আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (33 points)
edited by
আমার পরিচিত একজনের প্রশ্ন: তিনি বলেন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
মুহতারাম আপনার কাছে আমার জিজ্ঞাসা:
আমার হাজব্যান্ড জীবিত  থাকা অবস্থায় আমার নামে একটি বাড়ি লিখে দেন। মানে আমার নামে সাব রেজিস্ট্রি করে দেন। মোটকথা উক্ত বাড়িটি আমাকে আমার হাজব্যান্ড গিফ্ট করেন।
বর্তমানে আমার হাজব্যান্ড মারা গেছেন বিগত প্রায় আড়াই বছর। এমতাবস্থায় আমার এক ছেলে এবং তিন মেয়ে। দুই মেয়ে বিবাহিত এবং ছেলে বিবাহ করেছে। আর ছোট যে মেয়েটা ওর এখনো বিয়ে হয় নাই পড়াশোনা করতেছে। তারপর পড়াশোনার  খরচ এবং বিয়ে-শাদীর খরচ আমাকে বহন করতে হবে।
ভবনটি ছয়তালা আর বাড়িটি ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে করা। আর লোনও আমার নামে। বাড়ির যে লোন আছে ঐ লোনের টাকা এ বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকেই পরিশোধ করতে হয়।
এখন বর্তমানে আমার ছেলের সাথে প্রায়ই মনোমালিন্য হয়।ছেলে চাচ্ছে পুরো বাড়ির ভাড়ার অধিকাংশ টাকা নেওয়ার জন্য বা বাড়িটা তার কন্ট্রোলের নেয়ার জন্য। আর ছেলে আমার কোন দায়িত্ব নেয় না। সংসারে কোনো টাকা পয়সাও দেয় না। বরং উল্টো প্রতি মাসে আমার থেকে বেশ কিছু টাকা নেয়।
সে চাকরি করতেছে তার সংসার আলহামদুলিল্লাহ ভালো চলতেছে। আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি একটা বেতনও পাচ্ছে।
দোয়া করি সে পরিবার নিয়ে খুব সুখে ও শান্তিতে থাকুক। খুব ভালো থাকুক।

বর্তমানে আমি চাচ্ছি ছয়তালার একটা ফ্লোর বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করবো। কারণ এখনো ব্যাংকের লোন প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ টাকা বাকি।
এমতাবস্থায় আমার ছেলে বাধা দিচ্ছে বলছে লোন লোণের গতিতেই চলবে মানে (কিস্তিতে)। আর সে একটা ফ্লোরে থাকবে। সে যে ফ্লোরে থাকবে ফ্লোরের  আমাকে কোন টাকা পয়সা  দিবেনা এবং  আমি রাগ করে বলেছি বাড়ি বিক্রি করে দিব। কিন্তু সে বিক্রি করতে দিতে চাচ্ছে না।
মুহতারামের কাছে আমার প্রশ্ন আর এই সম্পদ  আমার হাজবেন্ডের ইনকামে কেনা। তবে বাড়িটি আমাকে আমার হাজব্যান্ড গিফ্ট করেন। আমার কয়েকটি প্রশ্ন:

১. বর্তমানে আমার এই সম্পত্তিতে আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আমার ছেলের মেয়ের কতটুকু অধিকার আছে?
২.  আর আমি এ সম্পত্তিতে শরিয়াহ মোতাবেক কতটুকু ভোগ দখলের অধিকার রাখি।
৩. বর্তমানে আমি চাচ্ছি ছয়তালার একটা ফ্লোর বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করবো। কারণ এখনো ব্যাংকের লোন প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ টাকা বাকি। এই অধিকার আমার আছে কি না?
৪. আমরা পরিবার নিয়ে (ছোট মেয়ে ও আমি এবং ছেলে ও তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ) বড় একটা ফ্লোরে থাকি। আমার ছেলে থাকলে এখানেও ভালো ভাবে থাকতে পারে। কিন্তু সে এখানে না থেকে আলাদা একটা বড় ফ্লোর নিয়ে একা তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতে চাচ্ছে। আমি কি আমার ছেলের কাছ থেকে ঐ ফ্লোরের ভাড়া চাওয়ার অধিকার রাখি?

কারণ, এই বাসা ভাড়ার টাকা থেকেই প্রতি মাসে ব্যাংকের লোন, সংসারের খরচ, ছেলে ও মেয়েদেরকেও প্রতি মাসে তাদের জন্য খরচ করতে হয়।

1 Answer

0 votes
by (765,300 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

জীবিত অবস্থায় ওয়ারিশদের মাঝে সম্পত্তি দিলে সেটাকে হেবা বলে,মৃতবরনের পর সম্পত্তির ভাগকে মিরাছ বলে। 

ব্যক্তি জীবিত এবং সুস্থ্য থাকা অবস্থায় তার মালিকানাধীন সম্পদ যাকে ইচ্ছে দান করতে পারে। যেখানে ইচ্ছে খরচ করতে পারে। এতে তার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার অর্জিত সম্পদের একক মালিকানা তার হাতেই থাকে। তাতে যাচ্ছে তাই হস্তক্ষেপের অধিকার তার রয়েছে। এতে কেউ হক দাবী করার অধিকার রাখে না।
তার মালিক তার সন্তান বা অন্য কেউ নয়।
 হ্যা, মৃত্যুর পরের কথা ভিন্ন। তখন শরয়ী নীতিমালা অনুপাতে সম্পদ বন্টন করতে হয়।
সে সময় ওয়ারিশগন নীতি অনুসারে সম্পদের দাবী করতে পারবেন।
তবে জীবদ্দশায় কেহ সম্পদ দিয়ে গেলে সেটি হিবা তথা গিফট।

যদি কোনো ব্যাক্তি জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ সন্তানদের দিয়ে যেতে চায়,সেক্ষেত্রে নিয়ম হলোঃ
প্রথমে নিজের বাকি জিবনের জন্য যাহা কিছু রাখতে চায়,ততটুকু সম্পদ রেখে দিবে,যাতে করে পরবর্তীতে মুখাপেক্ষী না হতে হয়।
অতঃপর স্ত্রী জীবিত থাকলে তাকে সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ দিবে।
অবশিষ্ট সম্পদ তার সন্তানদের মাঝে বরাবর করে বন্টন করে দিবে।
এই বরাবর করে বন্টন করা উত্তম।
যদি মিরাছের নিয়ম অনুযায়ী মেয়েকে ছেলের তুলনায় অর্ধেক দেয়,সেটিও জায়েজ আছে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

  النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ أبَاهُ أتَى بِهِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَماً كَانَ لِي، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا ؟» فَقَالَ: لاَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: فَأَرْجِعهُ وَفي رِوَايةٍ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفَعَلْتَ هذَا بِوَلَدِكَ كُلِّهِمْ ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: اِتَّقُوا الله وَاعْدِلُوا فِي أَوْلاَدِكُمْ فَرَجَعَ أَبِي، فَرَدَّ تِلْكَ الصَّدَقَةَ . وفي روايةٍ : فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بَشيرُ أَلَكَ وَلَدٌ سِوَى هَذَا ؟» فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «أكُلَّهُمْ وَهَبْتَ لَهُ مِثْلَ هذَا ؟» قَالَ: لاَ، قَالَ: فَلاَ تُشْهِدْنِي إِذاً فَإِنِّي لاَ أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ وفي روايةٍ : «لاَ تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ» . وفي رواية : «أَشْهِدْ عَلَى هذَا غَيْرِي !» ثُمَّ قَالَ: «أَيَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي البِرِّ سَواءً؟» قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلا إِذاً» . متفق عليه 

 নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাজির হয়ে বললেন, ‘আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি। [কিন্তু এর মা আপনাকে সাক্ষী রাখতে বলে।]’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমার সব ছেলেকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তাহলে তুমি তা ফেরৎ নাও।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘তোমার সব ছেলের সঙ্গেই এরূপ ব্যবহার দেখিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর। সুতরাং আমার পিতা ফিরে এলেন এবং ঐ সাদকাহ [দান] ফিরিয়ে নিলেন।’’

আর এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বাশীর! তোমার কি এ ছাড়া অন্য সন্তান আছে?’’ তিনি বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাদের সকলকে কি এর মত দান দিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘জী না।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাহলে এ ব্যাপারে আমাকে সাক্ষী মেনো না। কারণ আমি অন্যায় কাজে সাক্ষ্য দেব না।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী মেনো না।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘এ ব্যাপারে তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী মানো।’’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি এ কথায় খুশী হবে যে, তারা তোমার সেবায় সমান হোক?’’ বাশীর বললেন, ‘জী অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে এরূপ করো না।’’ 
(সহীহুল বুখারী ২৫৮৬, ২৫৮৭, ২৬৫০, মুসলিম ১৬২৩, তিরমিযী ১৩৬৭, নাসায়ী ৩৬৭২-৩৬৮৫, আবূ দাউদ ৩৫৪২, ইবনু মাজাহ ২৩৭৫, ২৩৭৬, আহমাদ ১৭৮৯০, ১৭৯০২, ১৭৯১১, ১৭৯৪৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৭৩)

অন্য বর্ণনায় এসেছে হযরত নোমান ইবনে বশীর (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা (সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে) তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো। তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।’
(সহীহ বুখারী : ১/৩৫২; সুনানে আবুদাউদ : ৩৫৪৪)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
বর্তমানে আপনার এই সম্পত্তিতে আপনি জীবিত থাকা অবস্থায় আপনার ছেলের মেয়ের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই।
এর একচ্ছত্র মালিকানা আপনার।

(০২)
সম্পূর্ণই ভোগ দখলের অধিকার রাখেন।

(০৩)
অবশ্যই এই অধিকার আপনার রয়েছে।
এতে বাধা দেয়ার অধিকার কারো নেই।
শরয়ী দৃষ্টিকোন হতেও নেই,জানা মতে দেশীয় আইনগত দিক থেকেও নেই।

(০৪)
অবশ্যই আপনি ছেলের কাছ থেকে ঐ ফ্লোরের ভাড়া চাওয়ার অধিকার রাখেন।

ছেলে বড় হওয়ার পর তার ভরণ পোষণ বাসস্থান কোনটির ব্যবস্থা করা বাবা-মার উপর আবশ্যক নয়, তাই তাকে আপনাদের ফ্লোরে থাকতে দেওয়া আপনার পক্ষ থেকে ইহসান আর দয়া,করুনা হবে। এটা কোনভাবেই এমন নয় যে এটা তার অধিকার।

সে এক্ষেত্রে কথা বলার কোনো অধিকার রাখেনা।অন্য ফ্লোর চাওয়ার তো প্রশ্নই উঠেনা।

অন্য ফ্লোরে থাকতে চাইলে অবশ্যই আপনি ছেলের কাছ থেকে ঐ ফ্লোরের ভাড়া চাওয়ার অধিকার রাখেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...