আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
110 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (35 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
১. মুখ থেকে উদগত সকল লোমই কি দাড়ির  অন্তর্ভুক্ত?মুখের দুপাশের চোয়াল ও থুতনির হাড়ের ওপরে ঔঠা দাড়ি বাদে বাকি মাংসে ওঠা চুলও কি দাড়ির অন্তর্ভুক্ত হবে।চোখের নিচে,নাকের কাছে, ঠোটের নিচে, থুতনির নিচে গলার ওপরে, গলায় উঠা চুল এগুলো কি কাটা যাবে?

গোফের সীমা কতটুকু। আমার গোফ দুপাশ দিয়ে বেড়ে দাড়ির সাথে গিয়ে মিশেছে। গোফের উপরের ঠোটের অংশ বাদ দিয়ে বাকি দুপাশের অংশ কি কাটা যাবে।

২. হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মাসায়েল জানার জন্য বাংলা অনুবাদ বা এ জাতীয় কিছু কিতাবের নাম জানাবেন অনুগ্রহ করে।

৩. আমাদের গ্রামের বাড়ির সবাই আহলে হাদীসের মুহাম্মদী গ্রুপ।গ্রামে গেলে তাদের মতো কি নামাজ পড়া যাবে। যেমন কনুই পর্যন্ত হাত বাধা, রফউল ইয়াদাইন করা, আসরের নামাজ এক মিসালে আদায় করা ইত্যাদি। এগুলো কি করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (716,400 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
চার মাযহাব মতে সহীহ সুন্নাহর আলোকে একমুষ্টি পরিমান দাড়ি রাখা ওয়াজিব।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1039 
اللحية لغة: الشعر النابت على الخدين والذقن، والجمع اللحى واللحى.......... واللحية في الاصطلاح، قال ابن عابدين: المراد باللحية كما هو ظاهر كلامهم الشعر النابت على الخدين من عذار، وعارض، والذقن
শাব্দিকভাবে দাড়ি বলা হয়,ঐ চুল যা দুনু গাল এবং থুতনিতে থাকে।বহুবচন হল,লুহা।পরিভাষায় দাড়ি বলা হয়,যা ইবনে আবেদীন শামী রাহ, বলেছেন,দুনু গাল,কানপট্টির উপর,গালের সামনের অংশ,এবং থুতনি সবকিছুকেই মূলত দাড়ি বলা হয়ে থাকে। 

দাড়িকে আরবীতে লিহইয়া (لحية) বলা হয় । এর আভিধানিক অর্থ হলো থুতনিসহ মুখের দুই পাশের ওই হাড়, যার ওপর দাঁতগুলো অবস্থিত। প্রাপ্ত বয়সে ওই হাড়ের ওপর যে লোম বা কেশ গজায়, ওই লোম বা কেশগুলোকেই হাড়ের নামকরণে লিহইয়া বলা হয়।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১৯/৩৯৬)

দাড়ির সীমান-
দাড়ির সীমানা কানপট্টি বরাবর বাড়ন্ত হাড্ডি থেকে অন্য কানপট্টি বরাবর বাড়ন্ত হাড্ডি পর্যন্ত।এবং নিচের ঠোট থেকে নিয়ে থুতনি পর্যন্ত যে চুল থাকবে সবগুলোই দাড়ির অন্তর্ভুক্ত।খাদ্যনালী এবং খাদ্যনালীর উপরের চুলকে না মুন্ডানো-ই উচিৎ।হ্যা খাদ্যনালীর নিচের চুলকে মুন্ডানো যাবে।(কিতাবুন-নাওয়াযিল-১৫/৫৫৪)
যেমন ফাতাওয়ায়ে শামীতে (১/১০০) বর্ণিত রয়েছে,
وظاهر كلامهم أن المراد بها الشعر النابت على الخدين من عذار وعارض والذقن.وفي شرح الإرشاد: اللحية الشعر النابت بمجتمع الخدين والعارض ما بينهما وبين العذار وهو القدر المحاذي للأذن، يتصل من الأعلى بالصدغ ومن الأسفل بالعارض بحر.
দাড়ির চতুর্দিক এক মুষ্টি পরিমাণ হওয়াই বাঞ্চনীয়।কোনো দিক থেকেই কর্তন করা যাবে না।(কিতাবুন-নাওয়াযিল-১৫/৫৫৪,ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-২৭/৪৮৩)  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1829

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
 মাংসে ওঠা চুলও দাড়ির অন্তর্ভুক্ত নয়।চোখের নিচে,নাকের কাছের চুলও দাড়ির অন্তর্ভুক্ত নয়। ঠোটের নিচে, থুতনির নিচে গলার ওপরের চুল দাড়ির অন্তর্ভুক্ত। তবে গলার নীচের চুল দাড়ির অন্তর্ভুক্ত নয়।

গোফের উপরের ঠোটের অংশ বাদ দিয়ে বাকি দুপাশের অংশ কাটা যাবে।

(২)হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মাসায়েল জানার জন্য  ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি বাংলা দেখতে পারেন।

(৩) আপনাকে নির্দিষ্ট একটি মাযহাব মেনেই সমস্ত ইবাদত করতে হবে। সুতরাং বিশেষ কোনো এলাকায় গিয়ে সেখানকার মত ইবাদত করা যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (35 points)
হুজুর চার মাজহাব অনুযায়ী দাড়ি এক মুষ্টি ওয়াজিব কথাটা একটু তাহকিক করার অনুরোধ করছি।আমার জানামতে হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী একমুষ্টি ওয়াজিব না সুন্নত একমুষ্টির নিচে কাটা হারাম নয় মাকরুহ তবে সেভ হারাম।অনেক বড় বড় হাম্বলী আলেমদের দেখেছি যারা একমুষ্টির নিচে দাড়ি ছেটেছেন।তাদের মতে এটা মাকরূহ। সম্ভবত মালিকিদেরও এরকম কাছাকাছি ফতোয়া। 
চার মাজহাব মতে এক মুষ্টি ওয়াজিব কথাটা তাহকিকের প্রয়োজন মনে হচ্ছে। প্রয়োজনে আপনারা অন্য মাজহাবের আলিমদের সাথে মাশওয়ারা করে নিতে পারেন।
জাঝাকাল্লাহু খইর

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...