আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
302 views
in পবিত্রতা (Purity) by (21 points)

আসসালামু আলাইকুম। ফরজ গোসল সংক্রান্ত নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর আশা করছি। জাযাকাল্লাহু খায়রান।

(১) কেউ যদি অতীতে অসংখ্যবার অবহেলা করে ফরজ গোসল ঠিকভাবে আদায় করে না থাকে, তাহলে কি তার শরীর সারাজীবন নাপাক থেকে যাবে?

(২) অতীতে যতবার ফরজ গোসল ঠিকভাবে আদায় করে নি, এখন কি গুনে গুনে ততবার সঠিকভাবে ফরজ গোসল আদায় করতে হবে নাকি একবার ঠিকভাবে আদায় করলেই হবে?

(৩) ফরজ গোসলের জন্য কি নিয়ত করতে হয়?ধরুন আজকে কারোর গোসল ফরজ হওয়ার পরও সে যদি ঠিকভাবে ফরজ গোসল আদায় না করে স্বাভাবিক গোসল করে নেয় এবং শরীরের কিছু অংশ শুকনা থেকে যায়, কিন্তু পরবর্তী দিনগুলোতে গোসল করতে গিয়ে, নিয়ত ছাড়াই সেই শুকনা অংশ গুলোতে পানি পৌছে যায়, তাহলে কি তার ওই ফরজ গোসলটি আদায় হয়ে যাবে?

(৪) ফরজ গোসলে কি গড়গড়াসহ কুলি করতে হয় নাকি স্বাভাবিক কুলি করলেই হবে?১ বার কুলি করতে হয় নাকি ৩ বার?

(৫) ফরজ গোসলে নাকে শুধু পানি দিলেই হবে কি? নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক কি? (৬) বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কারণে যদি ফরজ গোসলের সময় নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি না পৌছে, তাহলে ফরজ গোসল আদায় হবে কি?

(৭) ফরজ গোসলে কানের ভিতর কোথাও শুকনা থেকে গেলে ফরজ গোসল আদায় হবে কি? কান পরিষ্কার করতে গিয়ে বারবার যদি মনে হয় কোথাও শুকনা থেকে যাচ্ছে, তাহলে কি করণীয়?

(৮) গোসল ফরজ না হলেও প্রতিদিন যদি ফরজ গোসলের নিয়ম মেনে গোসল করা হয়, তাহলে অসুবিধা আছে কি?

(৯) ফরজ গোসল করার পর যদি নাপাক কাপড় পরিধান করা হয় তাহলে কি ফরজ গোসল পুনরায় আদায় করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (701,520 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এর গোসলের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।     

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِيَدِهِ، ثُمَّ دَلَكَ بِهَا الْحَائِطَ ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৬০২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮)
,
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৫৭,২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫)

আরো জানুনঃ

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই /বোন, 
(০১)
এক্ষেত্রে তিন ফরজ যদি আদায় হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে সমস্যা নেই।

গোসলের তিন ফরজ হলো,কুলি করা,নাকে পানি দেয়া,সমস্ত শরীরে পানি পৌছানো।

যদি এই তিন ফরজ আদায় পূর্ণ ভাবে না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে প্রত্যেক বার গোসলের পর অন্য সময়ে হলেও অবশ্যই সেই বাকি অঙ্গ ধোয়া হয়েছিলো,তাই পানি পৌছানো জায়গা ধোয়ার আগ পর্যন্ত সে নাওয়াক ছিলো।

সারাজীবন নাপাক ছিলো,এমনটি বলা যাবেনা।

আরো জানুনঃ- 

(০২)
একবার ঠিকভাবে আদায় করলেই হবে।

(০৩)
হ্যাঁ, এভাবে ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।
নিয়ত করা আবশ্যক নয়।

(০৪)
তিনবার গড়গড়িয়ে কুলি করা সুন্নাত। এটি আবশ্যক নয়।
স্বাভাবিক ভাবে একবার কুলি করা ফরজ।

(০৫)
শুধু নাকে পানি দেয়া ফরজ।
এতেই গোসল হয়ে যাবে।
,
নাকে পানি দেওয়ার সময় নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ নয়।

(০৬)
এক্ষেত্রে ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।

(০৭)
কানের ভিতর বাহ্যিক অংশে (যতদূর স্বাভাবিক ভাকে আঙ্গুলের সাহায্যে পানি পৌছানো যায়) পানি না পৌছালে গোসল হবেনা।

(০৮)
এতে কোনো অসুবিধা নেই।

(০৯)
না,ফরজ গোসল পুনরায় করতে হবেনা।
নাপাক কাপড় খুলে ফেলার সময় শরীরেরর সেই স্থান একবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

+1 vote
1 answer 451 views
0 votes
1 answer 123 views
...