আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
76 views
in পবিত্রতা (Purity) by (6 points)
হাতের আঙ্গুলে সামান্য নাপাকি লেগেছে । যেসব পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায় না টা দিয়ে কি নাপাকী ধূয়া যাবে(যেমনঃ চা , শরবত ,থুথু)?

ওযু গোসল না শুদু নাপাকি দূরীকরণ?...............................................................................

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/22732/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
পবিত্র কুরআন পাকের এরশাদ:

إِذْ يُغَشِّيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ-

“যখন তিনি আরোপ করেন তোমাদের উপর তন্দ্রাচ্ছন্ন তা নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রশান্তির জন্য এবং তোমাদের উপর আকাশ থেকে পানি অবতরণ করেন, যাতে তোমাদিগকে পবিত্র করে দেন এবং যাতে তোমাদের থেকে অপসারিত করে দেন শয়তানের অপবিত্রতা।”  [সুরাহ আনফাল আয়াত ১১]

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে:

وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا-

“এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি।”  [সুরাহ আল ফুরকান : আয়াত ৪৮]

যে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যায় তা নিম্নরূপ—

১। খালেস পানি। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১১, বুখারি, হাদিস : ১৪৬)

খালেস পানি বলা হয় ওই পানিকে, যাতে মৌলিক গুণাবলি (রং, স্বাদ, ঘ্রাণ) বহাল থাকে, কোনো নাপাকির সংমিশ্রণ না হয় এবং অন্য কোনো বস্তু তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫১৪)

খালেস পানি বলতে নিম্নের পানিগুলোকে বোঝানো হয়—

১। আসমান থেকে বর্ষিত পানি ২. কূপের পানি ৩. ঝরনার পানি ৪. নদীর পানি ৫. সাগরের পানি ৬. বরফ গলা পানি .৭ কুয়াশার পানি।(আল ফিকহুল হানাফি আল মুইয়াসসার : ১/৩৩)

পবিত্রতা অর্জিত হওয়া ও না হওয়ার দিক থেকে পানি পাঁচ প্রকার—১। সাধারণ পবিত্র পানি : যে পানি নিজেও পবিত্র আবার অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম তা হলো খালেস পানি। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ১১; বুখারি, হাদিস : ১৪৬)

২। মাকরুহ পানি : যে পানি নিজে পবিত্র এবং তা থেকে পবিত্রতাও অর্জন করা যায়, তবে মাকরুহ; যেমন—বিড়াল, মোরগ, ছিঁড়ে-ফেড়ে খাওয়া জন্তু বা সাপের উচ্ছিষ্ট পানি। খালেস পবিত্র পানি থাকা অবস্থায় এমন পানি দিয়ে অজু-গোসল করা মাকরুহে তানজিহি। যদি এমন পানি ছাড়া কোনো পানি না থাকে, তাহলে এই পানি ব্যবহার করা মাকরুহ হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৩২৪)

৩। সন্দেহযুক্ত পানি : এ ধরনের পানি পবিত্র, কিন্তু তা দ্বারা পবিত্র হওয়ার বিষয়টি সন্দেহযুক্ত; যেমন—গাধা অথবা খচ্চরের উচ্ছিষ্ট পানি। এই পানি পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এর দ্বারা অজু করা ঠিক হবে কি না তাতে সন্দেহ। তাই এমন পানি ছাড়া অন্য পানি না থাকলে তা দিয়ে অজুও করবে, তায়াম্মুমও করবে। এ ব্যাপারে পরস্পর বিরোধপূর্ণ হাদিস থাকায় বিষয়টি সন্দেহযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮৭৭; আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩১৫)

৪। ব্যবহৃত পানি : হাদিসের স্পষ্ট বর্ণনার কারণে ব্যবহৃত পানি পবিত্র। তবে হাদিসের ভাষ্য মতে, এই পানি দ্বারা অজু হবে না। (বুখারি, হাদিস : ৫২৪৪)

ব্যবহৃত পানি বলা হয় এমন পানিকে, যা ‘হাদাস’ (অপবিত্রতা দূর করা বা সওয়াব অর্জনের জন্য অজু ও গোসলে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যবহারকারীর শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পর সেই পানি ব্যবহৃত পানি বলে গণ্য হবে।

৫. নাপাক পানি : সামান্য আবদ্ধ পানি, যাতে নাপাকির মিশ্রণ ঘটেছে—পানির মধ্যে নাপাকির প্রভাব প্রকাশ হোক বা না হোক, এমন পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। (বুখারি, হাদিস : ২৩২)

যে পানির মধ্যে নাপাকির প্রভাব প্রকাশ পায় তা কম হোক আর বেশি, ভাসমান হোক বা আবদ্ধ—সবই নাপাক পানি হিসেবে গণ্য হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫১৪)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি হাতের আঙ্গুলে এতো বেশি শরবত/চা ফেলা হয়ে,যাতে নাপাকি দূর হওয়া সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হোন,সেক্ষেত্রে নাপাকি দূর হয়ে যাবে।

তবে থুথু যেহেতু প্রবাহিত নয় এটি খুব সামান্যই হয়ে থাকে, তাই এর দ্বারা নাপাকি দূর না হওয়ারই সম্ভাবনাই বেশি।

তদুপরি যদি হাতের আঙ্গুলে এতো বেশি থুথু ফেলা হয়ে,যাতে নাপাকি দূর হওয়া সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হোন,সেক্ষেত্রেও নাপাকি দূর হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 356 views
...