আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
110 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ


আমার গত আটমাসে দুইবার ডিএনসি করতে হয়েছে। ছয়মাসের ব্যবধানে দুইটা মিসক্যারেজ আরকি। দ্বিতীয়বার ডিএনসির সময় ডক্টর বলেছে কমপক্ষে ছয়মাস পর বেবি নিতে। আনরা সেই পরামর্শ ফলোও করছিলাম। কিন্তু আমার শারীরিক লক্ষ্মণ দেখে মনে হচ্ছে আমি আবার কনসিভ করেছি। আমার বাবু দেড় দুইমাসের বেশি টেকে না কোনোবারই। এমতাবস্থায় আমার আমল কেমন হওয়া উচিত? উল্লেখ্য, আমার জ্বীন জাদুর সমস্যা আছে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

গর্ভ নষ্ট না হওয়ার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর দো‘আ / আমল

(ক) ইস্তেগফার ও তাওবা

গর্ভ রক্ষা ও সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী আমল হলো ইস্তেগফার।

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ ...
(সূরা নূহ ৭১: ১০–১২)

অর্থ: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর বর্ষণ করবেন বৃষ্টি, দান করবেন সম্পদ ও সন্তান।”

নিয়ম: প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার পুরো পাঠ করা।

নিয়্যত: আল্লাহ যেন সন্তান রক্ষা করেন ও স্বাস্থ্য ভালো রাখেন।

 (খ) সূরা আল-ইখলাস, ফালাক, নাস এবং আয়াতুল কুরসি

এই আয়াতগুলো দ্বারা গর্ভস্থ শিশুকে জিন, নজর ও শয়তানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

নিয়ম:

প্রতিদিন সকালে ও রাতে ৩ বার সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে নিজের উপর ও পেটের উপর ফুঁ দিতে পারেন।

সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পড়া অভ্যাস করুন।
---
(গ) সূরা মারইয়াম ও সূরা আল-আনবিয়া পাঠ

সূরা মারইয়ামে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের বিষয় এসেছে (মারইয়াম (আ.) ও জাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনা)।

সূরা আল-আনবিয়া ৮৯–৯০ আয়াতে নবী জাকারিয়া (আ.)-এর দো‘আ আছে:

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
(সূরা আল-আনবিয়া ২১:৮৯)

অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে একা রেখে যেও না, আর তুমি তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।”

নিয়ম: এই দো‘আ বারবার পড়া এবং গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দো‘আ করা।

(ঘ) আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা ও দুআ

“হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওাক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজীম”
এই দোয়া ৭ বার সকালে ও সন্ধ্যায় পড়লে আল্লাহ বিপদ থেকে নিরাপদ রাখেন।
(আবু দাউদ ৫০৮১)

★গর্ভ নষ্ট হলে ধৈর্য ও আশার আমল

রাসূল ﷺ বলেছেন:
 “যে নারীর তিনটি গর্ভসন্তান মারা যায়, তারা তার জন্য জান্নাতে পর্দা হবে।”
(সহীহ বুখারী, ১২৪৯)

অর্থাৎ, যদি কোনো কারণে গর্ভ নষ্ট হয়, তাও সেই শিশুটি মায়ের জন্য আখিরাতে সুপারিশকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

★কিছু অতিরিক্ত দিকনির্দেশনা

নামাজ কায়েম রাখা ও নিয়মিত দো‘আ করা।
কুরআন তিলাওয়াতের সময় শান্ত মন রাখা — মানসিক প্রশান্তি শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

চোখের নজর ও হিংসা থেকে বাঁচতে রুকইয়া শারইয়া অনুসারে পানি/তেল পড়ে ব্যবহার করা যেতে পারে (সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে)।

পাশাপাশি বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ গাইনী মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলবেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার যেহেতু জ্বীন জাদুর সমস্যা আছে।সুতরাং নিম্নোক্ত আমল গুলি করারও পরামর্শ থাকবে। 

আয়াতুল কুরসি অথবা সূরা আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা এর যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়বেন। এগুলোর সাথে সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিয়মিত নিজের শরীরে ফুক দিবেন। 
নিজের জন্য দোয়া করবেন।

বিশেষতঃ যে দুআটি রাসূলুল্লাহ ﷺ  থেকে সাব্যস্ত হয়েছে:
اللَّهُمَّ ربَّ النَّاسِ، أَذْهِب الْبَأسَ، واشْفِ، أَنْتَ الشَّافي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفاءً لاَ يُغَادِرُ سقَماً

(অর্থ- হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন ও আরোগ্য দান করুন। (যেহেতু) আপনিই রোগ আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। আপনি এমনভাবে রোগ নিরাময় করে দিন যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।)

জিব্রাইল আ. নবী ﷺ-কে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন সেটাও পড়া যেতে পারে। 

সে দুআটি হচ্ছে-
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ , مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ أَوْ حَاسِدٍ , اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

(অর্থ- আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।)

এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। 

সকাল সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে শরীরে ফুঁ দিবেন।
,
আলেমগণ বলেছেন, এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি সে পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে প্রয়োজনমত একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে।

আরো জানুনঃ- 

সমস্যার সমাধান না হলে আরো করনীয় জানুনঃ- 

https://ifatwa.info/59703/ নং ফাতওয়াতে আমরা বলেছি যে,

(১) সর্বপ্রথম পরামর্শ দিবোভালো কোনো বিশুদ্ধ আকিদার মুদাব্বিরের শরণাপন্ন হওয়ার। মুদাব্বির মানে যিনি কুরআন হাদীস থেকে সেহেরের চিকিৎসা করে থাকেন। যাকে রুকইয়ায়ে শরঈয়্যাহ বলা হয়।

,

তাছাড়া আপনাকে কিছু রুকইয়ার পরমার্শ দিচ্ছি

(১) সকল প্রকার ফরয ওয়াজিব ইবাদত যত্নসহকারে পালন করা এবং সকল প্রকার হারাম ও নাজায়ে কাজ হতে বেঁচে থাকে।

(২) অধিক পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করা।

(৩) দু'জায়েয তাবীয ও যিকিরের মাধ্যমে নিজেকে হেফাজতের চেষ্টা করা।

,

নিম্নোক্ত দু'আকে সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে পড়া।

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ،

দেখুন- http://istefta.info/1093

,

প্রত্যক নামাযের পর ঘুমাইবার সময় এবং সকাল সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসী পড়া এবং ঘুমাইবার সময় ও সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে সূরা নাস,সূরা ফালাক্ব ও সূরা ইখলাস তিনবার করে পড়া এবং প্রতিদিন নিম্নোক্ত দু'আটি একশতবার করে পড়া।

لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير،

প্রতিদিন সকাল সাতটা করে খেজুর খাওয়া। মদিনার খেজুর হলে ভালো (এলাজে কুরআনী-০৩)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/10103

,

আমাদের পরামর্শ থাকবে যেভালো কোনো বিশুদ্ধ আকিদার মুদাব্বিরের শরণাপন্ন হওয়ার। মুদাব্বির মানে যিনি কুরআন হাদীস থেকে সেহেরের চিকিৎসা করে থাকেন। যাকে রুকইয়ায়ে শরঈয়্যাহ বলা হয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...