আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)

বিসমিল্লাহির রহমাননির রহিম

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির সঠিক মিরাস বণ্টনের ভিত্তিতে পারিবারিক বিরোধ সমাধানের জন্য আবেদনঃ

মুনছুর আলী ২০০২ সালে ২য় পক্ষের স্ত্রী শিরিন বেওয়া এবং ২য় পক্ষের স্ত্রীর দুই ছেলে সিজু ও শরিফ এবং ১ম পক্ষের স্ত্রীর সন্তান সিরাজুল ইসলাম কে রেখে মারা যান। মুনছুর আলীর ১ম পক্ষের স্ত্রীর নাম জোবেদা খাতুন (সিরাজুল ইসলাম এর মাতা) জিনি ১৯৮৫ সালে মারা যান। ১ম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যুর পরে মুনছুর আলী ২য় বিবাহ করেন।

সিরাজুল ইসলাম ২০০৫ সালে স্ত্রী জোহরা খাতুন এবং দুই ছেলে নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম কে  রেখে মারা যান। সিরাজুল ইসলাম এর ১ম সন্তান(মেয়ে) উম্মে সোহেলা ১৯৯৯ সালে মারা যান। উম্মে সোহেলার ছেলের নাম স্মরণ এবং স্বামীর নাম আতোয়ার সরদার। জোহরা খাতুন ২০২৩ সালে মারা যান।

জোবেদা খাতুন (সিরাজুল ইসলাম এর মাতা) তার বাবার বাড়ি থেকে কিছু জমি পান যেটা জোবেদা খাতুন এর নামে দলিল করা আছে এবং জোবেদা খাতুন জিবিত থাকা অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম কিছু জমি মাতা  জোবেদা খাতুন এর নামে ক্রয় করেন। কিন্তু জোবেদা খাতুন এর মৃত্যুর পরে সিরাজুল ইসলাম সমস্ত জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন অর্থাৎ দলিল জোবেদা খাতুন এর নামে কিন্তু রেকর্ড সিরাজুল ইসলাম এর নামে আছে। এই জমি গুলো সিরাজুল ইসলাম এর মৃত্যুর পরে স্ত্রী জোহরা খাতুন এবং দুই ছেলে নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম ভোগ করতেছে।

প্রশ্ন ০১- যে জমি গুলোর দলিল জোবেদা খাতুন এর নামে কিন্তু রেকর্ড সিরাজুল ইসলাম এর নামে আছে এই সমস্ত জমি থেকে জোবেদা খাতুন এর স্বামী মুনছুর আলী ও তার ২য় পক্ষের স্ত্রী শিরিন বেওয়া এবং ২য় পক্ষের স্ত্রীর দুই ছেলে সিজু ও শরিফ কোন অংশ পাবে কি?

প্রশ্ন ০২- যদি জোবেদা খাতুন এর স্বামী মুনছুর আলী ও তার ২য় পক্ষের স্ত্রী শিরিন বেওয়া এবং ২য় পক্ষের স্ত্রীর দুই ছেলে সিজু ও শরিফ কোন অংশ পায় এবং এখন তা সঠিক ভাবে তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে  সিরাজুল ইসলাম এর মৃত্যুর পর থেকে বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত তারা যে জমি গুলোর ভোগ থেকে বঞ্চিত ছিল সে ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কি?

সিরাজুল ইসলাম এর ১ম সন্তান(মেয়ে) উম্মে সোহেলা ১৯৯৯ সালে মারা যান পিতা ও মাতা উভয়ে জিবিত থাকা অবস্থায়। বর্তমানে উম্মে সোহেলার ছেলে স্মরণ তার নানা বাড়ির সম্পত্তি দাবি করতেছে যেটা সে কোরআনের আইন অনুযায়ী পায় না কিন্তু বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পায়। তাকে কোরআনের আইন জানানো হয়েছে, তারপরেও সে দেশের আইন অনুযায়ী সম্পত্তির ভাগ নিতে চায়।

জোবেদা খাতুন এর স্বামী মুনছুর আলী ও তার ২য় পক্ষের স্ত্রী শিরিন বেওয়া এবং ২য় পক্ষের স্ত্রীর দুই ছেলে সিজু ও শরিফ কে তাদের অংশ বুঝিয়ে  দিতে গেলে অর্থাৎ কাগজ পত্র ঠিক করতে গেলে দেশের আইন অনুযায়ী স্মরণ কেও তার অংশ দিতে হবে।

রফিকুল ইসলাম আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করতে ইচ্ছুক। এখন প্রাপ্য হকদার কে তার হক দিতে গেলে যে হকদার নয় (স্মরণ) তাকেও দেয়া লাগতেছে। এক্ষেত্রে   রফিকুল ইসলাম এর সাথে নুরুল ইসলাম কেও তার জমি থেকে স্মরণ কে ভাগ দেয়া লাগবে।

প্রশ্ন ০৩- এক্ষেত্রে   রফিকুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম এর উপর আল্লাহর হুকুম কি?

নুরুল ইসলাম কে শিরিন বেওয়া এবং তার দুই ছেলে সিজু ও শরিফ কে তাদের অংশ বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়ে একাধিক বার বলার পরেও নুরুল ইসলাম কোন সদুত্তর দেন না, চুপ থাকেন।

প্রশ্ন ০৪- এক্ষেত্রে   রফিকুল ইসলাম এর উপর আল্লাহর হুকুম কি?

প্রশ্ন ০৫- বান্দার হক বুঝিয়ে দিতে গেলে যদি ভাই নুরুল ইসলামের সাথে রফিকুল ইসলামের  বিরোধ হয় তাহলে রফিকুল ইসলাম কোনটাকে প্রাধান্য দিবে?

এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত উত্তর দিলে অনেক উপকৃত হতাম। আল্লাহ্‌ আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

 

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ- 
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন, 

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ

আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। ( সূরা নিসা-১১-১২)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
জোবেদা খাতুন যিনি ১৯৮৫ সালে মারা গিয়েছেন,মৃত্যুর সময় তার মালিকানায় থাকা সমূদয় সম্পত্তি যাহা ছিলো,মৃত্যুর পর তাহা চার ভাগে ভাগ হবে।

সেই চারভাগের মধ্য হতে এক ভাগ তার স্বামী মনসুর আলী পাবেন।আর বাকি তিনভাগ জবেদা খাতুনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম পাবেন।

সে ভিত্তিতে সিরাজুল ইসলাম তার মা জোবেদা খাতুন হতে জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি ক্রয় করে নিয়েছিলেন সেটির তো মালিক হবেনই, পাশাপাশি তার মায়ের মৃত্যুর পর তার মায়ের সমুদয় সম্পত্তি হতে চারভাগের তিন ভাগ সম্পদ সিরাজুল ইসলাম পাবেন।

মনসুর আলী সাহেবের মৃত্যুর পর তার সমূদয় সম্পত্তি ২৪ ভাগ হবে তার মধ্য হতে তার জীবিত স্ত্রী শিরিন তিনি ৩ অংশ পাবেন এবং মনসুর আলীর যে তিনটি সন্তান আছে সিজু, শরীফ, সিরাজুল ইসলাম প্রত্যেকেই সাত অংশ করে ৩ ছেলে মোট ২১ অংশ পাবেন।

(০২)
সিরাজুল ইসলাম এর মৃত্যুর পর থেকে বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত তারা যে জমি গুলোর ভোগ থেকে বঞ্চিত ছিল, সে ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম হলো তারা এক জায়গায় বসে পরস্পর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে একটি সমাধানে আসবেন।

এক্ষেত্রে যতদিন সিরাজুল ইসলাম তাদের সম্পত্তি ভোগ করেছিলেন, সেভাবে তাদেরকে টাকা দিবেন। এটা তাদের উভয়ের পরস্পর সন্তুষ্টি চিত্তে নির্ধারণ করতে হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে রফিকুল ইসলাম আর নুরুল ইসলামের দায়িত্ব হল তার বাবার সম্পত্তি হতে যতটুকু অংশ মনসুর আলী সাহেবের স্ত্রী শিরিন ও তার দুই ছেলে পাবেন সে সম্পত্তিগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া।

(০৪)
যেহেতু নুরুল ইসলাম সে সম্পত্তিগুলো হকদারদের দিতে চাচ্ছেন না,রফিকুল ইসলাম সাহেব হতে হকদাররা যতটুকু অংশ পাবেন, ততটুকু সে দিয়ে দিবে।

নুরুল ইসলাম যদি না দেয় সেক্ষেত্রে কিয়ামতের ময়দানে তার জবাবদিহিতা তাকেই দিতে হবে।

(০৫)
এক্ষেত্রে সে বান্দারকে হককে প্রাধান্য দিবে।

সে ভাইকে বুঝাবে,বুঝানোর পরেও কাজ না হলে নিজের দায়িত্ব নিজে আদায় করবে।

তার ভাই দায়িত্ব আদায় না করলে সেটার হিসাব তার ভাই দিবে।

রফিকুল ইসলাম নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...