আমার হাজবেন্ডের দুইজন স্ত্রী চালানোর মতো আর্থিক অবস্থা না। কিন্তু সে আমার বিয়ের নয়মাস পরই বিয়ে করে নিয়েছে। আমার নিজের বিয়ের পর থেকে আমি যথেষ্ট সাশ্রয় করে সংসার করেছি। তার আর্থিক সংকটের কথা ভেবে কখনও পোশাক দাবী করিনি। বিয়ের পর থেকে এই দুই বছরে সে আমাকে চারটি জামা দিয়েছে, যা এখনও পরি আমি। মাসনা করার পর মাসনাকে পাঁচটি দিয়েছে, আমাকে দুটি। রিসেন্টলি মাসনার ভালো ভালো পোশাক থাকার পরও তাকে আবার পোশাক দিয়েছে। আগে পোশাক দিলেও আমি কিছু মনে না করলেও এবার আমার খুব কষ্ট লেগেছে। সে সুন্দর পোশাক পরে বেড়াচ্ছে আর আমি অনেক পুরনো পাজামা পরতেছি।
এটা নিয়ে গতকাল এই ফতোয়া তাকে দেখালে ফতোয়া দেখে আমাকে ব্লক করে এবং বাসায় এসে জানায় যে আমার সাথে কোনো অন্যায় হয়নি। আমি আমার ছেঁড়া পোশাকের বর্ণনাও দিয়েছিলাম সুন্দর করে।
এরপর সে আমার রুমের কম্বল তার মাসনাকে দিয়ে আসে, ওটা দিয়ে আমি ঘুমাতাম। বলছে সেই কম্বল তার, তাই সে যাকে ইচ্ছে দিতে পারে।
ওস্তাদ, এসব নিয়ে কথা বললে সে আমাকে আবারও নির্মমভাবে শারীরিক মানসিক অত্যাচার করে। গতকাল অনেকগুলো থাপ্পর দিয়েছে। মুখে এক ঘুষিতে দাঁত নড়িয়ে দুইটা ঠোঁট মারাত্মক জখম করে দিয়েছে। অনেক রক্ত বের হয়েছে। এছাড়া আমার বাহুতে একের পর এক অনেকগুলো ঘুষি দেওয়ায় আমি হাত নরাতে পারছি না। আমি নাকি আমার সতীনকে হিংসে করি, এজন্য সে এমন করেছে।
আমি বারবার বলেছি এটা হিংসে না। আপনি সমতা করুন, আর হিংসে যদি হয়েও থাকে তাহলে আপনার সমতার দ্বারা তা তো মিটে যায়, আপনি সমতা করুন।
গতকাল রাতে আমার উপর অনেক আজাব গেছে। আমাকে বাসা থেকে রাতেই বের করে দিয়েছিলো, আমি জোর করে থেকে গেছি। সকালেও বাসা থেকে চলে যেতে বলেছে, বলেছে আমার সাথে সংসার করবে না।
কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি শুধু সমতা দাবী করেছিলাম। আমি সব সত্য বরৃণনা দিয়ে ফতোয়া চাইলেও সে দাবী করে আমি মিথ্যাবাদী। এবং আপনারা যে ফতোয়া দেন তা সে প্রত্যাখ্যান করে। গতকাল রাতের অপমান আর মাইর এত বেশি ছিল যে আল্লাহর কাছে তার কর্মফল কামনা করেছি।
ওস্তাদ, তার লাইফে আমার জরুরত নেই। সে মাসনা করার পর থেকে আমার সাথে কোনোপ্রকার ইলম অর্জন ছাড়াই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আমি তাকে এত পরিমাণে ভালোবাসি যে, সে ভালোবাসে না জেনেও এই সংসার ছাড়তে পারছি না। অত্যাচার করে জেনেও যেতে পারছি না। আমি গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত না খেয়ে। জানি না কেন আমার স্বামী এমন করে। প্রথম নয়মাস সে কখনোই এমন ছিলো না। তারপর তার এসব রূপ দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত।
আমি সমতার কথা বললে সে বলে সবকিছু মাসনার সাথে মিলাই কেন? এগুলো সব হিংসে। কিন্তু ওস্তাদ, সমতা তো মিলিয়েই হয়।
আমি কি করবো ওস্তাদ? আমার কি তার বলা কথামতো তার সংসার ছেড়ে দেওয়া উচিত? সে আমার হক ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও পজিটিভ। সাওদা রা: এর মতো হক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছে। সে শুধু একজন স্ত্রীর হক পালনে সমর্থ। এহিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করে আমার প্রতি কি জুলুম করেনি?
আমার স্বামী এমন ছিলো না, সে এমন ছিল না। সে যখন ভালো, অনেক ভালো। কিন্তু হক আদায়ের বিষয়ে সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাধান্য দেয়, আমিও হক দাবী করলে কখনও ব্লক দেয়, কখনও মানসিক টর্চার করে, কখনও শারীরিক।
আমি আপনাদের থেকে ফতোয়া নিতে নিতে আপনাদেরও হয়তো বিরক্ত করে ফেলতেছি অনেক। কিন্তু এই দুনিয়ায় আমি কাউকে পাচ্ছি না যে আমার স্বামীকে বুঝাবে। আমার বাবার বাড়ির লোকজনকে সে অপমান করে, ধমকা ধমকি করে। আমার মাকেও। গতকাল আমাকে মারতে মারতে বাসায় কল দিয়ে দেখিয়েছে। আম্মু নিষেধ করলে তাকেও এই মহিলা এই ইত্যাদি কটু কথা শুনিয়েছে।
আমি কোথায় যাবো ওস্তাদ, কি করবো। আমার জন্য খাস করে দোয়া করুন। আমি আপনাদের আইওএমের স্টুডেন্ট। নিজের টাকায় পড়াশোনা করতাম, সেইটাও বন্ধ এক বছর।
আমার কি এই স্বামী ধরে থাকা উচিত? নাকি বেহায়া হয়ে থেকে যাবো? আজ সকালে সব গুছিয়েও আবার থেকে গেছি, যদিও সে তা চায় না। আমি কি করবো! আমি কি করবো?