আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
122 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম
১ম প্রশ্ন:গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছিলাম আমার আম্মা ভাত খাচ্ছিলেন।উনার শেষের লোকমা প্লেটেঅ ছিল ঐ টাইমে আমার আত্মীয় সম্পর্কে একজন চাচি এসে আম্মার ভাতের লোকমা নিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন। তখন আমি উনাকে নিষেধ করি এবং আমার আম্মাকেও নিষেধ করি ভাত না দিতে।কারণ চাচি সেই ভাত নিয়ে আমার আম্মাকে জাদু করতে যাবেন। এমনটা স্বপ্নে মনে হচ্ছিল। আম্মা ভাত না দেওয়ায় তিনি আমার বাবার কাছ থেকে কিসের জানি টাকা চাচ্ছিলেন এমন কিছুর মধ্যেই ঘুম ভেঙে যায়।

২য় প্রশ্ন :প্রায় ২-৩ মাস আগে এটা স্বপ্নে দেখেছিলাম।আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তায় একটা জায়গায় শায়েখ হারুন ইজহার কয়েকটা কিতাব নিয়ে বসে আছেন। আমি দেখে ভাবছিলাম যে তিনি কেন আসছেন, হয়তো কোনো দারস নিবেন সেজন্য। তারপরে দেখি উনি আমাদের বাড়িতে আমার ফুফাতো ভাইয়ের রুমে উনাকে কোরআন বা কোনো একটা বিষয় শিখাচ্ছেন।শায়েখ যেখান থেকে উনাকে পড়াচ্ছিলেন সেখান থেকে আমাকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল যার কারণে ভাই জানালার পর্দা ফেলে দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে আমি চলে আসি।এর কিছুক্ষণ পর শায়খকে নিয়ে আমার ফুফাতো ভাই আমাদের ঘরে আসছিলেন এবং পরিচয় করাচ্ছিলেন ও হচ্ছে আমার বোন।আমি অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলাম এবং হিজাবে ঢাকা ছিলাম।শায়েখ ঘর থেকে যেতে যেতে ভাইকে বলছিলেন যে আমি ওদের সম্পর্কে শুনেছি বলে আমার এবং আরও কে একজনের প্রতি ইঙিত দিচ্ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে এতটুকু দেখার পর দেখি আমার ফুফাতো ভাই আমাদের ঘরে আসছেন উনার ছোট ভাতিজীকে নিয়ে। ওইসময় আমি রান্নাঘর থেকে আমার ফুফুকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখি। দেখে ভাইকে ডেকে বলি ফুফু তো অসুস্থ উনি একা এতদূর গেলেন কিভাবে। বলার সাথে সাথে আমার ফুফাতো ভাই ফুফুর কাছে গিয়ে বসেন।এতটুকু দেখার পর ঘুম ভেঙে যায়।

আমার ফুফু যাকে স্বপ্নে দেখি তিনি প্রায় ৮ মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর ফুফাতো ভাই ওই ফুফুরই ছেলে।

এই দুই স্বপ্নের ব্যাপারে আমার করণীয় কি..?
৩য় প্রশ্ন:অযু করার পর কাপড় হাটুর উপরে উঠলে কি অযু ভেঙে যাবে বা প্যান্ট চেঞ্জ করলে কি অযু ভেঙে যাবে।আর অনেকে বলেন গোসল করলে আর অযু করতে হয় না সালাত পড়া যায়। এটা কি ঠিক।
৪র্থ প্রশ্ন:একজন বোন জিজ্ঞেস করেছেন।হায়েজের কিছুদিন আগে বা পরে কয়েকদিন সাদাস্রাব থাকে।সেটা ৩-৪ দিন স্থায়ী হয়। নামাযের আগে প্যান্ট চেঞ্জ করেন কিন্তু সবসময় সম্ভব হয় না।উনি ২ টা টিউশনি করান উনার নিজ বাসা থেকে একটু দূরে। টিউশনি আসর মাগরিবের মাঝামাঝি সময়ে থাকে যার কারণে সেখানে প্যান্ট চেঞ্জ করে অযু করে যান।কিন্তু তারপর অনেকসময় সাদাস্রাব থাকে। টিউশনের মাঝখানে অযু করার বা প্যান্ট চেঞ্জ করার সুবিধা থাকেনা। এক্ষেত্রে করনীয় কি?

৫ম প্রশ্ন:নবী-রাসূলদের কাহিনী সম্পর্কে জানার জন্য কোন বইগুলো পড়লে ভালো হবে..?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرُّؤْيَا ثَلاَثَةٌ فَرُؤْيَا الصَّالِحَةِ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ الْمَرْءُ نَفْسَهُ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ "
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল-মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামাতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শাইতানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)।

অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাঁড়ায় এবং সলাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে।
(মুসলিম ৫৭৯৮, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৪০)

ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার। 
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।
তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়। 

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
এটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত স্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে। সুতরাং চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ থাকবে।

(০২)
স্বপ্নটির প্রথম অংশ আপনার মনের কল্পনা প্রসূত।

আর দ্বিতীয় অংশের ক্ষেত্রে করণীয় জানুনঃ- 

(০৩)
অযু করার পর কাপড় হাটুর উপরে উঠলে অযু ভেঙে যাবেনা বা প্যান্ট চেঞ্জ করলে অযু ভেঙে যাবেনা।

গোসল করলে আর অযু করতে হয় না সালাত পড়া যায়,এ কথা পরিপূর্ণ ভাবে সঠিক।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عن عائشة رضي الله عنها قالت :
«كان رسول الله ﷺ لا يتوضأ بعد الغسل»
(رواه الترمذي 107، وابن ماجه 573 – وصححه الألباني)

অনুবাদ:
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ গোসল করার পর আলাদা করে অযু করতেন না।”

عن جابر رضي الله عنه قال : قيل لرسول الله ﷺ : إنك تأتي النساء فإذا اغتسلت فأنت على طهارة؟ فقال رسول الله ﷺ : «نعم»
(رواه أحمد 14436، وصححه الألباني في الإرواء 128)

অনুবাদ:
হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হলো: “আপনি স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হন, তারপর গোসল করলে কি আপনার জন্য (অন্য ইবাদতের জন্য) পবিত্রতা যথেষ্ট হয়?”
তিনি উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ।”

عن ابن عمر رضي الله عنهما : أن النبي ﷺ قال : «إنما يكفيك أن تغسل رأسك ثلاثا ثم تفيض الماء عليك فتطهر»
(رواه البخاري 248، ومسلم 316)

অনুবাদ:
হযরত ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ বলেছেন: “তোমার জন্য যথেষ্ট হলো মাথা তিনবার ধৌত করা, তারপর পুরো শরীরে পানি ঢাললে তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।”

★এই সব হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, গোসল সম্পূর্ণ করার পর নতুন করে অযু করার প্রয়োজন নেই।

(০৪)
টিউশনির সময় চেঞ্জ করতে হবে।
পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় পবিত্র কাপড়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

হ্যাঁ যদি সে মা'যুর হয়,আর আসরের ওয়াক্তেই অযু করে থাকে, সেক্ষেত্রে ঐ কাপড়ে ঐ অযুতেই সে নামাজ আদায় করতে পারবে।

আরো জানুনঃ- 

(০৫)
নবী-রাসূলদের কাহিনী পড়ার জন্য নির্ভরযোগ্য বই:

★কুরআনুল কারীম।

নবীদের কাহিনীর আসল ও সর্বশ্রেষ্ঠ উৎস হলো কুরআন। 

যেমন:
সূরা ইউসুফ (ইউসুফ আ. এর কাহিনী)
সূরা কাহফ (মূসা আ. ও খিদর আ., আশহাবুল কাহফ, যুলকারনাইন)
সূরা মারইয়াম (ইব্রাহীম আ., মূসা আ., ঈসা আ.)
সূরা আনবিয়া, সূরা কাসাস, সূরা আস-সাফফাত প্রভৃতি।

★হাদিসের কিতাবঃ

সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, রিয়াদুস সলিহীন ইত্যাদিতে অনেক নবীদের ঘটনা উল্লেখ আছে।


★অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বই
1. কাসাসুল আম্বিয়া – ইমাম ইবন কাসীর (রহ.)

এটি নবীদের জীবনী নিয়ে সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রন্থগুলোর একটি।

বাংলায় অনুবাদও পাওয়া যায়: “নবী-রাসূলদের কাহিনী” নামে।

2. কাসাসুল কুরআন – মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)

সহজ ভাষায় কুরআনের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

3. নবীদের কাহিনী – মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (বাংলা অনুবাদও প্রচলিত)।

4. শিশু ও তরুণদের জন্য:

“ছোটদের নবী-রাসূলদের কাহিনী” (বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়, সাধারণ পাঠের জন্য উপযোগী)।

পরামর্শ:

প্রথমে কুরআন তাফসিরসহ পড়ে নবীদের কাহিনী জানার চেষ্টা করুন।

তারপর ইবন কাসীরের কাসাসুল আম্বিয়া পড়ুন, কারণ এখানে হাদিস ও ইতিহাসের ভিত্তিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 157 views
...