আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
170 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (32 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ মোহতারাম
আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। ৬ মাস পর ইনশাআল্লাহ ডাক্তার হয়ে বের হবো।আমি প্রাকটিসিং মুসলিমাহ।কঠোরভাবেই পর্দা করারা চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ। এবং একজন প্রাকটিসিং মুসলিম ছেলেকেই বিয়ে করতে চাই। আমার একটা বিয়ের প্রস্তাব আসছে ছেলে পুলিশের এসআই।কিন্তু  দ্বীনদার  মাশাল্লাহ। ওনার ট্রেনিং চলে তাই মসজিদে নামাজ পড়তে পারে না রুমে রুমমেটদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ে।আর বললো আসর নামাজ মাঝে মাঝে কাজা যায় ওই সময় না কি প্যারোড থাকে তাই।দ্বীনি জ্ঞান ভালোই আছে বলে মনে হলো।ওনাদের আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থা সবকিছুই আমাদের থেকে অনেক ভালো। কিন্তু আমার আব্বা তার ডাক্তার মেয়ের জন্য পুলিশের এসআই পছন্দ করছে না।ওনার চাওয়া আরও বেশি।আর আমারও এই পেশাটা নিয়ে মনে খুত খুত লাগে। ইস্তিখারা করতেছি। সবকিছুই পজিটিভ মনে হয় যখন পেশার কথা ভাবি তখন মনে হয় না এই পেশা আমার সাথে যায় না।আল্লাহুমাগফিরলি।ওই দিকে ছেলের পরিবার খুব করে চাচ্ছেন এই প্রস্তাবটা জেনো আগায়।ওনারা আমার শুধু বায়োডাটা দেখেছেন। তাতেই তিনি খুব আগ্রহী।আমার  বোনের মাধ্যমে অনেকগুলো প্রশ্ন করেছিলাম  সেগুলো খুব গায়রত এর সাথে উত্তর দিয়েছে।  উত্তরগুলো দেখে বুঝলাম ইসলাম সম্পর্কে ভালোই জ্ঞান আছে। সবদিক বিবেচনা করে একটু পরামর্শ দিন উস্তাদ। আমার কি এই প্রস্তাবটা নিয়ে আগানো উচিত?

২,আব্বা খোজ খবর নিবে বলছে,খোজখবর নিয়ে যদি ওনার তথ্য গুলো সঠিক হয়।তাহলে শুধু পেশার জন্য কি প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দেওয়া  উচিত হবে?

৩,শুধু পেশা ছাড়া বাকি সব উনি যেরকম বলছে তা আমার ধ্যান ধারনার সাথে মিলে।কিন্তু পেশাটা আমার সাথে কেউই পছন্দ করবে না।কারণ আমাদের বংশে আমিই প্রথম ডাক্তারি পড়তেছি।তাই সবাই ধরেই নিয়েছে আমার বিয়ে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ারের সাথে হবে।অথচ আমাদের আর্থিক অবস্থা অস্বচ্ছল। এখন সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত না কি এই প্রস্তাব নিয়ে ভাবা উচিত?তাছাড়া এসব পেশায় দ্বীন এর উপর থাকা খুবই কঠিন, আমার মনে হয়। সময় মতো নামাজ পড়া যায় কি না কে জানে।আরও কত বিষয় আছে।
দয়া করে আপনাদের মতামত দিলে মুনাসিব হয়।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
বিবাহের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কুফু মিলাইতে বলেছেন।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
 
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدَّيْنِ تَرِبَتْ يَدَاكَ»

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মূলত) চারটি গুণের কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়- নারীর ধন-সম্পদ, অথবা বংশ-মর্যাদা, অথবা রূপ-সৌন্দর্য, অথবা তার ধর্মভীরুর কারণে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) সুতরাং ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)!
(সহীহ বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাঊদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, আহমাদ ৯৫২১, ইরওয়া ১৭৮৩, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৩।)

কুফু সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ  https://www.ifatwa.info/4541/

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
রাসুলুল্লাহ সাঃ উক্ত হাদীসে বলেছেনঃ
তোমরা ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)।
,
সুতরাং প্রশ্নের বিবরন ছেলেটি যেহেতু দ্বীনদার,তাই আপনি এই প্রস্তাবটা নিয়ে আগাতে পারেন।

(০২)
না,উচিত হবেনা।

(০৩)
এক্ষেত্রে পরামর্শ হলো পাত্র যদি আপনাকে তার বাসায় পরিপূর্ণভাবে শরীয়ত মেনে চলা, পূর্ণভাবে পর্দা করার সুযোগ করে দিতে পারে, পাশাপাশি পাত্র যদি ঘুষ থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাহলে পাত্র যেহেতু দ্বীনদার আর সব কিছু যেহেতু পজিটিভ আসছে, পরিবারক যেহেতু এক্ষেত্রে রাজি, এমতাবস্থায় পাত্রকে আপনার পছন্দ হলে এক্ষেত্রে তার ব্যপারে রাজি হওয়াই ভালো বলে মনে করছি।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...