আপনার ঐ শিক্ষক Loaded Question Fallacy (জটিল প্রশ্ন ভ্রান্তি
/ফাঁদধরানো প্রশ্নও বলা হয়
) করেছে। এটি একটি যুক্তিগত ত্রুটি যেখানে একটি প্রশ্নে এমন একটি অনুমান থাকে যা প্রমাণ করার আগেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়।
যেমন,
"তুমি কি মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করেছ?"
এই প্রশ্ন পূর্বথেকে ধরেই নিচ্ছে আপনি মিথ্যা কথা বলতেন! কিন্তু এই অনুমান ভুলও হতে পারে। এমন হতেই পারে আপনি কখনই মিথ্যা বলতেন না। অথচ প্রশ্নকারী এটা তার প্রশ্নের মাধ্যমে অনুমান করে নিয়েছে।
ঠিক তেমনই ঐ শিক্ষকও যখন বলেছিল, "ইসলামের শেষ নবীর জীবনীতে গর্ব করে বলা হয় তিনি নিরক্ষর ছিলেন। তাহলে তার উপর আস্ত একটা আসমানি কিতাব নাজিল হলো কিভাবে?"
সে ধরেই নিচ্ছে/অনুমান করে নিচ্ছে, নিরক্ষর ব্যক্তির উপর আসমানি কিতাব নাজিল হতে পারে না! অথচ তা সত্য নয়। একটা মিথ্যা অনুমানের উপর উনি এই প্রশ্নটা করেছেন।
প্রশ্নটা এভাবে করলে ঠিক হতো, "আল্লাহ কেন নিরক্ষর নবীর উপর নবুয়ত পাঠালেন?"
মজার ব্যাপার, এর উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন!!!
সূরা আল আনকাবুত, আয়াত ৪৮-৪৯ : "
তুমি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করনি, আর তুমি নিজ হাতে কোন কিতাব লেখনি, এমন হলে মিথ্যাবাদীরা সন্দেহ পোষণ করত। বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরে তা (কুরআন) এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। অন্যায়কারীরা ছাড়া আমার নিদর্শনাবলীকে কেউ অস্বীকার করে না।"
অর্থাৎ, নিরক্ষর কোনও লোকের পক্ষে কুরআনের মতো অলৌকিক কোনও বই লিখা সম্ভব নয়। সুতরাং, অবশ্যই তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে!!
আমার এই জবাব দিয়ে আশা করি উপকৃত হবেন! বারাকাল্লাহু ফিক।