আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
77 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
reshown by
প্রশ্ন: ১স্ত্রী যদি  ১ তালাক, ২ তালাক,৩ তালাক এইগুলো বলে তারপর রাতে সহবাস করতে চাইলে যদি অভিমান করে স্ত্রী কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া সহবাসে বাধা দিতে দিতে বলে""'' আমি তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছি/আমি তোমার জন্য এখন হারাম(অর্থাত আমাদের সহবাস করা হারাম হবে, সে যেহেতু আমাকে তালাক বলেছে তাই তালাকের পর সম্পর্ক  অবৈধ  হয়ে যায়  তাই সহবাস অবৈধ হয়ে গেছে  এইটা বুঝাইতে বলে কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া অভিমান করে বলছে শুধু,,ও জানতো কাগজে কলমে কোর্টের মাধ্যমে তালাক নাহলে স্বামী স্ত্রী কখনোই অবৈধ হয়না,, হারাম শব্দটা তালাক অর্থ বুঝায়নি,,শুধুমাএ অভিমান করে সহবাস হারাম হয়ে গেছে অর্থে বলছে,,,,নতুন করে কোন  তালাকের উদ্দেশ্য বা নিয়ত ছিলোনা))) তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে?? আমাকে অনেক ভালোবাসে তখন তালাকের মাসালা সম্পর্কে জানতোনা তাই কিছুই মন থেকে বলেনি। আমি তোমার জন্য হারাম  হয়ে গেছি এইটা বলছে স্পষ্ট মনে আছে কিন্তু আমি তোমার জন্য এখন হারাম এইটা বলছে কিনা কারোর ই মনে নাই।

হারাম হয়ে গেছে এইটা কোন তালাকের  নিয়ত বা উদ্দেশ্য করে বলেনি ও শুধু অভিমান দেখায় বলেছে ও তাই এইরকম কেনায়া কথায় কি তালাক হবে?

প্রশ্ন ২:কাবিনে আমার অজান্তে কাজী শর্ত উল্লেখ করে অধিকার দিয়েছে তা আমরা অনেক পরে জানতে পারি যেহেতু আমি অধিকার দিইনাই তাহলে কি এইরকম কথায় তা* হবে?আর মৌখিকভাবেও আমি কখনো অধিকার দিইনাই তাই আমদের বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে কিনা একটু বলবেন প্লিজ।

প্রশ্ন:৩ যদি অধিকার পেয়েও থাকে তাহলে কি এই অবস্থায় তা হবে?

প্রশ্ন ৪:কাবিনে উল্লেখিত শর্ত পাওয়া না গেলেও কি এই অবস্থায় তালাক হবে?

প্রশ্ন:৫ ও যেহেতু সে তালাক বলেছে সেটার ভিওিতে যদি কখনো ভবিষ্যতে  বলে থাকে কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া  "আমাদের সম্পর্কতো অনেক আগেই হারাম হয়ে গেছে(অবৈধ)বা আমিতো তোমার জন্য হারাম(অবৈধ)হয়ে গেছি """ মানে নতুন করো কোন নিয়ত বা উদ্দেশ্য নয় বা হারাম শব্দটা টা তালাক অর্থেও নয় শুধু মাএ পূর্বে যেহেতু তালাক বলেছে তাই তালাক বললে সম্পর্ক অবৈধ হয়ে যায় তাই সম্পর্ক অবৈধ হয়ে গেছে এই অর্থে অভিমান করে নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া  বলে থাকে তাহলে ও কি তালাক হয়ে যাবে???

মেয়েরা তালাক বললে তালাক হয়না  বা উদ্দেশ্য বা নিয়ত ছাড়া কেনায়া বাক্যে তালাক হয়না, আর হারাম শব্দটা তালাক অর্থেও নয় তাই পূর্বের ভিওিতেতো আমাদের সম্পর্ক অবৈধ হবেনা?

প্রশ্ন ৬:কাবিনে কাজী অধিকার দিলেও আমি দিতে চায়না একেএে করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ- 


তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১.বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১।)

আরো জানুনঃ- 

শরীয়তের বিধান হলো স্বামী যদি জেনে শুনে নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়, অথবা সেখানে কাজী সাহেব বা অন্য কেহ হ্যাঁ লিখে দেয়,আর স্বামী তাহা জেনে শুনে নিচে স্বাক্ষর দেয়,আর এই নিকাহ নামা বিবাহের ইজাব কবুল হওয়ার পরে যদি লেখা হয়,তাহলে স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা পাবে। 

তবে যদি এমনটি না হয়,স্বামী যদি না জেনেই নিচে সাইন করে,সে যদি তালাকের ক্ষমতা প্রদানের এই বিষয় সম্পর্কে স্বীকার না করে যে এটার তারই লেখা,অথবা এই নিকাহ নামা যদি বিবাহের ইজাব কবুল হওয়ার আগে লেখা হয়,তাহলে স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা পাবেনা।
 
كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى الطلاق بالكتابة-1/379، المحيط البرهانى، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-4/486، تاتارخانية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-3/380)
সারমর্মঃ
প্রত্যেক ঐ লেখা,যেটা নিজ হাত দিয়ে লিখেনি,নিজের মন সেদিকে ঝুকেওনি,তাহলে তালাক পতিত হবেনা।
যদি সে এটা স্বীকার না করে যে এটার তারই লেখা।    

সুতরাং  যদি স্বামীর দস্তখত করার সময় জানা থাকে যে, কাজী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অধিকার দিয়েছে মর্মে উপরে লিখে দিয়েছে, একথা জানার পরও যদি স্বামী উক্ত কাগজের নিচে সাইন করে, তাহলে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে বলে সাব্যস্ত হবে। সেই হিসেবে স্ত্রী যদি পরবর্তীতে নিজের উপর তালাক পতিত করে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয়ে যায়।

আরো জানুনঃ 
,
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
এখানে যে হারাম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে,তাহা স্পষ্ট শব্দ ব্যবহারের মতো মতোই।

(৩.৪.৫)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার স্ত্রী তালাকের অধিকার পায়নি।
তাই তালাকও হয়নি।

আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আগের মতোই বহাল রয়েছে। 

(০৬)
এক্ষেত্রে সেখানে এমন কিছু শর্ত যুক্ত করে দিবেন,যাহা সচরাচর সংঘটিত হয়না।
যেমন স্বামী যদি একেবারেই ভরনপোষণ না দেয়,স্বামী যদি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়,ইত্যাদি। তাহলে কোনোদিন এসব শর্তও পাওয়া যাবেনা,স্ত্রী তালাকেরও অধিকার পাবেনা।

নমুনা স্বরূপ-

যদি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর উপর শারিরীক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়, বা স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, কিংবা স্ত্রীর ভরণপোষণ না দেয়, এবং এ বিষয়টি স্বামী পক্ষের তিনজন মুরুব্বী এবং স্ত্রী পক্ষের তিনজন মুরুব্বী সত্যায়ন করে, তাহলে স্ত্রী নিজের উপর এক তালাক পতিত করার অধিকার পাবে”।

এরকমভাবে লিখে স্ত্রীকে এক তালাকের অধিকার প্রদান করবে। তিন তালাক কখনোই নয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...