আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
87 views
in পবিত্রতা (Purity) by (3 points)
edited by
হুজুর আসসালামু আলাইকুম।

হুজুর আল্লাহর কসম করে বলছি যা বলছি ১০০% সত্যি বলছি।

২০২৩ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমি আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিশ্বাস করতাম। কিন্তু ইসলাম নিয়ে আমি সিরিয়াস এমন কিছু না। আলেমদের প্রতি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার বিদ্বেষ ছিলো। মনে হতো আলেমরা দ্বীনি ইলম শিখে নিয়ে ইসলাম নিয়ে বেশি পন্ডিত গিরি করে। এদের আমার হিংসা হতো। আমার মনে হতো এই বাংলাদেশে আলেমরা না থাকলে বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ হতো। ইসলামের শএুরা ইসলামী আলেমদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করলে আমার মজা লাগতো মনে মনে। মাঝে মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো। তবে মনে হতো এই বাংলাদেশের আলেম জাতি বেশিরভাগ দিনশেষে ধর্ম ব্যবসায়ী। মাঝে মাঝে দ্বীন নিয়ে ভাবতাম আবার মাঝে মাঝে দ্বীন নিয়ে পরোয়া করতাম না। ইসলাম একমাএ সত্যি ধর্ম এটা নিয়ে অনলাইন এ ঘাটাঘাটি করতাম ইসলাম সত্যি এটা প্রমাণের জন্য। ইসলামের শএুদের প্রতি অন্তর থেকে ঘৃণা আসতো না। ইমানী চেতনা কম ছিলো। মাঝে মাঝে ইমানী চেতনা আসতো। মাঝে মাঝে আমার মনে, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো।

বিবাহ সময়কালীন আমার ইমানের অবস্থা আমি তুলে ধরছি।
আমি শুধু শুক্রবারের নামাজ পড়তাম। আমি ইচ্ছে করে শুক্রবার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল শেষ করে তারপর আবার প্রস্রাব করে নামাজে যেতাম।

আমি জানতাম গোসল করে প্রস্রাব করলে ওজু থাকেনা। তবুও আমি এটা করতাম। একটি কারণ অলসতা আর দ্বিতীয় কারণ আমার মনে এই আল্লাহর ভয় আযাব এসব নিয়ে পরোয়া ছিলো না। আমি ইচ্ছে করে নামাজে বীর্য লাগা নাপাক কাপড় পড়ে যেতাম। আমি জানতাম এটা ঠিক না। কিন্তু আমি আল্লাহর আযাব এসব পরোয়া করতাম না। এমনকি আমি ফরজ গোসল বাকি থাকতেও ইচ্ছে করে কুরআন খুলে দেখতাম। মোবাইল টেপার সময় হঠাৎ আজন বেজে ওঠলে বিরক্তি প্রকাশ করতাম।

আমি ইচ্ছে করলেই ঐ সময়ে ঠিকভাবে ওজু করতে পারতাম এবং পাক কাপড় পরিধান করে নামাজে যেতে পারতাম।
যদিও আমি মাজুর ছিলাম। কিন্তু আমি জনতাম মাজুর হলে এক ওজু দিয়ে পুরো এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা যায়।
এমনকি বিয়ের পরদিন আমি আমার শ্বশুরবাড়ি গিয়েও লোক দেখানোর জন্য ওজু ছাড়া নাপাক শরীরে, নাপাক কাপড়ে মসজিদে যাই। ফরজ গোসল, ওজু, নাপাক কাপড় নিয়ে এইসব অন্যায় আমি জানতাম। কিন্তু আমার মনে আল্লাহর বিধান নিয়ে পরোয়া ছিল না।
অলসতা একটি কারণ ছিলো তবে আমি ইচ্ছে করলেই ওজু করে, ফরজ গোসল সেড়ে, পাক কাপড় পড়ে নামাজ পড়তে যেতে পারতাম। তবে অন্য কারণ আমি পাক পবিএতা নিয়ে পরোয়া করতাম না। ইবাদত কবুল হওয়া এইসব নিয়ে মাথাব্যথা ছিলো না। দ্বীনকে আমি পরোয়া করতাম না। মনে হতো এখন পাক পবিএতার বিধান না মানলে কিছু আসে যাবে না, ভবিষ্যতে পাক পবিএতার বিধান ঠিকভাবে মানবো। এখন এভাবেই নামাজ পড়বো। আমি তো লোক দেখানোর জন্যই নামাজ পড়ি। বিয়ের পরেও শ্বশুরবাড়িতে এমন করছি।
আমার মনে হতো আসলেই কি ইসলাম সত্যি ধর্ম?
এমন প্রশ্ন আসতো মনে। নাস্তিকরা ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করলে আমি মনে মনে মজা পেতাম। নবী (সা) বহুবিবাহ এটা মানতে আমার কষ্ট হতো। মাঝে মাঝে সন্দেহ হতো যে নবী (সা) নারীলোভী। নবীকে নিয়ে কটুক্তি করলে দেশে বিভিন্ন প্রতিবাদ হলে আমার মনে হতো, এই আলেমদের আর কোনো কাজ নাই।
অর্থ জানার পরেও বিভিন্ন শিরকি গান ইচ্ছে করে শুনতাম এবং গাইতাম। মানে দ্বীনকে আমি পরোয়া করিনি। ঐ সময়টাতে আমি দাড়িয়ে প্রস্রাব করতাম ইচ্ছে করে। নামাজে গিয়ে সূরা জানার পরেও ইচ্ছে করেই পাঠ করতাম না। মাঝে মাঝে শুক্রবারে হুজুরের কুরআন হাদিসের আলোচনা ও আমার বিরক্ত লাগতো। মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের দেখলেই রাগ হতো। বাড়ির কাছে মসজিদের মাইক থাকাতে মাঝে মাঝে আযানের তীব্র আওয়াজেও বিরক্ত লাগতো। তবে মাঝে মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো।
আমার বিবাহ এমন অবস্থায় হয়েছিলো। বিবাহ সময়কালীন আমার ইমানের সার্বিক অবস্থা আমি তুলে ধরেছি।

আমি এখন ভাবছি আমি সম্পূর্ণভাবে তওবা করে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধান মেনে ইসলাম পালন করবো। আমি সত্যিকারভাবে ইসলামের পথে ফিরতে চাই।

আমার প্রশ্নঃ বিবাহের সময় আমার ইমানের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমার ঐ সময়ের বিবাহ কি সহীহ হবে নাকি পুনরায় ইমান এনে বিবাহ নবায়ন করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তাওবাহ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﻌَﻠُﻮﺍ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﺃَﻭْ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺫَﻛَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔَﺮُﻭﺍ ﻟِﺬُﻧُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﺼِﺮُّﻭﺍ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻓَﻌَﻠُﻮﺍ ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﺟَﺰَﺍﺅُﻫُﻢْ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٌ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻭَﺟَﻨَّﺎﺕٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻷَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ﴾ [ ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ 136-135 : ]
তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য "ইস্তেগফার"(ক্ষমা প্রার্থনা) করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।(আলে-ইমরান;১৩৫-১৩৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তাওবাহ কবুল হওয়ার জন্য  তিনটি শর্ত রয়েছে।
(ক)পূর্বের কৃত গোনাহের কাজের উপর লজ্জিত হওয়া।(খ)বর্তমানে উক্ত কাজকে পরিত্যাগ করা।(গ)ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

উপরোক্ত শর্তাদি মেনে তাওবাহ করলে অবশ্যই তাওবাহ কবুল হবে।এবং আল্লাহ পূর্বের যাবতীয় গোনাহকে ক্ষমা করে দেবেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1048

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

আপনি সতর্কতামূলক ঈমানকে নবায়ন করে পূনরায় বিয়ে করে নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...