আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
86 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ
১.সম্মানিত শায়েখ, আমাদের পরিবার বংশধর। আমার দাদার দাদার আমল থেকেই তাদের অনেক সম্পত্তি। সেখান থেকে নাকি কোথায় থেকে আমি জানিনা, আমার বাবা- চাচাদের মাঝে একটা অহংকার আছে।
 আমার বাবা পড়ালেখা করেননি। কিন্তু শিক্ষিত মানুষকে খুব মূল্যায়ন করেন। যারা পড়ালেখা করে না তাদের পিতামাতাকে তিনি অপমান করেন, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। আমার আপন জেঠা দুনিয়াবি জ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত এবং বিরাট ধনী এবং উচ্চমহলে বিচরণকারী একজন মানুষ।  আমার বাবা ওনার প্রতি এতই ভক্ত যে ভাই ছাড়া কিছুই বুঝে না।
২০১৮ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। তখন থেকে আমার বাবার কাছে, জেঠার কাছে আমার অন্যরকম মর্যাদা। হয়ত, এতে আমার বাবার ভিতরে অহংকার আরো বেড়ে যায়। আমরা তো গ্রামে থাকি। তাই চারপাশে আমার নাম ছড়িয়ে পড়ে। আমার বাবা আমাকে নিয়ে গর্ব করে বেড়াত। সবার স্বপ্ন ছিল, আমি সরকারি বড় অফিসার হবো। আমার বাবা, সবাইকে তাই বলে বেড়াত।  কিন্তু ২০২১ সালে আমার মাঝে দ্বীনের বুঝ আসে। তখন আমি পুরো বিপরীত  এক মানুষ হওয়া শুরু করি। আমার জীবনের মিশন বানাই ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা, দাওয়াতি কাজ করা। চাকুরির পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, মাদ্রাসায় ভর্তি হই। চাকুরী না করার সিদ্ধান্ত নেই। আমি মাস্টার্সও করিনি। ২০২৪ সালে আমি বাড়িতে চলে আসি। তখন থেকে শুরু হয় আমার জীবনের কঠিন ঝড়। আমার বাবা, জেঠা আমাকে মানসিক আঘাত দেওয়া শুরু করে।বিদ্রুপ, অপমান, গালি গালাজ চলছে আমার উপর।আমি নাকি তাদেরকে ডুবিয়েছি। তাদেরকে ছোট করেছি। তারা মুখ দেখাতে পারে না। পড়ালেখা করে এখন ঘরে বসে আছি- এটা তাদের কাছে অত্যন্ত লজ্জার। ঘরে আমি আমার বাবার ভয়ে সবসময় শঙ্কিত থাকি। টিউশন করি বাসায়, নিজের খরচ চালায়। এতেও তিনি লজ্জায় শেষ হয়ে যায়। দুনিয়ার যশ, খ্যাতি, টাকা পয়সা- এটাই ওনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
সম্মানিত শায়েখ, বাড়িতে এসে আমি আমার সময়টা অহেতুকভাবে শেষ করিনি। মাদ্রাসার পড়াটা ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করেছি। এখন কুরআন তর্জমা করে পড়তে পারি মোটামুটি। ঘরে থেকে আমি পরম তৃপ্তি নিয়ে সলাত আদায় করতে পেরেছি। বাহিরে গেলে আমার সলাত এলোমেলো হয়ে যায়, আর প্রাণ পায় না। আবার  বাহিরে গেলে চোখের হিফাজত করতে পারিনা ঠিকভাবে। বাহিরে গেলে পরপুরুষের সাথে কথা বলতে গেলে সবসময় সাবধান থাকাও হয়ে উঠে না। হোস্টেলে থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে থেকে শরীরট এখন অনেক রিকভার করেছে।
আমার এখনো বিয়ে হয়নি ওস্তায। এটা নিয়েও যন্ত্রণা পাচ্ছি। এ নিয়ে অনেক লজ্জা পায়, ছোট হয়ে থাকি।
মাঝে মাঝে মনে হয়, আচ্ছা আমি চাকুরী করি। কিন্তু মনে হয়,  এই দেড় বছর বাড়িতে থেকে আমি যে পরম প্রশান্তি ও তৃপ্তি পেয়েছি, তা আমি হারাতে চাই না। আমি ঘরেই থাকতে চাই। আমি বিয়ের জন্য দুআ করছি। স্বামীর আনুগত্য, সন্তান প্রতিপালন, নিজের ইলম অর্জন- এসবেই আমি থাকতে চাই। পরিবারের সবাই বলে, চাকুরী হলে বিয়েটা হয়ে যেত। কিন্তু ওস্তায, আমি তো এমন স্বামী চাই না, যিনি চাকুরীজীবি মেয়ে বিয়ে করবেন। আর ওস্তায, আগে থেকেই আমি ঘরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। বাহিরের কোলাহল,  পুরুষের দৃষ্টি, গায়ে এসে পড়া এগুলো ভালো লাগে না।
কিন্তু ওস্তায, আমার অন্তরে প্রশ্ন আসে, আমি কি ঠিক করছি? বাবা- মাকে কষ্ট দিচ্ছি?  ওস্তায, চাকুরী তো তাদের  প্রয়োজন মেটানোর জন্য না। তারা চায়, মানুষকে গর্ব করে বলবে- এটাই মূল চাওয়া।
ওস্তায, এসব বিবেচনায় কি ঠিক কি বেঠিক আমি এসব নিয়ে ভিতরে কনফিউশানে থাকি। সব বিবেচনায় আমাকে একটা পরামর্শ দিন, যা আমার দ্বীন এবং দুনিয়ার জন্য উত্তম
২. ওস্তায, আমাদের এখানে মানুষ ইসলামের ফরজ বিধান থেকেই অনেক দূরে। আমার পাশের বাড়ির মানুষ গুলো নিম্ন শ্রেণির।  ওদের অনেকের সাথে আমার পরিচয় আছে। ওনারা ইসলামের কথা শুনতে আসে। এবং ওনাদের ভালো লাগে। ওনারা চায়, কেউ যদি ওনাদেরকে এসব কথা বলতো! আমারও আশা তাদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করার। কিন্তু আমার পরিস্থিতি বিবেচনায়, অগ্রসর হতে ভয় পায়। আমার বাবা, সমাজের মানুষ কোন দৃষ্টিতে নিবে তাও ভয় পাই।
ইচ্ছে করে, সপ্তাহ একদিন তাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘরে অথবা তাদের বাড়িতে বসি। এ বিষয়ে আপনার কাছে পরামর্শ চাই।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

প্রয়োজন, অপরাগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শরীয়ত তাদের ওপর এমন দায়িত্ব আরোপ করে নি, যার কারণে তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াতযুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’(সূরা আহযাব ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ، وَإِنَّهَا لا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا

‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরানী ২৯৭৪)

নারী মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‘তাদের জন্য তাদের ঘর উত্তম।’ (আবু দাউদ ৫৬৭)

নারীদের চাকরির বিধান জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার অবস্থান সঠিক।
এক্ষেত্রে সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করে দ্রুত বিবাহের চেষ্টা ও আমল করার পরামর্শ থাকবে। 

(০২)
এক্ষেত্রে আপনি দৈনিক বা সাপ্তাহিক তালিমের ব্যবস্থা করতে পারেন,এবং পাশাপাশি তাদেরকে হেদায়াতের বানী শোনাতে পারেন,পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন,ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে হেদায়াত দিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
সম্মানিত শায়েখ, ২য় প্রশ্নের উত্তরটা কি পরিবারের জন্য, নাকি প্রতিবেশীদের মাঝে দাওয়াতে জন্য। 
২য় প্রশ্নটি প্রতিবেশীদের মাঝে দাওয়াতের ব্যাপারে পরামর্শ চেয়েছি। উত্তরটি ক্লিয়ার হতে পারছি না। একটু বলতেন যদি মিন ফাদ্বলিক 
by (770,460 points)
প্রতিবেশীদের মাঝে দাওয়াতের ক্ষেত্রেও আপনি এমন পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...