আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
89 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (1 point)
হুজুর আসসালামু আলাইকুম।

হুজুর আল্লাহর কসম করে বলছি যা বলছি ১০০% সত্যি বলছি।

২০২৩ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমি আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিশ্বাস করতাম। কিন্তু ইসলাম নিয়ে আমি সিরিয়াস এমন কিছু না। আলেমদের প্রতি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার বিদ্বেষ ছিলো। মনে হতো আলেমরা দ্বীনি ইলম শিখে নিয়ে ইসলাম নিয়ে বেশি পন্ডিত গিরি করে। এদের আমার হিংসা হতো। আমার মনে হতো এই বাংলাদেশে আলেমরা না থাকলে বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ হতো। ইসলামের শএুরা ইসলামী আলেমদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করলে আমার মজা লাগতো মনে মনে। মাঝে মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো। তবে মনে হতো এই বাংলাদেশের আলেম জাতি বেশিরভাগ দিনশেষে ধর্ম ব্যবসায়ী। মাঝে মাঝে দ্বীন নিয়ে ভাবতাম আবার মাঝে মাঝে দ্বীন নিয়ে পরোয়া করতাম না। ইসলাম একমাএ সত্যি ধর্ম এটা নিয়ে অনলাইন এ ঘাটাঘাটি করতাম ইসলাম সত্যি এটা প্রমাণের জন্য। ইসলামের শএুদের প্রতি অন্তর থেকে ঘৃণা আসতো না। ইমানী চেতনা কম ছিলো। মাঝে মাঝে ইমানী চেতনা আসতো। মাঝে মাঝে আমার মনে, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো।

বিবাহ সময়কালীন আমার ইমানের অবস্থা আমি তুলে ধরছি।
আমি শুধু শুক্রবারের নামাজ পড়তাম। আমি ইচ্ছে করে শুক্রবার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল শেষ করে তারপর আবার প্রস্রাব করে নামাজে যেতাম।

আমি জানতাম গোসল করে প্রস্রাব করলে ওজু থাকেনা। তবুও আমি এটা করতাম। একটি কারণ অলসতা আর দ্বিতীয় কারণ আমার মনে এই আল্লাহর ভয় আযাব এসব নিয়ে পরোয়া ছিলো না। আমি ইচ্ছে করে নামাজে বীর্য লাগা নাপাক কাপড় পড়ে যেতাম। আমি জানতাম এটা ঠিক না। কিন্তু আমি আল্লাহর আযাব এসব পরোয়া করতাম না। এমনকি আমি ফরজ গোসল বাকি থাকতেও ইচ্ছে করে কুরআন খুলে দেখতাম। মোবাইল টেপার সময় হঠাৎ আজন বেজে ওঠলে বিরক্তি প্রকাশ করতাম।

আমি ইচ্ছে করলেই ঐ সময়ে ঠিকভাবে ওজু করতে পারতাম এবং পাক কাপড় পরিধান করে নামাজে যেতে পারতাম।
যদিও আমি মাজুর ছিলাম। কিন্তু আমি জনতাম মাজুর হলে এক ওজু দিয়ে পুরো এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা যায়।
এমনকি বিয়ের পরদিন আমি আমার শ্বশুরবাড়ি গিয়েও লোক দেখানোর জন্য ওজু ছাড়া নাপাক শরীরে, নাপাক কাপড়ে মসজিদে যাই। ফরজ গোসল, ওজু, নাপাক কাপড় নিয়ে এইসব অন্যায় আমি জানতাম। কিন্তু আমার মনে আল্লাহর বিধান নিয়ে পরোয়া ছিল না।
অলসতা একটি কারণ ছিলো তবে আমি ইচ্ছে করলেই ওজু করে, ফরজ গোসল সেড়ে, পাক কাপড় পড়ে নামাজ পড়তে যেতে পারতাম। তবে অন্য কারণ আমি পাক পবিএতা নিয়ে পরোয়া করতাম না। ইবাদত কবুল হওয়া এইসব নিয়ে মাথাব্যথা ছিলো না। দ্বীনকে আমি পরোয়া করতাম না। মনে হতো এখন পাক পবিএতার বিধান না মানলে কিছু আসে যাবে না, ভবিষ্যতে পাক পবিএতার বিধান ঠিকভাবে মানবো। এখন এভাবেই নামাজ পড়বো। আমি তো লোক দেখানোর জন্যই নামাজ পড়ি। বিয়ের পরেও শ্বশুরবাড়িতে এমন করছি।
আমার মনে হতো আসলেই কি ইসলাম সত্যি ধর্ম?
এমন প্রশ্ন আসতো মনে। নাস্তিকরা ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করলে আমি মনে মনে মজা পেতাম। নবী (সা) বহুবিবাহ এটা মানতে আমার কষ্ট হতো। মাঝে মাঝে সন্দেহ হতো যে নবী (সা) নারীলোভী। নবীকে নিয়ে কটুক্তি করলে দেশে বিভিন্ন প্রতিবাদ হলে আমার মনে হতো, এই আলেমদের আর কোনো কাজ নাই।
অর্থ জানার পরেও বিভিন্ন শিরকি গান ইচ্ছে করে শুনতাম এবং গাইতাম। মানে দ্বীনকে আমি পরোয়া করিনি। ঐ সময়টাতে আমি দাড়িয়ে প্রস্রাব করতাম ইচ্ছে করে। নামাজে গিয়ে সূরা জানার পরেও ইচ্ছে করেই পাঠ করতাম না। মাঝে মাঝে শুক্রবারে হুজুরের কুরআন হাদিসের আলোচনা ও আমার বিরক্ত লাগতো। মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের দেখলেই রাগ হতো। বাড়ির কাছে মসজিদের মাইক থাকাতে মাঝে মাঝে আযানের তীব্র আওয়াজেও বিরক্ত লাগতো। তবে মাঝে মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা কাজ করতো।
আমার বিবাহ এমন অবস্থায় হয়েছিলো। বিবাহ সময়কালীন আমার ইমানের সার্বিক অবস্থা আমি তুলে ধরেছি।

আমি এখন ভাবছি আমি সম্পূর্ণভাবে তওবা করে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধান মেনে ইসলাম পালন করবো। আমি সত্যিকারভাবে ইসলামের পথে ফিরতে চাই।

আমার প্রশ্নঃ বিবাহের সময় আমার ইমানের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমার ঐ সময়ের বিবাহ কি সহীহ হবে নাকি পুনরায় ইমান এনে বিবাহ নবায়ন করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান মতে কোনো মুরতাদকে বিবাহ করা তার সাথে ঘর সংসার করা জায়েজ নেই।
,   
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الۡمُؤۡمِنٰتِ وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ مُحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ وَ لَا مُتَّخِذِیۡۤ اَخۡدَانٍ ؕ وَ مَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالۡاِیۡمَانِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُہٗ ۫ وَ ہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۵﴾

আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল যদি তোমরা তাদের মাহর প্রদান কর বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। আর কেউ ঈমানের সাথে কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(সুরা মায়েদা ০৫)
,
আল্লাহ তাআলা শিরক ও কুফরি করে এমন নারী-পুরুষের সাথে মুসলমান নারী-পুরুষের বিবাহ হারাম করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آَيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

(তরজমা) তেমারা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিঃসন্দেহে একজন মুমিন দাসী যে কোনো মুশরিক নারীর চেয়ে অনেক উত্তম। যদিও এই মুশরিক নারীকে তোমাদের বেশি ভালো লাগে। আর তোমরা (তোমাদের নারীদের) মুশরিক পুরুষদের কাছে বিয়ে দিয়ো না। যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিঃসন্দেহে একজন মুমিন দাস যে কোনো মুশরিক পুরুষের চেয়ে অনেক উত্তম। যদিও সেই মুশরিক পুরুষকে তোমাদের বেশি ভালো লাগে। কারণ তারা (মুশরিকরা) সকলে তো জাহান্নামের দিকে ডাকে আর আল্লাহ তার বিধানের মাধ্যমে জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে আহবান করেন। তিনি তার আয়াতসমূহ মানুষের উপকারার্থে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তা অনুসরণ করতে পারে।-সূরা বাকারা (২) : ২২১

অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ.. وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ

 (তরজমা) হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের নিকট ঈমানদার নারীগণ হিজরত করে আসে তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা কর। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত তাদের ঈমানের ব্যাপারে। এরপর তোমরা যদি জানতে পার, তারা (হিজরত করে আসা নারীগণ) মুমিন তাহলে তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিও না। তারা (মুমিন নারীগণ) কাফেরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফেরগণও তাদের (মুমিন নারীদের) জন্য বৈধ নয় ... । আর তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না।-সূরা মুমতাহিনা (৬০)  : ১০

উক্ত আয়াতদ্বয় দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো মুসলিম নারী কোনো অমুসলিম পুরুষের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। অনুরূপভাবে কোনো মুসলিম ব্যক্তি কোনো কাফের, মুশরিক নারীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে পারে না। অর্থাৎ মুসলিম-অমুসলিমের কোনো বিবাহ বৈধ হতে পারে না।
শুধু বিবাহ-শাদি নয়, কাফির-মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব, প্রেম-ও ভালবাসায় জড়িয়ে পড়া এবং যে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্থাপনকেও আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন এবং তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। 

ইরশাদ করেছেন-

لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ   أُولَئِكَ  كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ

 (তরজমা) যে জাতি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে তাদের আপনি কখনো দেখবেন না ওই সব লোকদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে মোকাবেলারত। হোক তারা তাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বেরাদর কিংবা আত্মীয়-স্বজন, ওদের অন্তরে আল্লাহ ঈমানকে বদ্ধমূল করেছেন এবং তাদেরকে তার রূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।-সূরা মুজাদালা (৫৮) : ২২

তাই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর কর্তব্য, বিবাহ-শাদি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টিসহ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মান্য করা, তার বিধানের অনুসরণ করা। এটাই মুসলমানিত্বের প্রকৃত অর্থ, যথার্থ দাবি।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনাকে তওবা করে ঈমান নবায়ন করে বিবাহ নবায়ন করতে হবে। 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...