আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ
১.সম্মানিত শায়েখ, আমাদের পরিবার বংশধর। আমার দাদার দাদার আমল থেকেই তাদের অনেক সম্পত্তি। সেখান থেকে নাকি কোথায় থেকে আমি জানিনা, আমার বাবা- চাচাদের মাঝে একটা অহংকার আছে।
আমার বাবা পড়ালেখা করেননি। কিন্তু শিক্ষিত মানুষকে খুব মূল্যায়ন করেন। যারা পড়ালেখা করে না তাদের পিতামাতাকে তিনি অপমান করেন, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। আমার আপন জেঠা দুনিয়াবি জ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত এবং বিরাট ধনী এবং উচ্চমহলে বিচরণকারী একজন মানুষ। আমার বাবা ওনার প্রতি এতই ভক্ত যে ভাই ছাড়া কিছুই বুঝে না।
২০১৮ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। তখন থেকে আমার বাবার কাছে, জেঠার কাছে আমার অন্যরকম মর্যাদা। হয়ত, এতে আমার বাবার ভিতরে অহংকার আরো বেড়ে যায়। আমরা তো গ্রামে থাকি। তাই চারপাশে আমার নাম ছড়িয়ে পড়ে। আমার বাবা আমাকে নিয়ে গর্ব করে বেড়াত। সবার স্বপ্ন ছিল, আমি সরকারি বড় অফিসার হবো। আমার বাবা, সবাইকে তাই বলে বেড়াত। কিন্তু ২০২১ সালে আমার মাঝে দ্বীনের বুঝ আসে। তখন আমি পুরো বিপরীত এক মানুষ হওয়া শুরু করি। আমার জীবনের মিশন বানাই ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা, দাওয়াতি কাজ করা। চাকুরির পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, মাদ্রাসায় ভর্তি হই। চাকুরী না করার সিদ্ধান্ত নেই। আমি মাস্টার্সও করিনি। ২০২৪ সালে আমি বাড়িতে চলে আসি। তখন থেকে শুরু হয় আমার জীবনের কঠিন ঝড়। আমার বাবা, জেঠা আমাকে মানসিক আঘাত দেওয়া শুরু করে।বিদ্রুপ, অপমান, গালি গালাজ চলছে আমার উপর।আমি নাকি তাদেরকে ডুবিয়েছি। তাদেরকে ছোট করেছি। তারা মুখ দেখাতে পারে না। পড়ালেখা করে এখন ঘরে বসে আছি- এটা তাদের কাছে অত্যন্ত লজ্জার। ঘরে আমি আমার বাবার ভয়ে সবসময় শঙ্কিত থাকি। টিউশন করি বাসায়, নিজের খরচ চালায়। এতেও তিনি লজ্জায় শেষ হয়ে যায়। দুনিয়ার যশ, খ্যাতি, টাকা পয়সা- এটাই ওনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
সম্মানিত শায়েখ, বাড়িতে এসে আমি আমার সময়টা অহেতুকভাবে শেষ করিনি। মাদ্রাসার পড়াটা ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করেছি। এখন কুরআন তর্জমা করে পড়তে পারি মোটামুটি। ঘরে থেকে আমি পরম তৃপ্তি নিয়ে সলাত আদায় করতে পেরেছি। বাহিরে গেলে আমার সলাত এলোমেলো হয়ে যায়, আর প্রাণ পায় না। আবার বাহিরে গেলে চোখের হিফাজত করতে পারিনা ঠিকভাবে। বাহিরে গেলে পরপুরুষের সাথে কথা বলতে গেলে সবসময় সাবধান থাকাও হয়ে উঠে না। হোস্টেলে থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে থেকে শরীরট এখন অনেক রিকভার করেছে।
আমার এখনো বিয়ে হয়নি ওস্তায। এটা নিয়েও যন্ত্রণা পাচ্ছি। এ নিয়ে অনেক লজ্জা পায়, ছোট হয়ে থাকি।
মাঝে মাঝে মনে হয়, আচ্ছা আমি চাকুরী করি। কিন্তু মনে হয়, এই দেড় বছর বাড়িতে থেকে আমি যে পরম প্রশান্তি ও তৃপ্তি পেয়েছি, তা আমি হারাতে চাই না। আমি ঘরেই থাকতে চাই। আমি বিয়ের জন্য দুআ করছি। স্বামীর আনুগত্য, সন্তান প্রতিপালন, নিজের ইলম অর্জন- এসবেই আমি থাকতে চাই। পরিবারের সবাই বলে, চাকুরী হলে বিয়েটা হয়ে যেত। কিন্তু ওস্তায, আমি তো এমন স্বামী চাই না, যিনি চাকুরীজীবি মেয়ে বিয়ে করবেন। আর ওস্তায, আগে থেকেই আমি ঘরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। বাহিরের কোলাহল, পুরুষের দৃষ্টি, গায়ে এসে পড়া এগুলো ভালো লাগে না।
কিন্তু ওস্তায, আমার অন্তরে প্রশ্ন আসে, আমি কি ঠিক করছি? বাবা- মাকে কষ্ট দিচ্ছি? ওস্তায, চাকুরী তো তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য না। তারা চায়, মানুষকে গর্ব করে বলবে- এটাই মূল চাওয়া।
ওস্তায, এসব বিবেচনায় কি ঠিক কি বেঠিক আমি এসব নিয়ে ভিতরে কনফিউশানে থাকি। সব বিবেচনায় আমাকে একটা পরামর্শ দিন, যা আমার দ্বীন এবং দুনিয়ার জন্য উত্তম
২. ওস্তায, আমাদের এখানে মানুষ ইসলামের ফরজ বিধান থেকেই অনেক দূরে। আমার পাশের বাড়ির মানুষ গুলো নিম্ন শ্রেণির। ওদের অনেকের সাথে আমার পরিচয় আছে। ওনারা ইসলামের কথা শুনতে আসে। এবং ওনাদের ভালো লাগে। ওনারা চায়, কেউ যদি ওনাদেরকে এসব কথা বলতো! আমারও আশা তাদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করার। কিন্তু আমার পরিস্থিতি বিবেচনায়, অগ্রসর হতে ভয় পায়। আমার বাবা, সমাজের মানুষ কোন দৃষ্টিতে নিবে তাও ভয় পাই।
ইচ্ছে করে, সপ্তাহ একদিন তাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘরে অথবা তাদের বাড়িতে বসি। এ বিষয়ে আপনার কাছে পরামর্শ চাই।