আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
358 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (66 points)
edited by
১. আমার মানিব্যাগে একটা লোগো রয়েছে যেটা প্রাণী সদৃশ। যদিও চোখ মূখ কান সম্পূর্ণ ভাবে স্পষ্ট না তবে প্রাণীর মুখ রয়েছে এটা নিশ্চিতরূপেই বুঝা যায়। এক্ষেত্রে পকেটের ভেতরে যদি থাকে সেক্ষেত্রে নামাজের ক্ষতি হবে কি??

২. আমার দাঁতের মাঝে ফাকা রয়েছে অনেক। যদি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক করা হয় সেটা জায়েজ হবে কি??

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
হাদিস শরিফে এসেছে-
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم  لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ تَمَاثِيلُ أَوْ تَصَاوِيرُ
‘আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন: ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যে ঘরে মূর্তি কিংবা (প্রাণীর) ছবি আছে।’ [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬৭]

এ জন্য নামাজে কোনো ছবি থাকলে সেই ছবি ঢেকে রাখতে হবে। 

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু ছবিটি পকেটে রেখেই নামাজ আদায় করেছেন, যার কারণে তা দৃশ্যমান হয়নি সেহেতু আপনার নামাজ মাকরুহ হবে না।
আলবাহরুর রায়েক ১/১০৭, আদদুররুল মুখতার ২/৬৪৮

(০২)
ইসলামের দৃষ্টিকোণ হল, মানুষের শরীর আল্লাহর আমানত। এর স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মানুষকে শুধু ভোগ দখলের অধিকার দেয়া হয়েছে। তাই শরীরকে যাচ্ছেতাইভা্বে পরিবর্তন করার অধিকার মানুষ সংরক্ষণ করে না। হ্যাঁ, অসুস্থ্য হলে অঙ্গ বেশি হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু সৌন্দর্যতার নামে শরীরের গঠন পরিবর্তন করা হারাম।

এ কারণেই হাদীসে পরিস্কার শব্দে মানুষের চুল মাথায় সংযোজন করতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সাথে দুই দাঁতের মাঝখানের ফাঁক সৃষ্টি করার জন্য দাতকে কিছুটা কর্তন করতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এসব হাদীস প্রমাণ করে যে, শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রশ্নে উল্লেখিত চিকিৎসার মাধ্যমে দাতের ফাকা জায়গা স্বাভাবিক করা জায়েজ নেই। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: «لَعَنَ اللهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالنَّامِصَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ، وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللهِ

 আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মানবদেহে চিত্র অঙ্কনকারিণী ও অঙ্কনপ্রার্থিণী নারী, (বড় দেখাবার জন্য) কপাল ভ্রুর চুল উৎপাটনকারিণী ও উৎপাটনকামী নারী এবং (সৌন্দর্য সুষমা বৃদ্ধির মানসে) দাঁতের মাঝে (সুষম) ফাঁক সৃষ্টিকারিনী, যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধনকারিণী, এদের আল্লাহ তা’আলা লানত করেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২১২৫] 

أَبَا رَيْحَانَةَ يَقُولُ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ الْوَشْرَ، وَالْوَشْمَ، وَالنَّتْفَ

হযরত আবূ রায়হানা রাঃ বলেন, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতকে চিকন করতে উল্কি আঁকতে এবং চুল উপড়ে ফেলাকে হারাম করেছেন। [সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫১১০] 

আরো জানুনঃ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 449 views
0 votes
1 answer 328 views
...