গর্ভ নষ্ট না হওয়ার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর দো‘আ / আমল
(ক) ইস্তেগফার ও তাওবা
গর্ভ রক্ষা ও সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী আমল হলো ইস্তেগফার।
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ ...
(সূরা নূহ ৭১: ১০–১২)
অর্থ: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর বর্ষণ করবেন বৃষ্টি, দান করবেন সম্পদ ও সন্তান।”
নিয়ম: প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার পুরো পাঠ করা।
নিয়্যত: আল্লাহ যেন সন্তান রক্ষা করেন ও স্বাস্থ্য ভালো রাখেন।
(খ) সূরা আল-ইখলাস, ফালাক, নাস এবং আয়াতুল কুরসি
এই আয়াতগুলো দ্বারা গর্ভস্থ শিশুকে জিন, নজর ও শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
নিয়ম:
প্রতিদিন সকালে ও রাতে ৩ বার সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে নিজের উপর ও পেটের উপর ফুঁ দিতে পারেন।
সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পড়া অভ্যাস করুন।
---
(গ) সূরা মারইয়াম ও সূরা আল-আনবিয়া পাঠ
সূরা মারইয়ামে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের বিষয় এসেছে (মারইয়াম (আ.) ও জাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনা)।
সূরা আল-আনবিয়া ৮৯–৯০ আয়াতে নবী জাকারিয়া (আ.)-এর দো‘আ আছে:
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
(সূরা আল-আনবিয়া ২১:৮৯)
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে একা রেখে যেও না, আর তুমি তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।”
নিয়ম: এই দো‘আ বারবার পড়া এবং গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দো‘আ করা।
(ঘ) আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা ও দুআ
“হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওাক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজীম”
এই দোয়া ৭ বার সকালে ও সন্ধ্যায় পড়লে আল্লাহ বিপদ থেকে নিরাপদ রাখেন।
(আবু দাউদ ৫০৮১)
★গর্ভ নষ্ট হলে ধৈর্য ও আশার আমল
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে নারীর তিনটি গর্ভসন্তান মারা যায়, তারা তার জন্য জান্নাতে পর্দা হবে।”
(সহীহ বুখারী, ১২৪৯)
অর্থাৎ, যদি কোনো কারণে গর্ভ নষ্ট হয়, তাও সেই শিশুটি মায়ের জন্য আখিরাতে সুপারিশকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
★কিছু অতিরিক্ত দিকনির্দেশনা
নামাজ কায়েম রাখা ও নিয়মিত দো‘আ করা।
কুরআন তিলাওয়াতের সময় শান্ত মন রাখা — মানসিক প্রশান্তি শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
চোখের নজর ও হিংসা থেকে বাঁচতে রুকইয়া শারইয়া অনুসারে পানি/তেল পড়ে ব্যবহার করা যেতে পারে (সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে)।