আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
366 views
in হজ ও উমরা (Hajj and Umrah) by (2 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

আমার একটা বিষয় জানা খুবই জরুরী।

আমার বয়স ৩১+

ডিভোর্সী একজন নারী ,

আমি আমার পরিবারের বড় মেয়ে, বাবা দায়িত্ববান না,  আমার ছোট ২ বোন আছে, কিন্তু আমিই আমার পরিবারের পুরো ভরনপোষণের দায়িত্ব পালন করতেছি ১০-১২ বছর যাবৎ আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি অসুস্থ, অনেক চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু উন্নতি নেই, ঘরে বসে যে চাকরি করতাম এটার অবস্থাও ভালোনা, হালাল হারাম কন্টেন্ট বেছে কাজ করি বলে বসও অপছন্দ করেন, বেতনও একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন, বলেন যে কোন সময় চাকরিও চলে যেতে পারে।

আমার বায়তুল্লাহ যাওয়ার জন্য জান বের হয়ে যাচ্ছে অনেক কষ্টে আমার উমরাহ এর জন্য টাকা জমিয়েছি, জমাইতে পারিনা, কখনো চুরি হয়ে যায়, নাহয় আমার চিকিৎসায় খরচ হয় , কোনভাবেই উমরাহ এর ফুল টাকা জমাইতে পারিনি, এবার পারছি আলহামদুলিল্লাহ

 আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার মাহরাম কেউ নেই, আব্বু-আম্মুর দ্বীনের বুঝ নেই, এবং উনাদের নেওয়ার মতো সামর্থ্যও আমার নেই, ( ভবিষ্যতে যদি হয় ইন'শা'আল্লহ উনাদের নিয়ে যাবো),

এখন শুধু আমি যেতে চাচ্ছি, কিন্তু আমি জেনেছি মেয়েদের মাহরাম ছাড়া উমরাহ হবেনা, আমার আপন চাচা মক্কায় থাকেন, বায়তুল্লাহর কাছাকাছিই, আমি যদি বাংলাদেশ থেকে কোন পরিচিত এবং বিশ্বাসযোগ্য উমরাহ কাফেলার সাথে যাই সেখানে গিয়ে কাফেলার মহিলাদের সাথেই থাকলাম আমার চাচা এসে আমার খোজ নিলেন এবং সিকিউরিটি নিশ্চিত করলেন তাহলে কি আমার উমরাহ হবে?

জাযাকুমুল্লাহ খইরন

1 Answer

+1 vote
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো নারীর জন্য মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ্ব,উমরাহতে যাওয়া জায়েজ নেই।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِاِمْرَأَةٍ وَلَا تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ. فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ اكْتُتِبْتُ فِىْ غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَخَرَجَتِ امْرَأَتِىْ حَاجَّةً قَالَ: اِذْهَبْ فَاحْجُجْ مَعَ اِمْرَأَتِكَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

 [‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পুরুষ যেন কক্ষনো কোন স্ত্রীলোকের সাথে এক জায়গায় নির্জনে একত্র না হয়, আর কোন স্ত্রীলোক যেন কক্ষনো আপন কোন মাহরাম ব্যতীত একাকিনী সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখানো হয়েছে। আর আমার স্ত্রী একাকিনী হজের উদ্দেশে বের হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাও তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ/হজ করো।

সহীহ : বুখারী ৩০০৬, মুসলিম ১৩৪১, আহমাদ ১৯৩৪, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৫২৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০১৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৫৭।
ইবনে আববাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন,

لاَ تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلاَ يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلاَّ وَمَعَهَا مَحْرَمٌ ”. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ فِي جَيْشِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي تُرِيدُ الْحَجَّ. فَقَالَ ” اخْرُجْ مَعَهَا

কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম ﷺ বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও। (সহীহ বুখারী ১৭৪০)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এভাবে উমরাহ করলে যদিও আপনার উমরাহ আদায় হয়ে যাবে,তবে মাহরাম ছাড়া যাওয়ার দরুন আপনি গুনাহগার হবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...