আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
ঘটনা:

আমার বন্ধু ২০১২ সালে ছাত্রাবস্থায় গোনাহ থেকে বাঁচতে পরিবার ছাড়া তাবলীগের আরেক বন্ধু ও আমার সহযোগিতায় কাজি অফিসে বিয়ে করে। বিয়ের পর সে এবং তার স্ত্রী যার যার বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতো। ২০১৩ সালে ঝগড়া করে রাগের বসে মোবাইলে টেক্সট করে তিনবার তালাক লিখে তার স্ত্রীকে পাঠিয়েছিল। এই তালাক লেখা টেক্সট পাঠানোর ১৫/২০ দিন পর তারা একসাথে রাত্রিযাপন করেছে।এরপর ২০১৪ সালে আরেকবার ফোনে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তার বউ তাকে বলেছে ছেড়ে দিলে দাও ,সেসময় সেও নাকি বলেছিল যাও দিলাম।। সেবার এই কথার ১০/১৫ দিন পর উনারা একসাথে রাত্রিযাপন করেছিল।তখন দুজন ই ছাত্র অবস্থায় ছিল। এই দুই ঘটনার সময় তার স্ত্রী হায়েজ অবস্থায় ছিল কিনা এটা দুজন ই ভুলে গিয়েছে কারণ দুটি ঘটনা ই ফোনে এবং তখন এরা এসব বিষয়ে অবগত ও ছিল না।


এরপর ২০১৬ সালে তাদের পারিবারিকভাবে আবার বিয়ে হয় যেহেতু প্রথমবার বিয়ের কথা পরিবার জানতো না। সে বিয়ের পর বর্তমানে তাদের ১ সন্তান রয়েছে। কিন্তু এই দুবারা বিয়ের পর ২০২৩ সালে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে একবার তালাক উচ্চারণ করেছিল। কিন্তু দুজন ১০ মিনিট পর ই ঠিক হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন যাপন করতে থাকে।
উল্লেখ্য প্রতিবার ই তালাক রাগের চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় উচ্চারণ করেছে বা লিখেছে কিন্তু কোনবার ই তার মনে ছেড়ে দেয়ার নিয়ত ছিল না। রাগের মাথায় মনে না থাকলেও মুখে চলে এসেছিল।  আগে এরা বিয়ে ও তালাক সম্পর্কে এতো জানতো না এবং ইসলামের বিধান জানতো না। ইদানীং ইসলামি আলোচনা শুনে মনে প্রশ্ন জাগ্রত হওয়ায় ওরা জানতে চাচ্ছে এই ঘটনাসমূহে ইসলামি দৃষ্টিতে কোন সমস্যা আছে কিনা? সমস্যা হলে এর সমাধান কি??


আমি যতদূর জানি এরা পারিবারিক জীবনে বেশ খুশি এবং আধুনিক। ইদানীং ইসলামি ধ্যান ধারণা মাথায় আসায় এগুলো ভাবছে।
আপনি সদয় পরামর্শ দিলে এরা উপকৃত হতো।

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

তালাক এটি খুবই মারাত্মক একটি শব্দ। নিকৃষ্ট হালাল বলা হয়েছে হাদীসে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ " .

কাসীর  ইবন  উবায়দ .......... ইবন  উমার  (রাঃ)  নবী  করীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  হতে  বর্ণনা  করেছেন যে,  আল্লাহ্  তা‘আলার  নিকট  নিকৃষ্টতম  হালাল বস্তু  হল  তালাক।

(আবূ দাউদ ২১৭৮, ইরওয়া ২০৪০, যইফ আবু দাউদ ৩৭৩-৩৭৪, আর-রাদ্দু আলাল বালীক ১১৩।) 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}


লিখিত/মেসেজের মাধ্যমে তালাক দিলেও তালাক পতিত হয়ে যায়।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

"عن حماد قال: إذا کتب الرجل إلی امرأته -إلی- أمابعد! فأنت طالق فهي طالق، وقال ابن شبرمة: هي طالق". (المصنف لابن أبي شیبة، کتاب الطلاق، باب في الرجل یکتب طلاق امرأته بیده، مؤسسة علوم القرآن ۹/۵۶۲، رقم: ۱۸۳۰۴)

মর্মার্থঃ 
কেহ যদি তার স্ত্রীর নিকট লিখে, তুমি তালাক।
সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হয় যাবে।

فَإِنْ كَانَ كَتَبَ: امْرَأَتُهُ طَالِقٌ فَهِيَ طَالِقٌ سَوَاءٌ بَعَثَ الْكِتَابَ إلَيْهَا، أَوْ لَمْ يَبْعَثْ.
سرخسي، المبسوط، 6: 143، بيروت: دار المعرفة

সারমর্মঃ-
যদি কোনো ব্যাক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক লিখেছে,তাহলে তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়ে যাবে। চাই লেখাটি তার নিকট পাঠাক বা না পাঠাক।

 فتاویٰ عالمگیری
وَلَوْ كَتَبَ الطَّلَاقَ فِي وَسَطِ الْكِتَابِ وَكَتَبَ قَبْلَهُ وَبَعْدَهُ حَوَائِجَ ثُمَّ مَحَا الطَّلَاقَ وَبَعَثَ بِالْكِتَابِ إلَيْهَا وَقَعَ الطَّلَاقُ كَانَ الَّذِي قَبْلَ الطَّلَاقِ أَقَلَّ أَوْ أَكْثَرَ.

الشيخ نظام وجماعة من علماء الهند، الفتاوى الهندية، 1: 378، دار الفكر

সারমর্মঃ-
যদি চিঠির মাঝে তালাক লেখে,এবং তার আগে বা পরে প্রয়োজনীয় কথা লেখে,অতঃপর মাঝে হতে তালাক শব্দ মুছে দেয়,এবং লেখাটি স্ত্রীর নিকট পৌছে দেয়,তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে। চাই তালাকের পূর্বে কম লিখুক বা বেশি লিখুক।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,   
শরীয়তের বিধান হলো এব বৈঠকে ৩ তালাক দেওয়া হোক,বা একাধিক বৈঠকে,
এক শব্দে ৩ তালাক দেওয়া হোক বা একাধিক শব্দে ৩ তালাক দেওয়া হোক,সব ছুরতেই ৩ তালাকই পতিত হয়ে যাবে।       

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তিন উক্ত স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে।      

তিন তালাক দেবার পর উক্ত মহিলা আর নিজের স্ত্রী থাকে না। পর মানুষ হয়ে যায়। 

সুতরাং তারা এখন সম্পূর্ণভাবে যেনার মধ্যে রয়েছে। তাদের কোনো সন্তান হলে সেটি হারাম সন্তান বলে বিবেচিত হবে। 

এক্ষেত্রে তাকে নিয়ে পুনরায় ঘর সংসার করতে চাইলে শরয়ী হালালাহ করতে হবে। 

তা হল, তার সাবেক স্ত্রীর ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র শর্তহীন বিবাহ হতে হবে।তারপর সেই স্বামীর সাথে স্বাভাবিক ঘর সংসার করতে হবে। এমনকি শারিরীক সম্পর্ক হতে হবে। তারপর উক্ত স্বামী যদি আপনার বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে তালাক দেয়, তারপর ইদ্দত শেষ হয়, তাহলেই কেবল আপনার বন্ধু আবার উক্ত মহিলাকে বিবাহ করতে পারবেন। এবং আবার ঘর সংসার করতে পারবেন। এছাড়া দ্বিতীয় কোন রাস্তা খোলা নেই।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...