রাসূল ﷺ এর ঘরগুলো মসজিদে নববীর পূর্ব দিক বরাবর (এবং কিছু দক্ষিণ দিকেও) ছিল।
প্রতিটি ঘর ছিল ছোট ছোট কক্ষের মতো, মসজিদে নববীর দেয়ালের সাথে সংলগ্ন অবস্থায় — অর্থাৎ পাশাপাশি কিন্তু একদম গায়ে গায়ে জোড়া নয়, বরং সামান্য ব্যবধান (কয়েক হাত দূরত্ব) ছিল।
ইমাম বুখারী (সহীহ বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব: বায়ান আন্না বায়তা ন-নবী ﷺ কান ইলাল মসজিদ) বর্ণনা করেন:
"নবী ﷺ এর ঘরগুলো মসজিদের সাথে লাগানো ছিল।"
অর্থাৎ, এগুলো ছিল একই কমপাউন্ডে, মসজিদের দেয়ালের বাইরে,
কিন্তু প্রতিটি স্ত্রীর ঘর ছিল নিজস্ব ও আলাদা প্রবেশপথসহ ছোট ছোট কক্ষ।
এগুলো ছিল খেজুর গাছের ডাল, মাটি ও চামড়া দিয়ে নির্মিত সাধারণ কুটিরের মতো।
★ঘর গুলোর আকার ও গঠনঃ
ইমাম ইবনে সা‘দ, ইবনে হিশাম ও অন্যান্য ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী:
প্রতিটি ঘর ছিল প্রায় ১০ x ১০ ফুট বা এর কাছাকাছি।
দরজা ছিল মসজিদমুখী, এবং একেক ঘরের দেয়াল ও ছাদ ছিল খেজুর পাতার।
নবী ﷺ যখন কোনো স্ত্রীর ঘরে থাকতেন, তখন সেই ঘরেই বিশ্রাম, খাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন হতো।
তখনকার সমাজে “ফ্ল্যাট” বা বড় কমপ্লেক্সের ধারণা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ছোট পাড়ার মতো, যেখানে মসজিদের পাশে তাঁর ঘরগুলো সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।
★ প্রতিটি স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘর ও আলাদা রান্নার জায়গা ছিল।
কারণ:
প্রত্যেক স্ত্রী নিজে নিজে রান্না করতেন (বা নিজেদের সামান্য খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত রাখতেন)।
নবী ﷺ কখনো এক স্ত্রীর ঘরে গিয়ে সেখানে যা থাকতো তাই আহার করতেন।
একবার নবী ﷺ আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। তখন অন্য স্ত্রী (যেমন হাফসা বা উম্মে সালামা রা.) থেকে কোনো খাবার পাঠানো হয়। এতে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও হয়েছিল — যা প্রমাণ করে যে প্রত্যেকের রান্না আলাদা ছিল।
(সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাম; সহীহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ)
★নবী ﷺ এর ঘরগুলো ছিল একই এলাকার মধ্যে, কিন্তু প্রত্যেকটি আলাদা ইউনিটের মতো।
আজকের ভাষায় বলা যায় — যেন “একই প্লটের মধ্যে ছোট ছোট আলাদা কক্ষ”,
কিন্তু “এক ফ্ল্যাটের মধ্যে একাধিক রুম” নয়।
অর্থাৎ, সবাই নিজ নিজ জায়গায় গোপনীয়তা বজায় রেখে বসবাস করতেন।
সূত্র,
ইবনে সা‘দ, তাবাকাতুল কুবরা (ভলিউম ১)
ইবনে হিশাম, সীরাতুন্নবী
বুখারী ও মুসলিমের বিভিন্ন হাদীস
আল-আযরাকী, আখবারু মক্কাহ
ইমাম নববী, শরহ মুসলিম।