আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
25 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (29 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি আমার জীবনের কিছু হিসাব মিলাতে পারছি না। আপনাদের সাহায্য কামনা করছি।
আমার ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর জানতে পারি যে আমার থেকে অনেক কিছু লুকানো হয়েছে। যেমন: আমার স্বামীর নেশায় আসক্ত থাকা, রিহ্যাবে থাকা, বয়স। এগুলো জানার পরও আমি সব ঠিকঠাক করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসার করতে থাকি। বিয়ের ৩ বছর পর আমার একটি কন্যা সন্তান হয়। সন্তান গর্ভে আসার পর পর উনি আরও বদলে যান। আবার পুনোরায় নেশা করা, জুয়া খেলা, হুটহাট ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া এছাড়াও টানা সপ্তাহ একটানা ঘুমানো বা টানা সপ্তাহ জেগে জেগে মোবাইল চালানো। এত উশৃংখল জীবনের কারনে মাসের ২০ দিনই তিনি অসুস্থ থাকেন। আবার ডাক্তারও দেখান না ওষুধও খান না। কিছু বলতে গেলেই ঝগড়াঝাটি, কথা কাটাকাটি বা মাঝে মাঝে গায়ে হাত তুলেন। বিয়ের পর থেকেই আমাকে যৌথ পরিবারে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক বুঝিয়েও আলাদা হতে পারিনি। পর্দা মেনে চলতে পারিনি। নিজের স্বাধীন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারিনি। এখন স্বামীর এসব কিছু মিলিয়ে জীবন টা বিষ হয়ে গিয়েছে। এখন আর আমার কারো সেবা করতে মন চায় না। শশুড় ননদদের দেখাশোনা করতে মন চায় না। স্বামীর খেদমত করতে মন চায় না। তাদের কারো জন্য মায়া লাগে না। স্বামীর কোনো ইনকাম নেই। যার কারনে পরিবারে আমাকে অনেক নিচু হয়ে থাকতে হয়। কখনো কিছু মন চাইলেও করার সুযোগ হয়ে উঠে না। তাই আমি নিজে একটা মাদ্রাসায় ঢুকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে আমি পর্দার সাথে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে নিজের মেয়েকে নিয়ে বাচতে পারবো।
আমি এখন জানতে চাচ্ছি যে, এই যে আমার মন থেকে আমার শশুর ননদ ও স্বামীর জন্য মায়া উঠে গেছে। আমার যে এখন তাদের সেবা করতে মন চায় না। এখন আমি যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাদা থেকে অর্থ উপার্জন করি তাহলে কি সেটা জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (755,490 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কোনো পুরুষ ধোকা দিয়ে বিয়ে করলে, এক্ষেত্রে শরয়ী বিধান হলো
ﻟَﻮْ اﻧْﺘَﺴَﺐَ اﻟﺰَّﻭْﺝُ ﻟَﻬَﺎ ﻧَﺴَﺒًﺎ ﻏَﻴْﺮَ ﻧَﺴَﺒِﻪِ ﻓَﺈِﻥْ ﻇَﻬَﺮَ ﺩُﻭﻧَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻜُﻒْءٍ ﻓَﺤَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِﺛَﺎﺑِﺖٌ ﻟِﻠْﻜُﻞِّ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻛُﻔُﺆًا ﻓَﺤَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻟَﻬَﺎ ﺩُﻭﻥَ اﻷَْﻭْﻟِﻴَﺎءِ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻓَﻮْﻕَ ﻣَﺎ ﺃَﺧْﺒَﺮَ ﻓَﻼَ ﻓَﺴْﺦَ ﻷَِﺣَﺪٍ.............الي ان قال ............ ﻟَﻜِﻦْ ﻇَﻬَﺮَ ﻟِﻲ اﻵْﻥَ ﺃَﻥَّ ﺛُﺒُﻮﺕَ ﺣَﻖِّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻟَﻬَﺎ ﻟِﻠﺘَّﻐْﺮِﻳﺮِ ﻻَ ﻟِﻌَﺪَﻡِ اﻟْﻜَﻔَﺎءَﺓِ ﺑِﺪَﻟِﻴﻞِ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻮْ ﻇَﻬَﺮَ ﻛُﻔُﺆًا ﻳَﺜْﺒُﺖُ ﻟَﻬَﺎ ﺣَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻷَِﻧَّﻪُ ﻏَﺮَّﻫَﺎ، ﻭَﻻَ ﻳَﺜْﺒُﺖُ ﻟِﻷَْﻭْﻟِﻴَﺎءِ ﻷَِﻥَّ اﻟﺘَّﻐْﺮِﻳﺮَ ﻟَﻢْ ﻳَﺤْﺼُﻞْ ﻟَﻬُﻢْ،
যদি স্বামী নিজেকে নিজস্ব বাস্তব বংশ ব্যতীত ভিন্ন বংশের লোক বলে দাবী করে,এবং পরবর্তীতে এর চেয়ে নিম্নমানের বংশ প্রমাণিত হয়,তাহলে সে উক্ত মেয়ের কু'ফু হতে পারবে না,এবং মহিলা ও মহিলার অভিবাবক সকলের জন্যই বিবাহকে কাযীর মাধ্যমে ভঙ্গ করা অধিকার থাকবে।
কিন্তু যদি পরবর্তীতে এমন বংশ প্রমাণিত হয়,যা উক্ত মেয়ের কু'ফু অবশ্য হবে(কিন্তু সে প্রথমে বাড়িয়ে মিথ্যে বলেছিলো)তাহলে ও মহিলার বিবাহ ভঙ্গের অধিকার থাকবে।যদিও ওলীর থাকবে না।
আর যদি তার বর্ণনাকৃত বংশের চেয়েও পরবর্তীতে উচ্ছ বংশ প্রমাণিত হয় তাহলে কারো বিবাহ ভঙ্গের অধিকার থাকবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/25515


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনাকে ধোকা দেয়া হয়েছে, কাজেই আপনি তালাক চাইতে পারবেন। আপনার কোনো গোনাহ হবে না। আপনি যদি ধর্য্য সহকারে পরিস্থিতির মুকাবেলা করতে পারেন, তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো ও উত্তম। আপনি পৃথক থাকতে পারবেন। এবং পর্দাসম্সত চাকুরী করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...