আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
92 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 প্রচলিত রাজনৈতিক দল যারা মানব রচিত বিধান  ধারা দেশ পরিচালনার জন্য জান মাল বিলিয়ে দেয় । গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই যাদের মূল উদ্দেশ্য। সেই সব দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে।

দলের সকল নেতাকর্মী  কি মুরতাদ বলে গণ্য হবে?
যদি কোন ব্যক্তি না বুঝে ঐসব দলের সমর্থন করে তার ব্যাপারে কি একই বিধান প্রযোজ্য?সেও কি মুরতাদ হয়ে যাবে?
আরেকটা প্রশ্ন ছিল :

কোরআনে আমরা দেখি চারটি মাসে যুদ্ধ করা হারাম। বর্তমান সময়েও কি ওই চারটি মাসের যুদ্ধ করা হারাম?
প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা একটু স্পষ্টভাবে দিয়েন।
by
— ভোট দিতে পারব?
— হ্যাঁ

— কেন?
— আল্লাহর দ্বীন ও আইন প্রতিষ্ঠার জন্য। 

— কীভাবে?
— কারণ এতে ইসলাম প্রিয়,সৎ,যোগ্য,আল্লাহ ভীরু মানুষগুলোকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যমে আল্লাহর আইনকে বাস্তবায়ন করার পথ সহজ হয়।

শারে'/হাকিম (আইনপ্রণেতা) শুধুই আল্লাহ। আর ভোটের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও আল্লাহর প্রণীত আইনসমূহকে বাস্তবায়নের জন্য ইসলামপ্রিয় তাকওয়া সম্পন্ন যোগ্য প্রিতিনিধিদের নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
...
বর্তমানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চাওয়া  ইসলাম পন্থী মানুষগুলো মনে প্রাণে চান যেন আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা পায়, ইনসাফ কায়েম হয়। এক্ষেত্রে তারা গণতন্ত্রকে একটা সামান্য প্রদ্ধতি হিসেবেই ব্যবহার করেন মাত্র সমাজে দ্বীনের দাওয়াত প্রদানের জন্য, প্রচলিত ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের জন্য। অর্থাৎ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অর্থ জনগণের মতামতের প্রেক্ষিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। তারা যদি নির্বাচন না করতেন তাহলে দেশ ও জাতিকে সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য এবং সময়,সুযোগের স্বদব্যবহার না করার জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী থাকতেন। ভুলের উর্ধ্বে কেউই নয় কিন্তু এটা তো সত্যি যে, অযোগ্য প্রার্থীরা ক্ষমতায় আসা মানে জনগণের ওপর জুলুম করা। আর সৎ, যোগ্য, আল্লাহ সচেতন মানুষ ক্ষমতায় আসা মানে জুলুম না হওয়া বা কম হওয়া। তাই ইসলামপ্রিয় যোগ্য মানুষগুলো নির্বাচন না করলে মানুষের ওপর জুলুম করার দায় নিয়ে এবং জালিমদেরকে জুলুম করার সুযোগ করে দেয়ার দায় নিয়ে আল্লাহর কাছে যেতে হবে। তাই তাদের নির্বাচন করাটা যেমন সময়ের দাবী তেমনি ঈমানী দায়িত্বও বটে।
এখানে সৎ, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করলে আর জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আর তাদের দ্বারা দ্বীন ও উম্মাহর কল্যাণমুখী কাজ হলে, সমাজে, রাষ্ট্রে দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হলে হারাম কেন হবে? দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করা যেখানে অসংখ্য আলেমের মতে জায়েজ এবং অসংখ্য  আলেমগণও যেখানে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করেছেন এবং করছেন সেখানে হারাম হচ্ছে কি করে? এখানে ইসলাম পন্থী সবাই বিশ্বাস করেন যে, সার্বভৌমত্ব আল্লাহর, আইনও আল্লাহর। তাই এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে তারা নিজেদের সামর্থ্য আর সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন যতটুকু সম্ভব। পরিবর্তন কখনও একবারে হয়না ধীরে ধীরে হয়। এর জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করতে হয়, মেহনত করতে হয়, অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ করতে হয়, অত্যাচার,নির্যাতন, মিথ্যে অপবাদ, জুলুম ইত্যাদি সহ্য করতে হয়,রক্ত দিতে হয়। যারা এত বছর ধরে ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে এসেছেন নেতৃত্ব দানের মতো সামর্থ্য অর্জন করেছেন আমাদের উচিত সবাইকে সহযোগিতা করা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা। ভোটকে আমানত হিসেবে নিয়ে এর খেয়ানত না করা।
..
খিলাফাত পতনের পর ইহুদিদের সফলতা হলো সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলে খিলাফাতে বিশ্বাস করা মুসলিমদের গণতন্ত্র পদ্ধতিতে ভোট প্রদান  থেকে বিরত রেখে যোগ্য নেতা নির্বাচন থেকে বিরত রেখে সেকুলার জালেম শাসক চাপিয়ে দেয়া যারা মুসলিমদের দাস বানিয়ে রেখে জুলুম করবে। তাই তুলনামূলক যাকে যার থেকে বেশি ইসলাম প্রিয়, সৎ, যোগ্য মনে হবে তাকে ভোট দিয়ে ইসলাম, মুসলিম, দেশ ও উম্মাহর স্বার্থে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা সময়ের দাবী এবং দ্বীন ও উম্মাহর বৃহৎ কল্যাণে জুলুমকে রুখে দিতে নির্বাচনে ইসলাম প্রিয় সৎ, যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং এরূপ যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেয়া ঈমানি দাবিও বটে!

1 Answer

0 votes
by (808,830 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
অতীব জরুরী ও সাধারণ মাস'আলা মাসাঈল আয়ত্বে না থাকার কারণে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলাম পালন করতে, যে সমস্ত দ্বীনি ভাই-বোন থমকে দাড়ান,এবং যাদের দ্বীনি ইলম অর্জনের কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নেই, মূলত তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস .....
মুহতারাম/মুহতারামাহ!
দ্বীনের পরিধি অনেক ব্যাপক, সকল বিষয়ে আলোচনা করা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া স্বল্প পরিসরের এই ভার্চুয়ালি মাধ্যম দ্বারা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। চেষ্টা করলেও প্রশ্নকারীর পিপাসা মিটানো সম্ভব হবে না। প্রত্যেক বিষয়ে আমরা শুধুমাত্র সামান্য আলোকপাত করে থাকি।
উপরোক্ত প্রশ্নটির ব্যাপারে উলামায় কেরামের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মতবিরোধপূর্ন প্রশ্নগুলো উত্তর দেওয়ার জন্য স্থান, কাল, পাত্র অনেক কিছুই জানার প্রয়োজন হয়। যেটা অনলাইনে জানা সম্ভব হয় না।
তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উলামায় কেরামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে বলেই আমাদের ধারণা। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/36


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...