আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
158 views
in সালাত(Prayer) by (8 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন

১)নামাজে সুরা তিলওয়াত করার ক্ষেত্রে সুরার সিরিয়াল ঠিক রাখা কি বাধ্যতামূলক?
যেমন সুরা ফীল পড়ার পরে সুরা কাওসার অথবা সুরা ইখলাস পড়লে কি নামাজ হবে?

২)সুরা ত্বীন পড়ার পরে সুরা আলাক না পড়ে কি অন্য কোনো সুরা পড়া যাবে? কারণ সুরা সুরা আলাকে সিজদার আয়াত আছে।

৩)সুরা মুলক দিয়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে অথবা অন্য কোনো বড় সুরা দিয়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে, ৪রাকাত নামাজে পুরো সুরা টা কিভাবে পড়বো? যেমন সুরা মুলক দিয়ে পড়লে,  প্রথমে রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা মুলক ১৫ আয়াত,  তারপর ২য় রাকাতে বাকি ১৫ আয়াত এভাবে পড়তে হবে? নাকি অল্পকিছু আয়াত পড়েও নামাজ শেষ করা যাবে যদি সুরা পুরো টা না পড়া হয়??

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

সুরা মুযযামিল এর ২০ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 
فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ ؕ
 তোমরা কুরআন হতে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পড়। 

কুরআনে সুরার যেভাবে তারতীব বা সিরিয়াল আছে তার উল্টো করা যাবে না,বরং প্রথম রাকাতে যে সূরা পড়বে,পরের রাকাতে তার পরবর্তী সূরা পড়বে। কিন্তু প্রথম রাকাতে এক সূরা পড়ে, পরের রাকাতে উক্ত সূরার আগের কোন সূরা পড়া, যেমন প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়া আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা হুমাজাহ পড়া মাকরূহ। কারণ এতে কুরআনের তারতীব পাল্টে দেয়া হচ্ছে। তাই প্রথমে এমন একটি সূরা দিয়ে শুরু করবে, যেন উক্ত সূরার পর পরের রাকাতে পড়ার মত কোন সূরা থাকে। তবে যদি ভুলে এমনটি করে তাহলে সমস্যা নেই।

এক সূরা পড়ার পর মাঝখানে এক সূরা বাদ দিয়ে পরের সূরা পড়া মাকরূহ্ তবে দুই সূরা বাদ দিয়ে পড়াতে কোন সমস্যা নেই।

যেমন, প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়ার পর, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কুরাইশ বাদ দিয়ে সূরা মা’ঊন পড়া মাকরূহ। কিন্তু সূরা কাউসার বা কাফিরূন বা এর পরের সূরাগুলো পড়াতে কোন সমস্যা নেই।

ويكره فصله بسورة بين سورتين قرأهما فى ركعتين لما فيه من شبهة التفضيل والهجر، (مراقى الفلاح على هامش الطحطاوى، فصل فى المكروهات-287، الدر المختار مع الشامى- 2/269)

কুরআনের কারীমের সূরার সিরিয়াল রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই সাহাবাগণ রাঃ পেয়েছেন। সুতরাং এতে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই।

فَقَالَ عُثْمَانُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا يَأْتِي عَلَيْهِ الزَّمَانُ وَهُوَ تَنْزِلُ عَلَيْهِ السُّوَرُ ذَوَاتُ الْعَدَدِ فَكَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الشَّىْءُ دَعَا بَعْضَ مَنْ كَانَ يَكْتُبُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَؤُلاَءِ الآيَاتِ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَإِذَا نَزَلَتْ عَلَيْهِ الآيَةُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا

উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর এমন এক যামানাও এসেছে যখন তাঁর উপর বহুসংখ্যক সূরা এক সঙ্গে নাযিল হয়েছে। ঐ যুগে তাঁর উপর কোন বিষয় নাযিল হলে ওয়াহী লেখকগণের কাউকে ডেকে তিনি বলতেন এ আয়াতগুলো যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে, সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর। কোন আয়াত নাযিল হলে বলতেন, এই আয়াতটি যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩০৮৫, মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-২৮৭৫, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হাদীস নং-৩০৫৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৯৯]

تَرْتِيبُ السُّوَرِ هَكَذَا هُوَ عِنْدَ اللَّهِ فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ عَلَى هَذَا التَّرْتِيبِ وَعَلَيْهِ كَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ عَلَى جِبْرِيلَ كُلَّ سَنَةٍ

সূরার তারতীব এমনি। এমনি আছে আল্লাহর কাছে লওহে মাহফূজে। আর এ তারতীবের সাথেই প্রতি বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে শুনাতেন। [আলইতকান ফী উলুমিল কুরআন লিসসুয়ূতী-১/২১৭]

বিস্তারিত জানুনঃ- 

নামাজে সুরার তরতিব ঠিক রাখতে হবে 
ইচ্ছাপূর্বক ভাবে তারতিবের খেলাফ পড়া মাকরুহ।
অনিচ্ছায় এমন হয়ে গেলে কোনো সমস্যা হবেনা।
নফল,সুন্নাত নামাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। 

বিস্তারিত জানুনঃ  

★তবে কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে ইচ্ছাপুর্বক ভাবেও তরতিবের খেলাফ হওয়াতে নামাজের কোনো সমস্যা হবেনা। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَتَيْنِ فَمَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَافْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . فَكَانَ قِيَامُهُ قَرِيبًا مِنْ رُكُوعِهِ ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ يَقُولُ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ رُكُوعِهِ .

হুসায়ন ইবনু মানসূর (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে মনে বললাম যে, হয়তো তিনি একশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন, আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি দু’শত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে রুকুতে যাবেন, কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি পূর্ণ সূরা এক রাকআতেই তিলাওয়াত করে ফেলবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকলেন এবং সূরা “নিসা” শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তারপর সূরা "আলে ইমরান" ও শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। যদি তিনি এমন কোন আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন যাতে কোন তাসবীহ রয়েছে তবে তাসবীহ পাঠ করতেন, যদি কোন যাঞ্ছা করার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন তবে যাঞ্ছা করতেন। যদি কোন বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন, তবে অশ্রেয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকু করতেন এবং বলতেন, "সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম" তার রুকু প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান হত। পরে তার মাথা উঠাতেন এবং বলতেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা"। তার দাঁড়ানো প্রায় তার রুকুর সমান হত। তারপর সিজদা করতেন এবং বলতেন, "সূবহানা রাব্বিয়াল আলা" তার সিজদা প্রায় তার রুকুরে সমান হত।

[সহীহ। সহীহ আবু দাউদ হাঃ ৮১৫, মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) হাঃ ১৬৯১]

আরো জানুনঃ- 

কুরআনের শেষ দিকের সুরা গুলো ক্রমানুসারে নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ-

সুরা ফিল, কুরাইশ, মাউন,কাফিরুন, কাউসার,নাসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক, নাস।

এক সূরা পড়ার পর মাঝখানে এক সূরা বাদ দিয়ে পরের সূরা পড়া মাকরূহ্ তবে দুই সূরা বাদ দিয়ে পড়াতে কোন সমস্যা নেই।

যেমন, প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়ার পর, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কুরাইশ বাদ দিয়ে সূরা মা’ঊন পড়া মাকরূহ। কিন্তু সূরা কাউসার বা কাফিরূন বা এর পরের সূরাগুলো পড়াতে কোন সমস্যা নেই।

তবে ভুলে এমন হলে সমস্যা নেই।

ويكره فصله بسورة بين سورتين قرأهما فى ركعتين لما فيه من شبهة التفضيل والهجر، (مراقى الفلاح على هامش الطحطاوى، فصل فى المكروهات-287، الدر المختار مع الشامى- 2/269)
যার সারমর্ম হলো দুই সূরার মাঝখানে এক সূরা বাদ দিয়ে পরের সূরা পড়া মাকরূহ্।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,   
(০১)
নামাজে সুরা তিলাওয়াত করার ক্ষেত্রে সুরার সিরিয়াল ঠিক রাখা উচিত।
ইচ্ছাপূর্বক ভাবে তারতিবের খেলাফ পড়া মাকরুহ।
অনিচ্ছায় এমন হয়ে গেলে কোনো সমস্যা হবেনা।

যেমন সুরা ফীল পড়ার পরে সুরা কাওসার অথবা সুরা ইখলাস পড়লেও নামাজ হবে।

তবে প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়ার পর দ্বিতীয় রাকাতে যদি সুরা কাওসার পড়া হয়, তাহলে এক্ষেত্রে যেহেতু মাঝে একটি সূরা থাকতেছে,অর্থাৎ সূরা মাউন, তাই এমতাবস্থায় এভাবে তেলাওয়াত মাকরূহ হবে।

যদি পরের রাকাতে পরবর্তী সুরা না পড়ে অন্য সুরা পড়া হয়,তাহলে মাঝে কমপক্ষে দুইটি সূরার দূরত্ব বজায় রেখে তিলাওয়াত করতে হবে, অথবা চাইলে পরের রাকাতে পরের সুরা পড়তে হবে।

উল্লেখ্য, নফল,সুন্নাত নামাজের ক্ষেত্রে এটি কোনো সমস্যাকর নয়। 

(০২)
সুরা ত্বীন পড়ার পরে সুরা আলাক না পড়ে পরবর্তী অন্য যেকোনো সুরা পড়া যাবে।

(০৩)
অল্পকিছু আয়াত পড়েও নামাজ শেষ করা যাবে, যদিও সুরা পুরো টা না পড়া হয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 955 views
...