আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
105 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (51 points)
১.ইদানিং সকল অফলাইনের সাথে সাথে অনলাইন প্লাটফর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন কোর্স/ সিলেবাস ইত্যাদি ডিজাইনিং এর ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল পুরুষ ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বলা/ মিটিং করতে হয়।
আমার প্রশ্ন হলো:
নন মাহরামের সাথে কথা বলাটা জরুরত কখন হয়? ফরজ ওয়াজিব এর মতো আবশ্যক না হলে অনেক বড় হারামের মতো ক্ষতি হবে এমন ক্ষেত্রে?  নাকি নফল কাজের ক্ষেত্রেও জায়েয আছে? (উপরে উল্লিখিত ক্ষেত্রের মতো)
আরো উদাহরণ, যেমন -উস্তাযের কাছে পড়া দেওয়া, কোনো প্রজেক্ট সংক্রান্ত দ্বীনি বিষয়ের মিটিং করা ইত্যাদি। (এসব কি আবশ্যকীয়ভাবে জরুরতের কাতারে পড়ে?)

যদি দ্বীনি বিষয়ের কোনো মিটিং হয় সেক্ষেত্রে অনলাইনে  একজন পুরুষ একাধিক মহিলা জয়েন থাকে তাদের মধ্যেও কি শয়তান থার্ড পার্সন হিসেবে থাকে?

শুধুমাত্র একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা যদি জয়েন্ড থাকে তাহলে সেখানে ৩য় ব্যক্তি কি শয়তান হয় যদিও সেখানে দ্বীনের বিষয়ে ফিকির করা হচ্ছে?

স্বাভাবিক কণ্ঠ, সেটা যদি কোমল হয় সেক্ষেত্রে কি গায়রে মাহরামের সঙ্গে সেই স্বাভাবিকতা নিয়েই কথা বলা যাবে? অনেকে বলে থাকেন, স্বাভাবিকভাবে কথা বললে সমস্যা নেই, কণ্ঠে অতিরিক্ত মিষ্টতা যুক্ত করে কথা বললেই শুধু নিষেধাজ্ঞা।
উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে মুনাসিব হতো।
২.হিন্দুদের বিয়েতে তারা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শিরক করে থাকে ঐ সকল বিয়েতে যাওয়া একজন মুসলিম নারীর জন্য যাওয়া জায়েজ হবে কিনা?তাদের বিয়েতে হাদিয়া দেওয়া যাবে কিনা?
৩.সুরা কাউসার এর ৩ নং আয়াত এ شَانِئَکَ এই অংশের শেষে কাফ হরফে যদি এক আলিফ মাদ করে ফেলি তাহলে কি নামাজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মানুষের প্রয়োজন তিন প্রকারের হতে পারে। 
(১)জরুরত (এমন প্রয়োজন যা না হলে নয়) : 
এমন এক ধরনের প্রয়োজন, যা ছাড়া জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। যেমন, মরুভূমিতে ক্ষুধার্ত একজন মানুষ, যার কাছে কোনো খাবার নেই। (এই পরিস্থিতিতে মানুষটি জীবন বাঁচানোর তাগিদে হারাম বস্তুও ভক্ষণ করতে পারবে)।
আল্লামা হামাওয়ী রাহ জরুরতের ব্যাখ্যা এভাবে করেন যে,
الضرورۃ بلوغہ حدا إن لم یتناول الممنوع ہلک أوقارب۔ (حموي علی ہامش الأشباہ، مطبع دیوبند ۱/ ۱۴۰، کراچی ۱/ ۱۱۹، مطبع زکریا دیوبند ۱/ ۲۵۲) 
মর্মার্থঃ
জরুরত হল মানুষ এমন এক পর্যায়ে পৌছে যাওয়া যে, যদি সে নিষিদ্ধ জিনিষ সমূহ না করে, তাহলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে বা ধ্বংসের নিকটবর্তী হয়ে যাবে।

আল্লামা মুহাম্মদ আমীন শানক্বিতি রাহ তাফসিরু আদওয়ায়িল বায়ান গ্রন্থে জরুরতে ব্যখ্যা এভাবে লিখেন যে, 
حد الإضطرار المبیح لأکل المیتۃ الخوف من الہلاک علما أوظنا۔ (تفسیر أضواء البیان ۱/ ۱۷۱) 
পরিস্থিতি মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে পৌছিয়ে দেয় যে,যা মৃত জিনিষকে ভক্ষণ করা মুবাহ করে, তা হল, নিশ্চিত ভাবে বা অধিকাংশ ধারণা যে, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে মানুষকে পৌছে দেয়। 


(২)হাজত (এমন প্রয়োজন যা না হলে অত্যাধিক কষ্ট হবে) : 
কষ্ট বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে যা করা হয়ে থাকে। (এখানে কষ্ট বা যন্ত্রণা বলতে জীবনের জন্যে হুমকিস্বরূপ বোঝাচ্ছে না) যেমন- একজন সাওম পালনকারী ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে। ফরজ সাওম হলেও এ ক্ষেত্রে তা ঐ ব্যক্তির জন্যে ভাঙার অনুমোদন রয়েছে।বা মেয়ের বিয়েতে টাকার প্রয়োজন।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3283


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উস্তাযের কাছে পড়া দেওয়ার বিষযটা ব্যখ্যা সাপেক্ষ্য, যদি মহিলা শিক্ষিকার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে পুরুষ শিক্ষকের সাথে আলোচনা জায়েয হবে না। এবং পড়া দেওয়া জায়েয হবে না।তবে সমপর্যায়ের বিজ্ঞ উস্তাযা না থাকলে তখন রুখসত থাকবে।  কোনো প্রজেক্ট সংক্রান্ত দ্বীনি বিষয়ের মিটিং করাও সর্বাবস্থায় জরুরতের আওতাধীন হবে না। শুধুমাত্র না হলে নয় এমন পর্যায়ের হলে রুখসতযোগ্য। 

(২) হিন্দুদের বিয়েতে তারা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শিরক করে থাকে ঐ সকল বিয়েতে যাওয়া একজন মুসলিম নারীর জন্য জায়েয হবে না। তাদের বিয়েতে হাদিয়া দেওয়া যাবে। 

(৩) সুরা কাউসার এর ৩ নং আয়াত এ شَانِئَکَ এই অংশের শেষে কাফ হরফে যদি এক আলিফ মাদ করে ফেলি তাহলে যদিও মুস্তাহাব পদ্ধতির পড়া হচ্ছে না তবে নামায ফাসিদ হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...