আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
117 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (20 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ


ব্যক্তিগত সমস্যা গুলো নিয়ে আমাকে কিছু উত্তম পরামর্শ দিবেন ।

আমার বয়স ২১ বছর। বিয়ের ২ বছর,৫ মাসের ছেলে আছে। বিয়ের ১ বছর আগে আমি হেদায়েত প্রাপ্ত হই আলহামদুলিল্লাহ। এরপর শুরু হয় বেদ্বীন পরিবার,বেদ্বীন পরিবেশে এক লড়াই। দীনদার ছেলে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরিবার বেদ্বীন হওয়ায় তাদের জেদে বেদ্বীন এক লেবাসধারী জীবনে আসে। বেদ্বীন,ডিভোর্সি, কুফু তে পুরো অমিল। বিয়ের পর অনেকবার ডিভোর্স এর কথা ভেবেছি কিন্তু বার বার পরিবার জোর করে পাঠিয়েছে।বিয়ের পর দ্বীন থেকে মাহরুম হয়ে গেছিলাম অনেকটা কিন্তু রব আমাকে বার বার সবর দিয়েছেন হেদায়েত ধরে রাখার।
এখন পরিবারে মা বাবা,শশুড় বাড়িতে স্বামী শাশুড়ি কারোর দ্বীনের উপর বুঝ নেই। আমি আর সবর করতে পারছি এরকম পরিবেশে দ্বীনের উপর টিকে থাকতে। স্বামী গায়ে হাত তোলে কথায় কথায়,মানষিক নির্যাতন,এমনকি আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়,শাশুড়ি - স্বামী যৌতুক দাবি করেন, শাশুরি-স্বামী সবসময় আমার নামে মিথ্যা বদনাম,গীবত করে বেড়াচ্ছে বিয়ের পর থেকেই। স্বামীকে বুঝিয়ে আসচি বিয়ের পর থেকেই কিন্তু তার কোনো পরিবর্তন নেই। ২ মাস থেকে বাবার বাড়িতে আছি,স্বামী কোনো খবর - খরচ দেন না।

অন্যদিকে আমার মা আমার উপর ছোট বেলা থেকেই মানসিক,শারীরিক নির্যাতন করেন। সবসময় মানুষের কাছে আমার খারাপ দিক গুলো বলে বেড়ায়,অজান্তে কিছু করে ফেলি সেটাও মানুষকে বলে বেড়ায়।কথায় কথায় বদ দুআ দেন।বলেন যে মা বাবা জন্ম দিছে তাই তারা সন্তানের সাথে যা খুশি করতে পারবে। তারা জন্ম দিছে জন্যই নাকি সন্তান পৃথিবীতে আসে। আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে এখন আমার সংসারে আমি শশুর বাড়ির মত চলতে পারি না এগুলা নাকি আমার মা বাবার বদ দুআ,সব কথা না শুনার কারণে হয়েছে।

আমার প্রশ্ন -

১/ স্বামী,শাশুড়ি আমার নামে মিথ্যা বদনাম, গীবত করেন কিন্তু আমি চেষ্টা করি তাদের দোষ গুলো ঢেকে রাখার। তাদের দোষ যতো গোপন করি আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছে বেশি,মানুষের কাছে খারাপ হয়ে যাচ্ছি। এখন আমি যদি এর বিপরীতে তাদের দোষ গুলো মানুষ কে বলি এতে আমার গুণাহ হবে? এভাবে সংসার কি টিকিয়ে রাখা যাবে?

২/ আমার মা এখনো আমাকে মারধর করে,এমনকি আজ আমার গলা টিপে ধরেছিল রাগের মাথায় সাথে মারছেও,বদ দুআ দেয়,গীবত,মানুষের সামনে অপমান করে। আমি যা করিনি তা বলতে পারিনা কিছু বললে জুলুম বেড়ে যায়। এসব করলে কি আমি চুপ থাকবো?

৩/ উস্তাদ আমি খুব খারাপ একটা অবস্থায় আছি। কোথাও গিয়ে শান্তি পাই না,ঈমান ধরে রাখতে পারিনা। সবার এরকম জুলুম আর সহ্য করতে পারছি না। বাচ্চাটাকে নিয়ে কিভাবে ঈমান ধরে রেখে বাঁচবো?

৪/ এখন জবানের হেফাজত করতে পারি না,রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না,মা বাবার অন্যায় কথায় জবাব দিয়ে ফেলি। এগুলো কিভাবে সামলাবো?

1 Answer

0 votes
by (765,750 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
হযরত মু'আবিয়া ইবনে হাইদাহ রাযি থেকে বর্ণিত,

معاوية بن حيدة رضي الله عنه ، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ( أَتَرعُونَ عَنْ ذِكْرِ الْفَاجِرِ ! اذْكُرُوهُ بِمَا فِيهِ كَي يَعْرِفَهُ النَّاسُ وَيَحْذَرَهُ النَّاسُ ). 

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,তোমরা কি ফাসিকের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে?বরং তোমরা ফাসিকের কৃত অপরাধ নিয়ে সমালোচনা করো,যাতেকরে লোকজন সেই অপরাধ থেকে বিরত থাকে।আস-(সুনানুল কুবরা-বায়হাক্বী-১০/২১০) 

ছয় ছুরতে কাহারো গীবত করা জায়েজ।
তার মধ্যে ২য় নাম্বার হলোঃ-

 الثاني: الاستعانة على تغيير المنكر ورد العاصي إلى الصواب. وبيانه أن يقول لمن يرجو قدرته على إزالة المنكر: فلان يعمل كذا فازجره عنه ونحو ذلك، ويكون مقصوده إزالة المنكر، فإن لم يقصد ذلك كان حراما. 

(দুই) মন্দকে পরিবর্তন করতে এবং গোনাহগারকে নেকির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কারো গীবত করা।যেমন এমন কারো কাছে গিয়ে গিবত করা,যে ব্যক্তি ঐ মন্দকাজ সম্পাদনকারীকে ধমক দিতে পারে, ইত্যাদি ইত্যাদি।শর্ত এই যে, মন্দকে বিদূরিত করার উদ্দেশ্যই থাকতে হবে।উদ্দেশ্য যদি অন্য কিছু হয় তখন কিন্তু গীবত করা জায়েয হবে না বরং হারাম হবে।

وقد تجب الغيبة لغرض صحيح شرعي لا يتوصل إليه إلا بها وتنحصر في ستة أسباب الأول : التظلم فلمن ظلم أن يشكو لمن يظن له قدرة على إزالة ظلمه أو تخفيفه . الثاني : الاستعانة على تغيير المنكر بذكره لمن يظن قدرته على إزالته

ছয়টি কারণে গীবত করা জায়েজ আছে। যথা-

১- জুলুম থেকে নিচে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে। এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।

২- খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে মন্দকে দূর করার জন্য এমন কাহারো কাছে তাহা বলা যাবে,যারা আপনার স্বামীকে বুঝাতে পারে, ধমক দিতে পারে,সংশোধনের চেষ্টা করতে পারে।
তাহলে এটি হলা জায়েজ।

আর যদি উপরের কোনোটিই না হয়,তাহলে এভাবে গীবত জায়েজ হবেনা।
হারাম হবে।

গীবতের বৈধ ও অবৈধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1715

(০২)
এমতাবস্থায় আপনি আপনার মায়ের কাছে যাবেন না। প্রয়োজনে তার বাসায় যাওয়া বাদ দিবেন। দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন।

(০৩)
নিম্নোক্ত লিংকে দেয়া ফতোয়ার উপর আমল করবেনঃ-

(০৪)
এমতাবস্থায় তাদের সাথে কথা বলা কমিয়ে দিতে পারেন। দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারেন।

তাদের কথার উপর কথা বলবেন না।  তাদের সাথে ধমক দিয়ে কথা বলবেন না।  তাদের সাথে জোর আওয়াজে কথা বলবেন না। 

নম্রতার সাথে তাদের ভুলগুলো আপনি শুধরিয়ে দিতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (20 points)
edited by


উস্তাদ মায়ের বাড়ি ছাড়া থাকার মত আর কোনো জায়গা নেই। দূরত্ব বজায় রেখে চলবো কিভাবে?
আর আমার মা সবসময় বদ দুআ দেয় এগুলো কী সত্যি হবে আমার উপর?
by (765,750 points)
এক্ষেত্রে অন্যায় ভাবে যদি আপনার মা বদদোয়া দেয় তাহলে তা কবুল হবে না ইনশাআল্লাহ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 345 views
...