— ভোট দিতে পারব?
— হ্যাঁ
— কেন?
— আল্লাহর দ্বীন ও আইন প্রতিষ্ঠার জন্য।
— কীভাবে?
— কারণ এতে ইসলাম প্রিয়,সৎ,যোগ্য,আল্লাহ ভীরু মানুষগুলোকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যমে আল্লাহর আইনকে বাস্তবায়ন করার পথ সহজ হয়।
শারে'/হাকিম (আইনপ্রণেতা) শুধুই আল্লাহ। আর ভোটের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও আল্লাহর প্রণীত আইনসমূহকে বাস্তবায়নের জন্য ইসলামপ্রিয় তাকওয়া সম্পন্ন যোগ্য প্রিতিনিধিদের নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
...
বর্তমানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চাওয়া ইসলাম পন্থী মানুষগুলো মনে প্রাণে চান যেন আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা পায়, ইনসাফ কায়েম হয়। এক্ষেত্রে তারা গণতন্ত্রকে একটা সামান্য প্রদ্ধতি হিসেবেই ব্যবহার করেন মাত্র সমাজে দ্বীনের দাওয়াত প্রদানের জন্য, প্রচলিত ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের জন্য। অর্থাৎ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অর্থ জনগণের মতামতের প্রেক্ষিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। তারা যদি নির্বাচন না করতেন তাহলে দেশ ও জাতিকে সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য এবং সময়,সুযোগের স্বদব্যবহার না করার জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী থাকতেন। ভুলের উর্ধ্বে কেউই নয় কিন্তু এটা তো সত্যি যে, অযোগ্য প্রার্থীরা ক্ষমতায় আসা মানে জনগণের ওপর জুলুম করা। আর সৎ, যোগ্য, আল্লাহ সচেতন মানুষ ক্ষমতায় আসা মানে জুলুম না হওয়া বা কম হওয়া। তাই ইসলামপ্রিয় যোগ্য মানুষগুলো নির্বাচন না করলে মানুষের ওপর জুলুম করার দায় নিয়ে এবং জালিমদেরকে জুলুম করার সুযোগ করে দেয়ার দায় নিয়ে আল্লাহর কাছে যেতে হবে। তাই তাদের নির্বাচন করাটা যেমন সময়ের দাবী তেমনি ঈমানী দায়িত্বও বটে।
এখানে সৎ, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করলে আর জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আর তাদের দ্বারা দ্বীন ও উম্মাহর কল্যাণমুখী কাজ হলে, সমাজে, রাষ্ট্রে দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হলে হারাম কেন হবে? দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করা যেখানে অসংখ্য আলেমের মতে জায়েজ এবং অসংখ্য আলেমগণও যেখানে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করেছেন এবং করছেন সেখানে হারাম হচ্ছে কি করে? এখানে ইসলাম পন্থী সবাই বিশ্বাস করেন যে, সার্বভৌমত্ব আল্লাহর, আইনও আল্লাহর। তাই এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে তারা নিজেদের সামর্থ্য আর সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন যতটুকু সম্ভব। পরিবর্তন কখনও একবারে হয়না ধীরে ধীরে হয়। এর জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করতে হয়, মেহনত করতে হয়, অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ করতে হয়, অত্যাচার,নির্যাতন, মিথ্যে অপবাদ, জুলুম ইত্যাদি সহ্য করতে হয়,রক্ত দিতে হয়। যারা এত বছর ধরে ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে এসেছেন নেতৃত্ব দানের মতো সামর্থ্য অর্জন করেছেন আমাদের উচিত সবাইকে সহযোগিতা করা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা। ভোটকে আমানত হিসেবে নিয়ে এর খেয়ানত না করা।
..
খিলাফাত পতনের পর ইহুদিদের সফলতা হলো সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলে খিলাফাতে বিশ্বাস করা মুসলিমদের গণতন্ত্র পদ্ধতিতে ভোট প্রদান থেকে বিরত রেখে যোগ্য নেতা নির্বাচন থেকে বিরত রেখে সেকুলার জালেম শাসক চাপিয়ে দেয়া যারা মুসলিমদের দাস বানিয়ে রেখে জুলুম করবে। তাই তুলনামূলক যাকে যার থেকে বেশি ইসলাম প্রিয়, সৎ, যোগ্য মনে হবে তাকে ভোট দিয়ে ইসলাম, মুসলিম, দেশ ও উম্মাহর স্বার্থে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা সময়ের দাবী এবং দ্বীন ও উম্মাহর বৃহৎ কল্যাণে জুলুমকে রুখে দিতে নির্বাচনে ইসলাম প্রিয় সৎ, যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং এরূপ যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেয়া ঈমানি দাবিও বটে!