আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (23 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১।আমার এক আপনজন একটি স্বপ্ন দেখেছে যে, একটি অনুষ্ঠানে সে উপস্থিত ছিল এবং তার সামনে সাদা কাপড় পরিহিতা একজন মানুষ ছিল। তো হঠাৎ কালো কাপড়ে কেউ একজন আসছে( সে মানুষ নাকি অন্য কিছু তা জানা যায়নি)। এসে সাদা কাপড় মানুষের সামনে গেলে সাদা মানুষ মারা যায়, তখন আমার আপনজন সে বলে ভাগ্যিস আমি বেচে গেছি। এর ব্যাখ্যা চাচ্ছি ইন শা আল্লাহ।
২। লোকাল বাসে যাতায়াত করা লাগে প্রতিদিনই, সবচেয়ে ভালো বাসায় থাকা জানি কিন্তু স্কুল কলেজের জন্য যাওয়া লাগে।  তো লোকাল বাসে অনেক সময় দাঁড়ায় থাকা লাগে পাশ দিয়ে নন মাহরাম যায় মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত গায়ে টাচ লেগে যায়, বা অনেকে আক্কেলহীন মানুষ গা ঘেষে যায়, এর জন্য গুনাহ হবে? আর হলে কিভাবে এর সমাধান করব। আবার দোকানে বা বাস কন্ডাকটর টাকা নেওয়ার সময় হাতে স্পর্শ লাগে,আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যেন না লাগে তারপরেও কিছু মানুষ তারাহুরো করে যার কারনে হাতে স্পর্শ লাগে এখন এটা ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত তারা করে জানি না। এর জন্য আমার গুনাহ হবে? হলে কিভাবে কি সমাধান করব?

৩। আমার এক বান্ধুবির অনিয়মিত পিরিয়ড। তার ২, ৩ মাস টানা থাকে, এখন নিয়ম হচ্ছে আগের ডেট মনে রেখে সর্বোচ্চ ১০ দিন বা আগে যতদিন থাকত সে হিসেবে কাউন্ট করবে। কিন্তু আগে ওর ডেট কি ছিল তা ওর মনে নেই তাই কখন পিরিয়ড আর কখন ইস্তেয়াজা বুঝা যাচ্ছে না, কারন দেখা যায় ৩মাস ৪ মাস থাকে সুস্থতা বলতে হাতে গনা কয়েকদিন থাকে সেক্ষেত্রে কি মাসালা।

1 Answer

0 votes
by (678,880 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/30361/ ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।

তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
 ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 
,

হাদীস শরীফে এসেছে  

خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ الرُّؤْيَا مِنْ اللهِ وَالْحُلْمُ مِنْ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأٰى أَحَدُكُمْ شَيْئًا يَكْرَهُه“فَلْيَنْفِثْ حِينَ يَسْتَيْقِظُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيَتَعَوَّذْ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّه“وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَإِنْ كُنْتُ لأَرَى الرُّؤْيَا أَثْقَلَ عَلَيَّ مِنَ الْجَبَلِ فَمَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ هٰذَا الْحَدِيثَ فَمَا أُبَالِيهَا.

আবূ ক্বাতাদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। 

আবূ সালামাহ বলেনঃ আমি যখন এমন স্বপ্ন দেখি যা আমার কাছে পাহাড়ের চেয়ে ভারি মনে হয়, তখন এ হাদীস শোনার ফলে আমি তার কোন পরোয়াই করি না। [বুখারী ৫৭৪৭ মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬১, আহমাদ ২২৭০৭] 
,
ومن رای انہ مات…………ان رای شیئا من ہیئۃ الاموات کالغسل والکفن فذالک زیادۃ فی نقص دینہ (تعطیر الانام ۲۹۱؍ج۲؍باب المیم،موت،مطبوعہ مصر)

যার সারমর্ম হলো কেহ স্বপ্নে দেখে যে সে মারা গিয়েছে,,বা মৃতদের হালত,কাফন গোসল ইত্যাদি  দেখে,তাহলে সেটি নিজের দ্বীনের কমতি মনে করতে হবে।
,
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ তে এসেছে যে স্বপ্নে মৃত মানুষ দেখা এটি কবরের কথা স্বরন করে দেওয়ার জন্য।
(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ ২৯/১৬০)

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত আপনার সেই আপনজনের জন্য করনীয়ঃ- 
নিজের আমল বাড়িয়ে দিতে হবে,দ্বীনদার লোকদের সাথে উঠাবসা করতে হবে,পবিত্র হালতে থাকতে হবে,অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে হবে। 
বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার,ফরজ সহ নফল নামাজ পড়তে হবে। 
দান ছদকাহ করতে হবে।
,
স্বপ্নের কথা কাউকে বলা যাবেনা।

(০২)
কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ এর সাথে যেনী স্পর্শ না লাগে,সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। 

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এভাবে গায়রে মাহরাম পুরুষ এর সাথে স্পর্শ লাগলে আপনাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
তবে এভাবে নিয়মিত যাতায়াত করা যুক্তিসঙ্গত হবেনা।

তাই অন্য কোনো উপায় না থাকলে এ অবস্থা থেকে  নিজেকে নাজাত দিতে নিয়মিত যাতায়াত ছেড়ে দিয়ে বাসায় পড়াশোনা করাই একান্ত কর্তব্য বলে মনে হচ্ছে।
শুধু পরীক্ষার সময় গিয়ে যুক্ত হবেন।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৩)
সে ১০ দিন হায়েজ ধরবে,এরপর ১৫ দিন পবিত্রতা ধরবে।
এরপর আবার  ১০ দিন হায়েজ ধরবে,তারপর ১৫ দিন পবিত্রতা ধরবে।

যতদিন পিরিয়ড চলবে,সাদা স্রাব না আসবে,সে এভাবেই গণনা চালিয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...