আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
142 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।


১. ইসলামে স্ত্রীদের মধ্যে রাত্রিযাপন ও ভরণপোষণের সমতার কথা বলা হয়েছে। এখানে ভরণপোষণ বলতে কি কি বিষয়কে বুঝানো হয়েছে বিস্তারিত জানাবেন অনুগ্রহ করে।


২.  ভরণপোষণের সমতার স্বরূপ কিরকম। যখন যে স্ত্রীর যা লাগবে তাই দেওয়া, নাকি উভয়কে সমানভাবে বন্টন করা। খাবার, বস্ত্র ইত্যাদি প্রত্যেক স্ত্রীর প্রয়োজনমাফিক দিতে হবে, নাকি প্রত্যেককেই সমান হারে বন্টন করতে হবে।
জাঝাকুমুল্লহু খয়রন

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
 জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://www.ifatwa.info/6683 নং ফাতওয়ায় বর্ণিত রয়েছে ,
শরীয়তের বিধান মতে একাধিক স্ত্রীর মাঝে যদি ইনছাফ করতে পারে,তাহলে প্রয়োজনের স্বার্থে একাধিক বিবাহ করতে পারবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন
فانكحوا ما طاب لكم من النساء مثنى وثلاث ورباع 
তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে (বিয়ে করো)।(সুরা : নিসা, আয়াত-৩)

দ্বিতীয় বিয়ে করার ইসলামী শর্ত বেশ কঠিন অনেক কড়া। আগের স্ত্রীর সব ধরনের হক আদায়ের পর নতুন বিয়ের পরেও সমান তালে সব অধিকার পালন করার আত্মবিশ্বাস থাকলেই কেবল যৌক্তিক কারণে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়।
قال اللہ تعالی:فإن خفتم ألا تعدلوا فواحدة الآیة (سورہ نسا، آیت:۳)
 আল্লাহতায়ালা বলেন, একাধিক বিয়ের সুবিধা যাদের আছে, তারা যদি সম অধিকার বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভীত হও, তাহলে এক বিয়ে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাক। 
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ : «إِذَا كَانَتْ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّه سَاقِطٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُوْ دَاودَ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِىُّ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো পুরুষের দু’জন সহধর্মিণী থাকে আর সে তাদের মধ্যে যদি ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ ভঙ্গ (অঙ্গহীন) অবস্থায় উঠবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/6683

একাধিক স্ত্রীর মাঝে দুই বিষয়ে সমতা রক্ষা করা অতীব প্রয়োজন। স্ত্রীদের সঙ্গে রাতযাপন ও ভরণ-পোষণ। 

এ দুই অধিকার সব স্ত্রীর ক্ষেত্রে সমানভাবে স্বামীকে পালন করে যেতে হবে। কোন স্ত্রী সুন্দর বা অসুন্দর, আর কোনটি কুমারী বা বিধবা তা পার্থক্য করা যাবে না। 

কিন্তু কোনো স্ত্রীর প্রতি মনের ভালোবাসা বেশি হওয়া, আবার অন্য স্ত্রীর প্রতি কম হওয়া তা সমতার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা, এটি মনের বিষয়, আর মনের ওপর কারও কোনো অধিকার নেই। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে শুধু রাতযাপন ও খরচাপাতি এ দুই বিষয়ে সমতা ধর্তব্য। এটাই হলো একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার ইসলামি শরিয়তের বিধান। 

হাদিসে আছে, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে পালাবণ্টন করতেন এবং ন্যায়বিচার করতেন। আর বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আমার শক্তি-সামর্থ্যানুযায়ী পালাবণ্টন করলাম। সুতরাং যাতে শুধু তোমার ক্ষমতা রয়েছে, তাতে আমার শক্তি নেই। কাজেই তাতে তুমি আমাকে ভর্ৎসনা করো না। (তিরমিজি : ১১৭০, আবু দাউদ : ২১৩৬)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন  
(০১)
ভরণপোষণ বলতে অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান বুঝানো হয়েছে। 

(০২)
প্রত্যেককেই সমান হারে বন্টন করতে হবে।

একজনকে ৫০০ টাকার বাজার করে দিলে অপরজনকেও ৫০০ টাকার বাজার করে দিতে হবে।

একজনকে দুই হাজার টাকা দামের জমা দিলে অপরজনকেও ২০০০ টাকার জমা দিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (35 points)
আমার হাজবেন্ডের দুইজন স্ত্রী চালানোর মতো আর্থিক অবস্থা না। কিন্তু সে আমার বিয়ের নয়মাস পরই বিয়ে করে নিয়েছে। আমার নিজের বিয়ের পর থেকে আমি যথেষ্ট সাশ্রয় করে সংসার করেছি। তার আর্থিক সংকটের কথা ভেবে কখনও পোশাক দাবী করিনি। বিয়ের পর থেকে এই দুই বছরে সে আমাকে চারটি জামা দিয়েছে, যা এখনও পরি আমি। মাসনা করার পর মাসনাকে পাঁচটি দিয়েছে, আমাকে দুটি। রিসেন্টলি মাসনার ভালো ভালো পোশাক থাকার পরও তাকে আবার পোশাক দিয়েছে। আগে পোশাক দিলেও আমি কিছু মনে না করলেও এবার আমার খুব কষ্ট লেগেছে। সে সুন্দর পোশাক পরে বেড়াচ্ছে আর আমি অনেক পুরনো পাজামা পরতেছি। 

এটা নিয়ে গতকাল এই ফতোয়া তাকে দেখালে ফতোয়া দেখে আমাকে ব্লক করে এবং বাসায় এসে জানায় যে আমার সাথে কোনো অন্যায় হয়নি। আমি আমার ছেঁড়া পোশাকের বর্ণনাও দিয়েছিলাম সুন্দর করে। 

এরপর সে আমার রুমের কম্বল তার মাসনাকে দিয়ে আসে, ওটা দিয়ে আমি ঘুমাতাম। বলছে সেই কম্বল তার, তাই সে যাকে ইচ্ছে দিতে পারে। 

ওস্তাদ, এসব নিয়ে কথা বললে সে আমাকে আবারও নির্মমভাবে শারীরিক মানসিক অত্যাচার করে। গতকাল অনেকগুলো থাপ্পর দিয়েছে। মুখে এক ঘুষিতে দাঁত নড়িয়ে দুইটা ঠোঁট মারাত্মক জখম করে দিয়েছে। অনেক রক্ত বের হয়েছে। এছাড়া আমার বাহুতে একের পর এক অনেকগুলো ঘুষি দেওয়ায় আমি হাত নরাতে পারছি না। আমি নাকি আমার সতীনকে হিংসে করি, এজন্য সে এমন করেছে। 

আমি বারবার বলেছি এটা হিংসে না। আপনি সমতা করুন, আর হিংসে যদি হয়েও থাকে তাহলে আপনার সমতার দ্বারা তা তো মিটে যায়, আপনি সমতা করুন। 

গতকাল রাতে আমার উপর অনেক আজাব গেছে। আমাকে বাসা থেকে রাতেই বের করে দিয়েছিলো, আমি জোর করে থেকে গেছি। সকালেও বাসা থেকে চলে যেতে বলেছে, বলেছে আমার সাথে সংসার করবে না। 

কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি শুধু সমতা দাবী করেছিলাম। আমি সব সত্য বরৃণনা দিয়ে ফতোয়া চাইলেও সে দাবী করে আমি মিথ্যাবাদী। এবং আপনারা যে ফতোয়া দেন তা সে প্রত্যাখ্যান করে। গতকাল রাতের অপমান আর মাইর এত বেশি ছিল যে আল্লাহর কাছে তার কর্মফল কামনা করেছি। 

ওস্তাদ, তার লাইফে আমার জরুরত নেই। সে মাসনা করার পর থেকে আমার সাথে কোনোপ্রকার ইলম অর্জন ছাড়াই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আমি তাকে এত পরিমাণে ভালোবাসি যে, সে ভালোবাসে না জেনেও এই সংসার ছাড়তে পারছি না। অত্যাচার করে জেনেও যেতে পারছি না। আমি গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত না খেয়ে। জানি না কেন আমার স্বামী এমন করে। প্রথম নয়মাস সে কখনোই এমন ছিলো না। তারপর তার এসব রূপ দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। 

আমি সমতার কথা বললে সে বলে সবকিছু মাসনার সাথে মিলাই কেন? এগুলো সব হিংসে। কিন্তু ওস্তাদ, সমতা তো মিলিয়েই হয়। 

আমি কি করবো ওস্তাদ? আমার কি তার বলা কথামতো তার সংসার ছেড়ে দেওয়া উচিত? সে আমার হক ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও পজিটিভ। সাওদা রা: এর মতো হক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছে। সে শুধু একজন স্ত্রীর হক পালনে সমর্থ। এহিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করে আমার প্রতি কি জুলুম করেনি? 

আমার স্বামী এমন ছিলো না, সে এমন ছিল না। সে যখন ভালো, অনেক ভালো। কিন্তু হক আদায়ের বিষয়ে সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাধান্য দেয়, আমিও হক দাবী করলে কখনও ব্লক দেয়, কখনও মানসিক টর্চার করে, কখনও শারীরিক। 

আমি আপনাদের থেকে ফতোয়া নিতে নিতে আপনাদেরও হয়তো বিরক্ত করে ফেলতেছি অনেক। কিন্তু এই দুনিয়ায় আমি কাউকে পাচ্ছি না যে আমার স্বামীকে বুঝাবে। আমার বাবার বাড়ির লোকজনকে সে অপমান করে, ধমকা ধমকি করে। আমার মাকেও। গতকাল আমাকে মারতে মারতে বাসায় কল দিয়ে দেখিয়েছে। আম্মু নিষেধ করলে তাকেও এই মহিলা এই ইত্যাদি কটু কথা শুনিয়েছে। 

আমি কোথায় যাবো ওস্তাদ, কি করবো। আমার জন্য খাস করে দোয়া করুন। আমি আপনাদের আইওএমের স্টুডেন্ট। নিজের টাকায় পড়াশোনা করতাম, সেইটাও বন্ধ এক বছর। 

আমার কি এই স্বামী ধরে থাকা উচিত? নাকি বেহায়া হয়ে থেকে যাবো? আজ সকালে সব গুছিয়েও আবার থেকে গেছি, যদিও সে তা চায় না। আমি কি করবো! আমি কি করবো? 
by (770,460 points)
এক্ষেত্রে আপনার পরিবারের মুরব্বিদের কে নিয়ে আপনার স্বামীর পরিবারের মুরব্বিদের সাথে একটি মিটিং করাবেন এবং বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানে চেষ্টা করবেন।

যদি আলোচনা দ্বারাও সমাধান না হয়, সমতা কায়েম আপনার স্বামী করতে না পারে, সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে স্বামী থেকে তালাক নিতে পারেন। স্বামী তালাক না দিলে আপনি তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে আপনি তালাক নিতে পারেন। যদি আপনি তালাকের অধিকার প্রাপ্ত না হন,স্বামীও তালাক না দেয়, সেক্ষেত্রে খোলা তালাকের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...