আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
88 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।

আমি একজন শিক্ষার্থী। বর্তমানে IOM এ পড়ালেখা করতেছি। পূর্বে আমি BSc in Nursing পড়েছি,কোর্স কমপ্লিট হয়নি, ইন্টার্নশিপ না করে আমি বাড়িতে চলে এসেছি। আমার পরিবার এটা কোনো ভাবেই এখনো মেনে নেননি। আমি অবিবাহিত। আমার বাবা বর্তমানে বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ। তিনি উপার্জন করতে সক্ষম নয়। আর আমরা ৫ বোন, কোনো ভাই নেই। ৪ জনের বিয়ে হয়ে গেছে, আমি সবার ছোট। বর্তমানে পরিবারের কোনো উপার্জন নেই। আমাদের কিছু টাকা ব্যাংক এ রাখা আছে এ টাকা থেকে মাসিক সুদ আসে, আর নিজেরা বাড়িতে কিছু সবজি চাষ করা হয় এগুলো দিয়ে সংসার চলে। আমার ১ জন দুলাভাই ব্যাংকার ও আরেকজন দুলাভাই এর উপার্জনে হারাম এর পরিমান বেশি। বোনদের বাড়ি থেকেও আংশিক সাপোর্ট করে। আর আমাদের একটা দোকান ভাড়া দেওয়া আছে ঐটা থেকে বছরে একবার ১২০০০০ টাকা এর মতো ভাড়া পায়। এই টাকাটা কুরবানি ও সারা বছরের চাল কিনে মুটামুটি অল্প দিনেই খরচ করে ফেলে।


এখন এমতাবস্থায় আমি এই হারাম খাবার না খেয়ে পারছিনা। আমি মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু এটা আমার পরিবার কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তারা আমাকে অনেক বকাবকি করে। বলে বাকি খাবার গুলোও তো হারাম ঐ গুলো কেন তাহলে খাচ্ছি। নিজে কেন তাহলে চাকরি করছি না। বাড়িতে আমাকে সবাই বয়কট করে দিয়েছে এমন একটা অবস্থা এখন, অনেক বকাবকি করে। আমার মা অনেক কান্নাকাটি করে, পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়া,ঠিক মতো না খাওয়া, ননমাহরাম এর সামনে না যাওয়া, বেদ্বীন ছেলে বিয়েতে রাজী না হওয়া। মাকে কষ্ট দিতেছি আমি কোনো দিন জান্নাতে যাবো না, আমার ইবাদত কবুল হচ্ছে না এমন কথা বলে সবাই। আমার বোনদের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি রিজিক হারাম বলে। এতে তারা আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বলে। তাদের কোমলভাবে বুঝালেও তারা আমার কোনো কথাকে গুরুত্বই দেয় না।
এমন অবস্থায় আমি কি করতে পারি? আমি কি মাছ মাংস এবং খাবার খাওয়ার পরিমান বাড়াবো? আমি কোনো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না উস্তাদ। এমন অবস্থায় আমি কি করতে পারি? আর আমি কোনো অবস্থায় বাহিরে গিয়ে চাকরি করতে চাচ্ছি না। গ্রাম তাই বাড়িতে বসে উপার্জনের সুযোগ নেই। আর বিয়ের কিছু আমল বলবেন মিন ফদলিক।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
বাবার ইনকাম হারাম হলেও বাবার উপর শরীয়ত কর্তৃক মেয়েকে লালন পালন করা ওয়াজিব।হারাম খাওয়ানোর দরুণ বাবাকে জবাবদিহি করতে হবে।তবে মেয়ে নিরাপরাধ হিসেবেই থাকবে। নাবালক ছেলে সন্তান এবং সকল বয়সের মেয়ে সন্তানের লালনপালনের দায়িত্ব নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের উপর।পিতা,ভাই,চাচা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষরা ধারাবাহিক মেয়ে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটা তাদের উপর ওয়াজিব।তারা এ দায়িত্ব পালন না করলে গোনাহগার হবে।
ونفقة البنت بالغة والابن بالغا زمنا أو أعمى على الأب خاصة به يفتى 
বালেগ মেয়ে এবং বালেগ পঙ্গু বা অন্ধ ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব পিতার উপর।এটার উপরই ফাতাওয়া।(আল-উকুদুদ-দুররিয়া-১/৮২) বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/2362

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মেয়ে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব যেহেতু বাবার তাই বাবার ইনকাম হারাম হলেও সন্তানের জন্য বাবার ইনকাম থেকে গ্রহণ করা নাজায়েয হয় না। বাবার অবর্তমানে আপনার মা বা সামর্থ্যবান বোনদের উপর আপনার আপনার ভরণপোষণ ওয়াজিব। সুতরাং আপনার যদি খোরপোষের কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে আপনি বোনদের থেকে নিতে পারবেন।  দোকানের ভাড়া বাবৎ যা কিছু আসে তা দিয়ে যদি কোনো রকম সংসার চলে যায়, তাহলে কারো কাছ থেকে হারাম কিছু গ্রহণ করা জায়েয হবে না। হ্যা, নিজেদের যা কিছু রয়েছে, তা দিয়ে যদি সংসার না চলে তাহলে অন্যর কাছ থেকে গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনে বোন বা বোন জামাইয়ের হারাম মাল থেকে প্রয়োজন অনুসারে নিতে পারবেন। পর্দা সম্মত হালাল কোনো চাকুরী থাকলে সেটাও করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...