আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
107 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (31 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমার নানার ছোট  ভাইয়ের স্ত্রী (আমার আম্মার চাচি) উনি মৃত্যুশয্যায়। উনার তিনজন সন্তান ও অনেক আত্মীয়-স্বজন, নাতি নাতনি রয়েছে। আমার আম্মার সাতজন ভাই বোন, এছাড়াও আম্মার আরো অনেক চাচাতো ভাই বোন রয়েছে।

কিন্তু, আমার ওই নানি ওরে কেবল চার পাঁচ দিন ধরে আমার আম্মার নাম বলে যাচ্ছে, আম্মার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। এমন না যে উনি সুস্থ থাকাকালে আমার আম্মা খুব প্রিয় মানুষ ছিল উনার। উনার কিছু নাতি নাতনি ওনার খুব প্রিয় ছিল। উনার সন্তানেরা সবাই খুব ভালো কিন্তু ততটা দ্বীনদার না। উনি মৃত্যুশয্যায় বারবার বলছেন উনি ভুল করেছেন, ইসলাম  পালন করেন নাই। উনি উনার এক জা কে ডেকে বলছেন, বোরকা পড়তে নিয়মিত, উনি এতটা পর্দানশীল ছিলেন না।

উনি আমার আম্মার জন্য বিছানা থেকে উঠে যাচ্ছেন বারবার করে, এতটা ডেস্পারেট হয়ে যাচ্ছেন, কেন হচ্ছেন বুঝতে পারছি না। সারাক্ষণ আমার আম্মার নাম বলে যাচ্ছেন।উনি উনার স্বামী সন্তানকে খুব ভালো না চিনলেও  আম্মাকে চিনছেন সব সময়।

আমার আম্মা, সামনে উপস্থিত হলে, উনি বলছেন আমার আম্মাকে নিয়ে উনি কোথাও যাবেন, আম্মা কোথায় যাবেন জিজ্ঞাসা করলে, উনি বলেন এক জায়গায় যাবেন। আম্মাকে হাত দিয়ে আদর করে দিচ্ছেন। যা অন্য কাউকেই করছেন না।   উনি মাঝে মধ্যে আমার(আপন)  মৃত নানীকে দেখেন যে উনি তাকে ডাকছেন, এছাড়াও মৃত আত্মীয়-স্বজন উনার কাছে এসেছেন।

আমার প্রশ্ন হল, ব্যাপারটা, বুঝে উঠতে পারছি না কাইন্ডলি। আমার আম্মা আলহামদুলিল্লাহ অন্য সবার থেকে পর্দা করেন মোটামুটি, পুরোপুরি সহি পর্দা করতে পারেন নি এখনো।

কিন্তু কেন উনি বারবার (সুস্থ থাকাকালে আমার আম্মাকে খুব ভালবাসতেন এমন না কিন্তু) আমার আম্মাকে ডেকেই যাচ্ছেন। ঘরভর্তি মানুষ থাকলেও উনি আমার আম্মার খোঁজ করছেন।উনি কেন এরকম করে আমার আম্মাকে ডেকে যাচ্ছেন?আমার আম্মা   কে নিয়ে উনি কোথাও যাবেন বলছেন। আসলে বুঝতে পারছি না, কেন উনি এত বেশি ডাকছেন। এত মানুষ বাদ রেখে, আমার নানির বাড়ির আত্মীয়-স্বজন অনেক বেশি, ফ্যামিলি টা অনেক বড়।

উনার এই সারাক্ষণ  আম্মাকে ডাকাডাকি ও আম্মাকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছি না। কেন হচ্ছে কাইন্ডলি? ডাক্তার উনাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন উনার সময় খুব বেশি নাই, এরকমটাও বলেছেন। উনি বারবার বলছেন উনি চলে যাবেন ভালো লাগছে না, অনেকদিন থেকেছেন ইত্যাদি । স্বামী সন্তানদেরকে মাঝে মাঝে চিনেন আবার চিনেন ও না। এক্ষেত্রে আমার আম্মার কি করনীয়? আমাদের পক্ষ থেকে কি করণীয়? আসলে উনি বলছেন আমার আম্মাকে নিয়ে যাবেন ব্যাপারটা আমি ভয় পাচ্ছি। কাইন্ডলি কেন এমন হচ্ছে একটু জানাবেন???এটা কি আসলে কোন ইঙ্গিত বহন করে??
আর একটা প্রশ্ন, উনি কি সাখরাতুল মাউতে আছেন, এই সময়টা কতটা দীর্ঘ হয় /হতে পারে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মোল্লা আলী ক্বারী রাহ, উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় লিখেন,
 فاقرءوها عند موتاكم "، أي مشرفي الموت أو عند قبور أمواتكم، فإنهم أحوج إلى المغفرة، وقال الطيبي: الفاء جواب شرط محذوف، أي إذا كانت قراءة يس بالإخلاص تمحو الذنوب، فاقرءوها عند من شارف الموت حتى يسمعها ويجريها على قلبه فيغفر له ما قد سلف اهـ ويمكن أن يراد بالموتى الجهلة أو أهل الغفلة 
মুমূর্ষু ব্যক্তি বা কবরের সম্মুখে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করো।ইমাম তিবী রাহ বলেন,যেহেতু সূরা ইয়াসিন গোনাহ সমূহকে মিটিয়ে দেয়,তাই মুমূর্ষু ব্যক্তির সামনে তোমরা সূরা ইয়াসিনকে তেলাওয়াত করো।যাতে করে ঐ মুমূর্ষু ব্যক্তি শ্রবণ করে জবান দ্বারা উচ্ছারণ করতে পারে।অতঃপর আল্লাহ চাহে তো তার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। অথবা হাদীসে মৃত ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,গাফেল বা জাহিল ব্যক্তি।তখন অর্থ হবে,তোমরা গাফেল বা জাহিল ব্যক্তির সম্মুখে কোরআনে কারীমকে তেলাওয়াত করো। 
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1655

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার মায়ের চাচি উনি অন্তর থেকেই আপনার আম্মকে ভালবাসতেন। সেজন্যই তিনি এমনটা করছেন। ভয়ের কোনো কারণ নেই। উনার পাশে বসে সূরা ইয়াসিন এবং সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা উচিত। আপনারা সামর্থ্য অনুযায়ী দান সদকাহ করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...