিড়িসিগারেট পান করা নাজায়েয। কেননা এতে নিজের শারীরিক ক্ষতি তো আছেই, পাশাপাশি অন্যেরও ক্ষতি করা হয়। মুখের দুর্গন্ধের দরুন মানুষ ও ফেরেশতাকে কষ্ট দেওয়া হয়। অপচয়ের বিষয়টিও রয়েছে। তাই তা যেমনিভাবে পান করা যাবে না। তেমনিভাবে তা বিক্রি করাও যাবে না।

-আদ্দররুল মুখতার ৬/৪৫৯; রদ্দুল মুহতার ৫/২৯৫; তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২২৭; ফাতাওয়া ফী শুরবিন দুখান

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...