আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (22 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম। একজনের পক্ষে থেকে
১.আমি অনার্স ১ম বর্ষে পড়ি। আমার পড়াশুনার পেছনে আমার বাবা মা অনেক টাকা ব্যয় করছেন, এখনো করতেছে। তারা চান আমি যেন চাকরি করি।৪ বছর আগে আমার বিয়ে হইছে, আমার ৬ মাসের ছেলে আছে। আমার স্বামী অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে, আমার স্বামীরও পড়ার খরচ আমার মা বাবাই দেন। ২মাস+ হলো ভুমি অফিসে কাজ করেন তিনি কোনো নির্ধারিত পদে না। একজন পরিচিত লোক আছে তার কাজ করে দেন। ইনকাম দৈনিক ১০০/৩০০/৫০০/৭০০ কখনোবা খালি হাতে আসেন। তার নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই, আমার বাবার বাড়িতেই আমরা থাকি। এখন আমার মা বাবার কথা যে, যেহেতু তারা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি এমন ছেলেকে আমার সাথে বিয়ে দিতে পারেন নাই (পারিবারিক সমস্যার জন্য) আমি চাকরি করি যাতে আমার ভবিষ্যত ভালো হয়। সন্তানের হক নষ্ট হবে, পর্দা হবে না এই ভেবে চাকরি করতে মন চায় না,আবার স্বামীরও তেমন নিশ্চয়তা সম্পন্ন উপার্জন নাই( স্টুডেন্ট তেমন ভালো না পড়া শেষ করতে পারে কিনা) এখন আমার কি করা উচিত?

২.কেউ যদি যোহরের সুন্নত চার রাকাআত এর আগে যাওয়ালের চার রাকাআত সুন্নত পড়তে চায় তাহলে ২টা ৩টার দিকেও কি যাওয়ালের সালাত পড়তে পারবে?

৩.আমি নরমালি সবাইকে সালাম দেই।মেয়েদের। তো দেখা যায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পাশে পুরুষ থাকলে সালাম দেই না।আবার ব্যস্ততা থাকলেও দেই না অনেক সময়।এতে কি গুনাহ হবে?

৪.আর যখন অনেক ভিড় থাকে মেয়েদেরই।তখনও সালাম দিতে পারি না।এক্ষেত্রে ভিড়ের মাঝে কিভাবে এক এক করে সালাম দিব কনফিউজড হয়ে যাই।কি করতে পারি এক্ষেত্রে?
৫.একজনের সাথে বারবার দেখা হলে বারবারই সালাম দিতে হবে?৫ মিনিট পর পর হলেও?

৬.এক রুমে অনেকজন থাকলে কিভাবে সালাম দিব?বাইরে থেকে রুমে আসলেই খালি সালাম দেয়া হয়।সবাই রুমে থাকলে সারাদিনে একবারও সালাম দেয়া হয় না।কিভাবে রুমে/বাসায় সালাম প্রাকটিস করব?কখন কখন সালাম দিব?

৭.গীবত করতে চাই না হয়ে যায়।এখন যার গীবত করি  তার কাছে মাফ চাইতে গেলে ঝামেলা হবে। মনোমালিন্য হবে।সেক্ষেত্রে গুনাহ মাফের জন্য কি করতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (766,410 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
প্রয়োজন, অপরাগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শরীয়ত তাদের ওপর এমন দায়িত্ব আরোপ করে নি, যার কারণে তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াতযুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’(সূরা আহযাব ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ، وَإِنَّهَا لا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরানী ২৯৭৪)

নারী মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‘তাদের জন্য তাদের ঘর উত্তম।’ (আবু দাউদ ৫৬৭)

নারী চাকরির খাতিরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। নিয়ম ও শর্তগুলো মেনে চললে নারীর জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয হবে; অন্যথায় নয়। 
যেমন,
– যদি সত্যিকারে তার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে।
– চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামন্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।
– কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
– চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।
– কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।
– নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
উপরের শর্তাবলী মেনে আপনি চাকরি করতে পারেন।

তবে সর্বদা উপরের সমস্ত শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। 

(০২)
হ্যাঁ, পারবে।

(০৩)
না,এতে গুনাহ হবেনা।

(০৪)
যদি সেখান হতে আপনার সালামের আওয়াজ কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ এর কানে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি সাভাবিক ভাবেই সালাম দিতে পারেন।

(০৫)
একবার সালাম দিলেই যথেষ্ট। 

(০৬)
যখনই রুমে প্রবেশ করবেন, তখনই সালাম দিবেন।

রুম হতে বের হয়ে কাউকে দেখলে, তাকে সালাম দিবেন।

যখন অন্য রুমে প্রবেশ করবেন, তখনও সালাম দিবেন।

উল্লেখ্য, কোনোক্রমেই সালামের আওয়াজ যেনো গায়রে মাহরাম পুরুষ এর কানে না যায়।

(০৭)
গীবতের কথা উল্লেখ না করে এমনিতেই তার থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

বলবেন যে আমি আপনার কোনো অন্যায় করে থাকলে/হক নষ্ট করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...