আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াবারকাতুহ উস্তাজ।
আমার কিছুদিন পর পরীক্ষা শুরু হবে একাডেমিক। পরীক্ষা দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত।  সেক্ষেত্রে যোহর নামাজ পড়লেও আসর এর সময় পরীক্ষা হল এ থাকা লাগবে। আমাদের যে কমনরুম আছে সেখানে নামাজ এর তেমন সুন্দর ব্যবস্থা নাই, জায়গা টা পরিষ্কার না, পবিত্র জায়গা সেজদাহ না দিলে কি নামাজ হবে?  তাহলে পরীক্ষা ফাঁকে আমি ওইখানে নামাজ পড়ে নিতাম। আর এই পরিস্থিতি নামাজ কসর করার কোনো সুযোগ আছে কি উস্তাজ?
আবার শুনসি নামাজ ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে ওয়াক্ত আগে নাকি নামাজ পড়ে এটা কি ঠিক?

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো ফরজ নামায বিনা ওযরে বা ইচ্ছেকৃতভাবে নামাজ কাযা করা কবীরা গোনাহ ।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ العُقَيْلِيِّ، قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাকীক রহঃ বলেছেন, হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ কোন আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরী মনে করতেন না শুধু নামায ব্যতীত। অর্থাৎ নামায ছেড়ে দেওয়াকে তারা কুফরীর প্রায় নিকটবর্তী কাজ মনে করতেন। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৬২২]


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَكْبَرَ " .

উছমান ইবন আবূ শায়রা (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ যাদের ভাল-মন্দ আসল লেখা হয় না)। এরা হলোঃ (১) নিদ্রিত ব্যক্তি- যতক্ষণ না সে জাগরিত হয়। (২) পাগল ব্যক্তি- যতক্ষন না সুস্থ হয় এবং (৩) নাবালক ছেলে মেয়ে- যতক্ষণ না তারা বয়োপ্রাপ্ত হয়।
(আবু দাউদ ৪৩৪৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি পাঁচটার সময় পরীক্ষা শেষ করে আসরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। কেননা আসরের নামাজের ওয়াক্ত আরো কিছুক্ষণ বাকি থাকে।

এক্ষেত্রে যদি আপনি পবিত্র জায়গা না পান, তাহলে আপনি সেই যে জায়গাযই পাবেন সেই জায়গাতে কোন জায়নামাজ ইত্যাদির ব্যবস্থা করে বা অন্য কোন কাপড় ব্যবস্থা করে সেই জায়নামাজ/কাপড়ের উপর নামাজ আদায় করবেন।

এমতাবস্থায় কোন ওয়াক্তের নামাজ সেই ওয়াক্তের পূর্বে আদায় করার বৈধতা নেই।
তাই আপনাকে আসরের নামাজ আসরের ওয়াক্তেই আদায় করতে হবে।

পাঁচটার সময় পরীক্ষা হল থেকে বের হয়ে যদি নামাজ আবশ্যিকভাবে কাজা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি চেষ্টা করবেন পরীক্ষা আরো একটু স্পিডে দিয়ে আপনার একটু আগেই পরীক্ষা হল থেকে বের হয়ে নামাজ আদায় করে নিবেন।

আল্লাহ তায়ালা আপনার সহায় হোন,আমিন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...