আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
99 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। উস্তাদ, পর্দা নিয়ে অনেক কটুক্তি করে আত্নীয় স্বজনরা, রীতিমতো ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে। পর্দাকে ইস্যু করে চরিত্রে দাগ পর্যন্ত লাগাচ্ছে। যেমন : পাত্রপক্ষ দেখতে আসলে নন মাহরাম পুরুষদের সামনে মুখ, চুল দেখাই না, কেউ ছবি চাইলে ছবি দেইনা। তাই তারা অনেক মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে যে কারো সাথে সম্পর্ক আছে বিধায় এমন করি। এমন অনেক মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। মূলত আমার বিয়ে যেন না হয় তাই এমন অপবাদ দিচ্ছে। কিছু আত্নীয় স্বজনদের এমন ইচ্ছাকৃত অপবাদের কারণে বাকি আত্নীয় স্বজন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
১. এমতাবস্থায় যদি তাদের বদদোয়া দেই তাহলে কি গুনাহ হবে?
২. মিথ্যা অপবাদ থেকে বাঁচার উপায় কি?

৩. এমন মিথ্যা অপবাদের কারণে এবং বিনা চেষ্টায় যেহেতু দুনিয়ার কেউ সাহায্য করছে না, এমতাবস্থায় কি সত্যি বিয়ে হবে না?

৪. সরাসরি আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য কি আমল করতে পারি?

৫. যারা আমাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে পর্দা নিয়ে এমন কটুক্তি করছে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কি শাস্তি রয়েছে?
by
জালেমের বিরুদ্ধে দোয়া করলে গুনাহ নাই।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না। বুখারী হাদীস ২৪৪৮ 

1 Answer

0 votes
by (807,300 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ইসলামী দৃষ্টিতে অপর মুসলমানকে অপবাদ দেওয়া কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا [٣٣:٥٨]
যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। {সূরা আহযাব-৫৮}এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/7406

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) প্রতিশোধ গ্রহণ বা বদদোয়া দেয়া জায়েয হলেও মাফ করে দেয়াই সর্বোত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
ﻭَﺟَﺰَﺍﺀ ﺳَﻴِّﺌَﺔٍ ﺳَﻴِّﺌَﺔٌ ﻣِّﺜْﻠُﻬَﺎ ﻓَﻤَﻦْ ﻋَﻔَﺎ ﻭَﺃَﺻْﻠَﺢَ ﻓَﺄَﺟْﺮُﻩُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ
আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।
(সূরা আশ-শুরা-৪০)

(২) অযথা কেউ মিথ্যা অপবাদ দিলে তার জন্য সে অবশ্যই শাস্তি পাবে। এজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত এবং হেকমতের সাথে চলাফেরা করা উচিত।

(৩) আল্লাহ যার বিয়ে যখন লিখে রাখছেন তখনই হবে। দুনিয়ার কেউই আপনার বিয়েকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না।

(৪) সরাসরি আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তে হবে। ইস্তেগফার করতে হবে। এবং আশা রাখতে হবে শতবৎসর পর হলেও আল্লাহ দু'আ কবুল করবেন। তথা কোনো দু'আই বৃথা যাবে না।

(৫) যারা আপনাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে পর্দা নিয়ে এমন কটুক্তি করছে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অবশ্যই শাস্তি থাকবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...