আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
133 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ


ওস্তাদ, উম্মুল মুমিনীনগণ রা: এর ঘরগুলো কি একদম পাশাপাশি একটা প্লটের মধ্যে ছিলো, যেমনটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক ফ্ল্যাটে দুই স্ত্রী রাখার মতো? নাকি একটা এলাকার মধ্যে একটু গ্যাপ রেখে রেখে ছিল। ওনাদের সকলের রান্নাঘর একটায় ছিল নাকি আলাদা আলাদা ছিল?

1 Answer

0 votes
by (764,220 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

রাসূল ﷺ এর ঘরগুলো মসজিদে নববীর পূর্ব দিক বরাবর (এবং কিছু দক্ষিণ দিকেও) ছিল।

প্রতিটি ঘর ছিল ছোট ছোট কক্ষের মতো, মসজিদে নববীর দেয়ালের সাথে সংলগ্ন অবস্থায় — অর্থাৎ পাশাপাশি কিন্তু একদম গায়ে গায়ে জোড়া নয়, বরং সামান্য ব্যবধান (কয়েক হাত দূরত্ব) ছিল।

ইমাম বুখারী (সহীহ বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব: বায়ান আন্না বায়তা ন-নবী ﷺ কান ইলাল মসজিদ) বর্ণনা করেন:

 "নবী ﷺ এর ঘরগুলো মসজিদের সাথে লাগানো ছিল।"

অর্থাৎ, এগুলো ছিল একই কমপাউন্ডে, মসজিদের দেয়ালের বাইরে,
কিন্তু প্রতিটি স্ত্রীর ঘর ছিল নিজস্ব ও আলাদা প্রবেশপথসহ ছোট ছোট কক্ষ।
এগুলো ছিল খেজুর গাছের ডাল, মাটি ও চামড়া দিয়ে নির্মিত সাধারণ কুটিরের মতো।

★ঘর গুলোর আকার ও গঠনঃ

ইমাম ইবনে সা‘দ, ইবনে হিশাম ও অন্যান্য ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী:

প্রতিটি ঘর ছিল প্রায় ১০ x ১০ ফুট বা এর কাছাকাছি।

দরজা ছিল মসজিদমুখী, এবং একেক ঘরের দেয়াল ও ছাদ ছিল খেজুর পাতার।

নবী ﷺ যখন কোনো স্ত্রীর ঘরে থাকতেন, তখন সেই ঘরেই বিশ্রাম, খাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন হতো।

তখনকার সমাজে “ফ্ল্যাট” বা বড় কমপ্লেক্সের ধারণা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ছোট পাড়ার মতো, যেখানে মসজিদের পাশে তাঁর ঘরগুলো সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।

★ প্রতিটি স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘর ও আলাদা রান্নার জায়গা ছিল।
কারণ:

প্রত্যেক স্ত্রী নিজে নিজে রান্না করতেন (বা নিজেদের সামান্য খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত রাখতেন)।

নবী ﷺ কখনো এক স্ত্রীর ঘরে গিয়ে সেখানে যা থাকতো তাই আহার করতেন।

একবার নবী ﷺ আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। তখন অন্য স্ত্রী (যেমন হাফসা বা উম্মে সালামা রা.) থেকে কোনো খাবার পাঠানো হয়। এতে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও হয়েছিল — যা প্রমাণ করে যে প্রত্যেকের রান্না আলাদা ছিল।

 (সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাম; সহীহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ)

★নবী ﷺ এর ঘরগুলো ছিল একই এলাকার মধ্যে, কিন্তু প্রত্যেকটি আলাদা ইউনিটের মতো।

আজকের ভাষায় বলা যায় — যেন “একই প্লটের মধ্যে ছোট ছোট আলাদা কক্ষ”,
কিন্তু “এক ফ্ল্যাটের মধ্যে একাধিক রুম” নয়।
অর্থাৎ, সবাই নিজ নিজ জায়গায় গোপনীয়তা বজায় রেখে বসবাস করতেন।

সূত্র,
ইবনে সা‘দ, তাবাকাতুল কুবরা (ভলিউম ১)
ইবনে হিশাম, সীরাতুন্নবী
বুখারী ও মুসলিমের বিভিন্ন হাদীস
আল-আযরাকী, আখবারু মক্কাহ
ইমাম নববী, শরহ মুসলিম।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (34 points)
দুই স্ত্রী এক ফ্যাটে থাকলে রান্নাবান্না কিভাবে ম্যানেজ করা যেতে পারে। কারণ আলাদা আলাদা রুমের প্রাইভেসি থাকলেও রান্নাঘর তো একটায়। প্রথম স্ত্রী বেশিরভাগ রান্না করে, আরেকজন স্ত্রী করলেও তেমনটা না। প্রথম স্ত্রীর অসুস্থতা রয়েছে, হুট করে ভালো থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাচ্চা রয়েছে দুইমাসের প্রায়। এক্ষেত্রে রান্নাবান্নার বিষয়টা কিভাবে ভাগাভাগি করা উচিত। খাদ্যপণ্য যা আনা হয় তা কি দুই স্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দিবে, আর যার যার ইচ্ছেমতো সেই সেই রান্না করে খাবে? 

উল্লেখ্য, খাবার সবকিছু একসাথেই থাকে। যার যার চাহিদা অনুযায়ী খাওয়া হয়। খাবার এভাবে একসাথে রাখা বেশি ইনসাফপূর্ণ নাকি ভাগাভাগি করে দেওয়াটা?
by (764,220 points)
এক্ষেত্রে রান্নার টাইম ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।

আজকের দিন এই স্ত্রী আগে রান্না করবে, পরের দিন ওই স্ত্রী আগে রান্না করবে।

অথবা দুই চুলা বিশিষ্ট চুলায় এক চুলায় প্রথম স্ত্রী রান্না করবে আরেক চুলায় দ্বিতীয় স্ত্রী রান্না করবে।


সেক্ষেত্রে রান্না হতে কিছুটা দেরি হলেও কারো আগে বা পরে রান্নার সমস্যাটুকু থাকছে না।

আপনি উভয় স্ত্রীর জন্য আলাদাভাবে বাজার করবেন।

তাদের মাঝে ভাগ করে দিবেন।

এরপর তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে রান্না করবে।

দুই স্ত্রীর খাবার একসাথে রাখা এটা ইনসাফ পূর্ণ নয়।

 হ্যাঁ যদি তারা বিষয়টি সন্তুষ্টি চিত্তে মেনে নেয়, আর তারাই যদি এভাবে খাবার রাখতে বলে তাহলে সমস্যা হবে না।
by (34 points)
edited by
মূলত, রান্না নিয়ে প্রথম স্ত্রীর প্রতি লাগাতার অসমতা করার কারণে প্রথম স্ত্রী চায় আলাদা রান্নাঘর থাকুক, অর্থাৎ আলাদা বাসা। (প্রথম স্ত্রী অসুস্থ, সেই রান্না করে ৯৫%। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাচ্চা আছে, তাকে বিনয়ের সাথে হেল্প করে দিতে বলার কারণে খাওয়াদাওয়ায় অফ করে দেয় কিন্তু রান্না করতে আসে না।)  এঘটনার পূর্বে প্রথম স্ত্রী সন্তুষ্ট চিত্তে রান্না করতো। কিন্তু নিজের অসুস্থতার পরও তাকে হেল্প করে দিতে বলার কারণে এমন রিয়েকশনের প্রেক্ষিতে সে আলাদা বাসায় থাকতে ইচ্ছুক। ফিতনা এটা ছাড়াও আরও আছে যা লিখলে বিস্তারিত হয়ে যাবে। 

এমতাবস্থায় প্রথম স্ত্রী আলাদা রান্নাঘর কামনা করলে স্বামী তাকে বুঝাতে থাকে আগের প্রেক্ষিতে উম্মুল মুমিনিনদের রাঃ রান্নার ব্যবস্থা আলাদা ছিলো। মানে উনি কাইন্ড অব বলতে চাচ্ছেন যে বর্তমান সময়ে এটা সামঞ্জস্য না! কিন্তু স্ত্রী বলেন যে এটা পরিস্থিতি নয়, এটা আইন। আইন তো সবসময় সমান, ১৪০০ বছর পরও। এটা নিয়ে স্ত্রী মতবিরোধ করলে স্বামী তার সাথে খারাপ আচরণ এবং লাত্থি দিতে যাওয়ার মতো গুনাহ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

আপনি এব্যাপারে একটু ক্লিয়ার করে দিন যেন হাজবেন্ডকে বুঝানো যায়। 

(উল্লেখ্য, স্বামীর মতামত এইযে, "একসাথে থাকতে পারলে থাকবে প্রথম স্ত্রী। না পারলে যেন চলে যায়, তাকে এই বাসাতে জায়গা দেওয়া হয়েছে এটায়ই অনেক।")

ওনাকে নিয়ে দারূল ইফতায় বসা গেলে বসতাম। কিন্তু উনি বসবেন না। আমি আমার সমতার বিষয়ের সমাধান পাচ্ছি কিন্তু প্রয়োগ করা কঠিন।


প্রায়ই আমার প্রতি তার এগ্রেসিভ আচরণ, মারধর দৃশ্যমান (সমতার কথা বললেও মাইর খেয়েছি)। আমি আমার স্বামীর খিদমতে কোনো ত্রুটি রাখি না। এরপরও আমার সাথে এমন করেন উনি। আমি ওনার আচরণ আর দ্বীনের বিষয়গুলো ভুলভাল উপস্থাপন দেখতে দেখতে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি। তার আমলেও বিরাট পরিবর্তন এসেছে, আমি তার আমলের গাফিলতি বিষয়েও সংশোধন করতে পারছি না। 

এমতাবস্থায় আমি একপ্রকার অসহায় হয়ে আছি। বিজ্ঞ আলেমগণ আমাকে জানাবেন, আমার স্বামীর সাথে কিভাবে আমি মানিয়ে নিতে পারবো। 


by (764,220 points)
স্বামী যদি আলাদা বাসা বা আলাদা ফ্ল্যাট না নেয়, সেক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিতে সমাধানে আসার পরামর্শ থাকবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...